আজকের শিক্ষার্থীরাই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়বে

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকীতে শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের আহবানে ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে ৭১ সালে বন্দরে হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধস্থল সমরক্ষেত্র’৭১ মাঠ প্রকম্পিত করেছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থী। এসময় তারা এমপি সেলিম ওসমানের সাথে শপথ গ্রহণ করে বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আগামী দিনে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাবো। সারা বিশ্ববাসীকে জানান দিবো বাংলাদেশ মানে বঙ্গবন্ধু। হায়েনারা একজন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে কিন্তু ১৬ কোটি বাঙালীর কাছে বঙ্গবন্ধু চীর অমর। একই ভাবে এমপি সেলিম ওসমানের সাথে স্লোগান সহ শপথ গ্রহণ করেছেন নারায়ণগঞ্জ  কলেজের আরো প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থী। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বন্দর সমরক্ষেত্র মাঠে এমপি সেলিম ওসমানের আর্থিক সহযোগীতায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং দুপুরে নারায়ণগঞ্জ কলেজের উদ্যোগে কলেজ প্রাঙ্গনে বঙ্গবন্ধুর ৪২তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় শপথ গ্রহণ করেছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরা। একই সাথে বন্দর সমরক্ষেত্র মাঠে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত ক্বেরাত প্রতিযোগীর বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও যুব ঋণ প্রদান করা হয়।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এমপি সেলিম ওসমান বলেন, আমি বার বার তোমাদের কাছে তোমাদের মাঝে ছুটে আসি। তোমাদের কাছে আমার একটাই চাওয়া। আগামী দিনে তোমাদের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও অনুপ্রেরনায় ২০৪১ সালের মধ্যে তোমরাই গড়বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, তোমরাই নিজেদের কখনই নোংরা রাজনীতির সাথে জড়াবে না। আগে তোমরা নিজেদের যোগ্যতা সম্পন্ন হিসেবে গড়ে তুলবে। তারপর তোমরা রাজনীতি করবে আর তোমাদের রাজনীতি একটাই হবে উন্নয়নের রাজনীতি।

নারায়ণগঞ্জ কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সেলিম ওসমান বলেন, পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়েছে নারায়ণগঞ্জ কলেজের ফলাফল আগের থেকেও খারাপ হয়েছে। কিন্তু আমি বলবো তোমরা ফলাফল খারাপ করোনি। শুধু জিপিএ-৫ পেলেই ভাল ফলাফল হয়না। পুথিঁগত বিদ্যা আর মুখস্ত বিদ্যায় জিপিএ-৫ পাওয়া মানে প্রকৃত শিক্ষার্জন আর শিক্ষিত হওয়া নয়। জ্ঞান অর্জন করাই হচ্ছে প্রকৃত শিক্ষা। আমি তোমাদের কাছে প্রত্যাশা রাখবো অতীতের মত ভবিষ্যতেও তোমরা তোমাদের কলেজের জন্য গৌরব অর্জন করবে। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ কলেজকে দেশের শ্রেষ্ঠ কলেজ হিসেবে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরবে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে কলেজে নির্মাণাধীন নতুন ভবনে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে পারবে বলে শিক্ষার্থীদের প্রতিশ্রুতি ত দিয়ে নিজের বক্তব্য শেষ করেন এমপি সেলিম ওসমান।

বন্দরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী হাবিবের সভাপতিত্ব ও মহানগর জাতীয় পার্টি সদস্য সচিব আকরাম আলী শাহীন এর সঞ্চালনায় আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম.এ.রশিদ, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের।

