‘আওয়ামী লীগ আবার আসলে বিকেন্দ্রীকরণ হবে’

২৬ আগস্ট ২০১৩, ১১ ভাদ্র ১৪২০
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কখনো শান্তিপূর্ণভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা পরিবর্তনে বিশ্বাস করেন না এবং তিনি সব সময় দেশে বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে চান। তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলীয় নেতা শান্তিপূর্ণভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তরে বিশ্বাসী নন। তিনি অতীতেও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন এবং এখনো একের পর এক সমস্যা সৃষ্টি করে চলেছেন।’ প্রধানমন্ত্রী আজ বিকেলে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে ৬১টি জেলা পরিষদ প্রশাসকদের সংগে মতবিনিময় সভার উদ্বোধনী বক্তৃতায় একথা বলেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর কেবল বিগত আওয়ামী লীগ সরকারই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে পেরেছে।

২০০১ সালে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের দৃষ্টান্ত কেবল আওয়ামী লীগেরই রয়েছে।শেখ হাসিনা পুনরায় উল্লেখ করেন যে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের গণতান্ত্রিক দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে সংবিধান অনুযায়ী আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রমাণ করেছি আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে দেশে অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত সাড়ে চার বছরে বর্তমান সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের উপ-নির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ সকল নির্বাচনই অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘আমরা নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করেছি।’শেখ হাসিনা আরো উল্লেখ করেন যে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে। তিনি দৃঢ় কন্ঠে বলেন, কেবল আওয়ামী লীগেরই অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাহস ও শক্তি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘তবে এই সাহস ও শক্তি কেবল আমাদেরই রয়েছে, অন্য কারো নেই।

শেখ হাসিনা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ৫টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সম্পর্কে মিথ্যাচার করার জন্য বিরোধী দলের সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘এসব নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ না হলে বিরোধী দলের প্রার্থীরা কিভাবে বিজয়ী হলেন?’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে তাঁর সরকার ক্ষমতায় এলে কেন্দ্রে হয়তো বাজেটের পরিকল্পনা ও মনিটরিং থাকবে; বাকি সব স্থানীয় সরকারের হাতে দেওয়া হবে। অর্থাত্, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ হবে। শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় গেলে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে এবং স্থানীয় সরকারের হাতে আরও ক্ষমতা দেওয়া হবে। শেখ হাসিনা বলেন, দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে ক্ষমতার এ বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক উন্নয়ন নয়, বরং সুষম উন্নয়নে বিশ্বাসী। আমরা হিসাব করেছি কোন কোন জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় নেই, সেখানে আগামী দিনে বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে। শুধু সরকারি নয়, বেসরকারিভাবেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হবে।’
এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, পাটমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রমুখ।

সূত্র: বিভিন্ন গণমাধ্যম।২৫.৮.২০১৩

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *