আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক বিজয়

দলীয় প্রতীকে দেশে প্রথম পৌরসভা নির্বাচন
প্রথমবার দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ বিপুল জয় পেয়েছে। উল্লেখযোগ্য সংঘাত ছাড়াই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ২৩৪টি পৌরসভার মধ্যে একমাত্র মাধবদীর ভোট বাতিল করা হয়। ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
বেসরকারিভাবে ২৩৪ পৌরসভার মধ্যে ২২৭টি মেয়র পদের ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা নৌকা প্রতীকে ১৭৭টি পৌরসভায় বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২২টি পৌরসভায় বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়াও লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টি-জাপার ১ জন, আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী ১৬, বিএনপি বিদ্রোহী ২ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ৯ জন জয়লাভ করেন। এর আগে ৭ মেয়র, ৯৪ সাধারণ কাউন্সিলর ও ৪০ সংরক্ষিত কাউন্সিলরসহ মোট ১৪১ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন।
নির্বাচনে ২০টি রাজনৈতিক ও স্বতন্ত্রসহ ৯৪৫ মেয়র প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ২৩৪ জন, বিএনপি ২২৩ জন, জাতীয় পার্টি-জাপা ৭৪ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি ৬ জনসহ অন্যান্য দলের মোট ৬৬০ প্রার্থী অংশগ্রহণ করে। তবে ২০ দলের মধ্যে মাত্র ৩টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছে। বাকি ১৭টি দলের কোনো প্রার্থী জয়ী হতে পারেন নি। নির্বাচনে ২৮৫ জন স্বতন্ত্র অংশ নেন। এ ছাড়াও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৮ হাজার ৭৪৬ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ২ হাজার ৪৮০ প্রার্থী অংশ নেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১ লাখ ১৭ হাজার ৩০৪ সদস্য মোতায়েন করা ছিল। ২৩৪টি পৌরসভার মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৬৫টি, চট্টগ্রামে ৩৭টি, খুলনায় ২৯টি, রাজশাহীতে ৫০টি, বরিশালে ১৭টি, সিলেটে ১৬টি এবং রংপুরে ২০টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
ভোট পেয়েছে আওয়ামী লীগ ৫২, বিএনপি ২৮ শতাংশ
স্থানীয় সরকারে প্রথমবারের মতো আয়োজিত দলীয় নির্বাচনে ১৯৯ পৌরসভায় বাক্সে পড়া মোট ভোটের ৫২ শতাংশ পেয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এই হার নবম সংসদ নির্বাচনে দলটির অর্জনের চেয়ে ৪ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। সাত বছর পর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে লড়াইয়ে বিএনপি পেয়েছে বাক্সে পড়া মোট ভোটের ২৮ শতাংশ। নবম সংসদের তুলনায় এই হার ৪ শতাংশ পয়েন্ট কম। ইসিতে আসা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের চূড়ান্ত ফল বিবরণী বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে এই তথ্য।
গত ৩০ ডিসেম্বর ২৩৪ পৌরসভায় যে নির্বাচন হয়েছে, তার মধ্যে ফল ঘোষণা হয়েছে ২২৭টির। মেয়র পদে আওয়ামী লীগের ১৭৭ জন ও বিএনপির ২২ জন বিজয়ী হয়েছেন। ভোট পড়েছে ৭৩ দশমিক ৯২ শতাংশ।
বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দলীয় প্রতীক নিয়ে সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল নবম সংসদ নির্বাচনে। ২০০৮ সালের ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বাক্সে পড়া মোট ভোটের ৪৮ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ এবং বিএনপি ৩২ দশমিক ৫০ শতাংশ পায়।
জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে এবারের পৌর নির্বাচনে মোট ভোটসংখ্যা অনেক কম হলেও ভোটের হারের বিবেচনায় দুই দলের ক্ষেত্রেই ৪ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধান হওয়াকে আওয়ামী লীগের ভোট ভিত্তি  বাড়ার নির্দেশক বলে মনে করছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিপপ-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ। অবশ্য ‘নৈরাজ্যবাদ ছেড়ে’ ভোটে আসায় বিএনপি পৌর নির্বাচনে ‘পরাজিত হয়েও জিতেছে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। ‘প্রতীক থাকায় এ ফলাফলের গুরুত্ব অনেক। তথাকথিত ভোট ব্যাংকের বিষয়টি এখন আর বিবেচনায় নেই। কে কয়টি পৌরসভায় জিতেছে, তাও জনপ্রিয়তার একটা নিয়ামক ধরতে হবে। ক্ষমতাসীনরা তা ধরে রেখেছে, বিএনপি পরাজিত হলেও নিয়মতান্ত্রিক ধারায় ফেরার চেষ্টা করছে’, বলেন তিনি।