উপস্থিত ছিলেন বন্দর থানার ওসি আবুল কালাম, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলী, মহানগর জাতীয় পার্টি আহবায়ক সানা উল্লাহ সানু, জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহবায়ক আজিজুল হক, আফজাল হোসেন, বন্দর থানা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রোটারিয়ান গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী, মহানগর শ্রমিক পার্টির আহবায়ক আবুল খায়ের ভূইয়া, মদনপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক গোলাপ হোসেন, বন্দর থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খান মাসুদ, গোগনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওশেদ আলী, ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদ আহম্মেদ, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম.এ সালাম, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা। এছাড়াও তিনি কোরআন তেলোয়তে বিজয়ীপ্রতিযোগীতায় প্রথম বিজয়ীকে পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হবে ১০ লাখ টাকা, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বিজয়ীদের জন্য পুরস্কার হিসেবে থাকবে যথাক্রমে ৭লাখ ৫০ হাজার ও ৫লাখ টাকা। সেই সাথে উক্ত রচনা প্রতিযোগীতায় গতানুগতিক নিয়মের প্রথা ভেঙ্গে ভিন্নতা এনেছেন এমপি সেলিম ওসমান। বিজয়ীদের পুরস্কৃত করার পাশাপাশি বিজয়ী প্রতিযোগীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেও একই পরিমানের আর্থিক পুরস্কার প্রদান করে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহযোগীতা করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় আগামী মাসেই উক্ত রচনা প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হবে এবং আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিন সেলিম ওসমানের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে পুরস্কার গুলো প্রদান করা হবে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় নারায়ণগঞ্জ কলেজ প্রাঙ্গনে প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর ৪২তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেলিম ওসমান এ প্রতিযোগীতা আয়োজনের ঘোষণা দেন।

প্রসঙ্গত ইতিপূর্বে এমপি সেলিম ওসমান জেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় ‘মহান মাতৃভাষা ও নারায়ণগঞ্জের ভূমিকা’ এবং ‘একজন শেখ মুজিবের বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠা’ শীর্ষক পৃথক দুটি রচনা প্রতিযোগীতার আয়োজন করে ছিলেন। এছাড়াও তিনি ২০১৪ সালে ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধের পরবর্তী পাওয়া এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা’ বিষয়ের উপর নারায়ণগঞ্জ কলেজে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগীতার আয়োজন করে ছিলেন। প্রতিটি প্রতিযোগীতায় ৩জন করে বিজয়ীদের  পুরস্কার হিসেবে তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে যথাক্রমে ৫লাখ, ৩লাখ ও ২লাখ টাকা করে মোট ৩০ লাখ টাকা প্রদান করে ছিলেন।

এদিকে গত ৩১ জুলাই পুরান বন্দরে নাসিম ওসমান মডেল হাইস্কুলের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এমপি সেলিম ওসমানের ঘোষণা অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ক্বেরাত প্রতিযোগীতার আয়োজন করে বন্দর উপজেলা প্রশাসন। উক্ত ক্বেরাত প্রতিযোগীতা বন্দরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১১ জন শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্ধীতা করেন।

মঙ্গলবার ১৫ আগষ্ট সকালে বন্দর সমরক্ষেত্র মাঠে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় উক্ত প্রতিযোগীতার বিজয়ী ৪জন এবং অংশগ্রহণকারী আরো ৭জন সহ মোট ১১জনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

প্রতিযোগীতায় ৫১ দশমিক ৫০ পয়েন্ট পেয়ে যৌথ ভাবে নাগিনা জোহা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেনীর শিক্ষার্থী সিয়াম ও জামেয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার ৮ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান প্রথম স্থান অধিকার করেন। যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন মদনপুর রিয়াজুল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেনীর শিক্ষার্থী মারুফ হাসান ও বিশ্ব নবী(স:) ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার ৯ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী আবু হানিফ রাকিব।বিজয়ীদের প্রত্যেককে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী স্বর্ণের মেডেল গলায় পড়িয়ে দিয়ে পুরস্কৃত করেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।

বিজয়ী ৪জন প্রতিযোগীর পাশাপাশি প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণকারী বাকী ৭জন প্রতিযোগীর প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে পুরস্কার প্রদান করা হয়।ক্বেরাত প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের পাশাপাশি তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য উক্ত ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেও পুরস্কারের ১০ লাখ টাকা প্রদানের ঘোষণা দেন সেলিম ওসমান। উক্ত প্রতিযোগীতার সকল পুরস্কার তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রদান করা হয়।

দশ হাজার টাকা করে সম্মাননা পুরস্কার প্রাপ্ত বাকী প্রতিযোগীরা হলেন, বিএম ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান, হাজী ইব