কলিমুল্লাহর বিচারে, এবারের ভোট ৯৮ শতাংশ ‘সুষ্ঠু’ হয়েছে। ইসির হাতে আসা ১৯৯টি পৌরসভার ফল বিবরণী বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসব পৌরসভায় মোট ভোট দিয়েছেন ৪২ লাখ ৭৩ হাজারের মতো ভোটার।
এর মধ্যে ১৯৯ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা পেয়েছেন ২২ লাখ ৪ হাজার ৯ ভোট। আর বিএনপির প্রার্থীরা ১২ লাখ ৩ হাজার ২৫৯ ভোট ভোট পেয়েছেন।

কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের বিপুল বিজয়
পৌরসভা নির্বাচনে সাধারণ ও সংরক্ষিত (নারী) কাউন্সিলর পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা বিপুল বিজয় পেয়েছেন। ২৩৪টির মধ্যে ৮৯টি পৌরসভার প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৫৬৯ আওয়ামী লীগ নেতা এবং সংরক্ষিত (নারী) কাউন্সিলর পদে ১৬২ আওয়ামী লীগ নেত্রী জয় পেয়েছেন। বিপরীতে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২০৫ বিএনপি নেতা এবং সংরক্ষিত (নারী) কাউন্সিলর পদে ২৯ বিএনপি নেত্রী জয় পেয়েছেন। ৮৯টি পৌরসভায় বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা সাধারণ কাউন্সিলরের ৩৬৪টি পদ বেশি পেয়েছেন। বিএনপির চেয়ে সংরক্ষিত (নারী) কাউন্সিলরের ১২৯টি পদ বেশি পেয়েছেন আওয়ামী লীগের নেত্রীরা। জাতীয় পার্টি ১৪টি সাধারণ কাউন্সিলর পদে জয় পেয়েছে। সংরক্ষিত (নারী) কাউন্সিলরের একটি পদে জয় পেয়েছে দলটি। সাধারণ কাউন্সিলরের ৫৯টি পদে জামাতের প্রার্থীসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। তবে সংরক্ষিত (নারী) কাউন্সিলর পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৩৮টিতে জয় পেয়েছেন। কয়েকটি পৌরসভায় কাউন্সিলর পদে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। সাধারণ কাউন্সিলর পদে অন্তত ৩০টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা সবগুলো পদে জয় পেয়েছেন। ৮৯টি পৌরসভার মধ্যে প্রায় ৪০টি পৌরসভায় সব কয়টি সংরক্ষিত (নারী) কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন।

আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ে সন্তোষ প্রধানমন্ত্রীর
পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ে সন্তোষ জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সরকারের বিপুল উন্নয়ন কর্মকা-ে আস্থা ও সমর্থন জানিয়ে এ রায় দিয়েছে। অভূতপূর্ব এই বিজয়ে দল ও সরকারের দায়িত্ব আরও বেড়ে  গেল। উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে জনগণের এই বিশাল প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে গণভবনে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠককালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা একই সঙ্গে পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হওয়ায় নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। দলের বিজয় নিশ্চিত করতে দলীয় নেতাদের ভূমিকার প্রশংসার পাশাপাশি তাদের মিষ্টিমুখও করান প্রধানমন্ত্রী।

মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বক্তব্যেই বিএনপির ভরাডুবি
ফল প্রত্যাখ্যানের জবাবে আওয়ামী লীগ
আওয়ামী লীগ বলেছে, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বিজয়ের মাসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বক্তব্য দেওয়ায় পৌরসভা নির্বাচনে জনগণ বিএনপির বিপক্ষে রায় দিয়েছে। আর ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি জনরায়কেই অপমান করেছে। গণরায়কে স্বাগত জানিয়ে ফলাফল মেনে নেওয়ার জন্য বিএনপির প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
গত ৩১ ডিসেম্বর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি এসব কথা বলেন। হানিফ আরও বলেন, দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বৈধতা দিয়েছে। কারণ তারা এতদিন সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে মানতো না। তা ছাড়া বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে যে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব সেটি আবারও প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া আন্দোলনের নামে পেট্রলবোমায় পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছেন। সেটা জনগণ ভালোভাবে নেয়নি। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন বিজয়ের মাসে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি নিজেকে ‘পাকিস্তান প্রেমিক’ হিসেবে প্রমাণ করেছেন। এই ফলাফলের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে পাকিস্তানের ভাবধারার এবং সন্ত্রাস সর্বস্ব বিএনপির রাজনীতি এদেশের মানুষ মেনে নেবে না।
নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগকে মিথ্যাচার হিসেবে আখ্যায়িত করে হানিফ বলেন, কিছু কিছু জায়গায় আমাদের দলের প্রার্থীরা মাত্র ১৩-১৪ ভোটে হেরেছেন। কারচুপি হলে আমাদের প্রার্থীরা এভাবে হারত না। কিন্তু আওয়ামী লীগ জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ফল যা হয়েছে, তা-ই মেনে নিয়েছে। তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফখরুলের সমালোচনা করে বলেন, নির্বাচন নিয়ে তার কথা শুনে মনে হয়েছে, তিনি ভিন্ন কোনো জগৎ থেকে এসেছেন। নির্বাচনে এর চেয়ে বেশি সহিংসতাও দেখা যায়। পৌরসভা নির্বাচনের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে বলে দলটির অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে হানিফ বলেন, বিএনপি একটি মেরুদ- ভাঙা দল। সন্ত্রাসী কর্মকা-ের কারণে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে তারা। তাই নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করার মতো সাংগঠনিক শক্তি তাদের নেই। হানিফ বলেন, তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থী বাছাইয়ে আমরা স্বল্প সময় পেয়েছি। এত স্বল্প সময়ের মধ্যে তৃণমূল থেকে সঠিক প্রার্থী বাছাই করা দুরূহ কাজ ছিল। তারপরও দ্রুত সময়ের মধ্যে যে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছি তার ৯০ শতাংশ প্রার্থী সঠিক ছিল। হয়ত ১০ শতাংশ প্রার্থীর মধ্যে দুর্বলতা ছিল। সে কারণে  কোথাও কোথাও বিদ্রোহী প্রার্থী জিতেছে।
গোটা পৌর নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি : ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের দাবি
গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে বেশ কিছু অনিয়ম ও সহিংসতা হয়েছে বটে, তবে তাতে পুরো নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি। এই মূল্যায়ন ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইডব্লিউজি)। ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর জাতীয় প্রেসকাবে সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থাটির পরিচালক আবদুল আলিম এই মত তুলে ধরেন। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ২৩৪টির মধ্যে ১১১টি পৌরসভার নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে। তাদের পর্যবেক্ষক ছিল ১ হাজার ১৯৮টি কেন্দ্র। পর্যবেক্ষণের প্রাথমিক খসড়ার ভিত্তিতে তারা বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেছে। ইডব্লিউজি জানায়, সারাদেশের ২৩৪টি পৌরসভায় মোট ৩ হাজার ৫৫৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১ হাজার ১৯৮টি কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করে তারা। এই কেন্দ্রগুলোর ১২ শতাংশ কেন্দ্রে বিএনপির পোলিং এজেন্ট উপস্থিত ছিল না। আবার ২ শতাংশ কেন্দ্রে উপস্থিত ছিল না আওয়ামী লীগের পোলিং এজেন্ট। সংস্থাটির পরিচালক আবদুল হালিম জানান, তাদের পর্যবেক্ষণ করা কেন্দ্রে সকাল ১০টায় ভোটের হার ছিল ২২ শতাংশ। দুপুর ১টায় ৫২ শতাংশ। বিকেল ৩টায় ৬৬ শতাংশ। চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণে এই হার দাঁড়ায় ৭২ শতাংশ।
সংস্থার পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, পৌর নির্বাচনে বেশ কিছু কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছে। আবার অনেক কেন্দ্রে ভালো নির্বাচনও হয়েছে। আর সহিংসতার ঘটনাগুলো সার্বিক নির্বাচনের চেহারা পাল্টে দেয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *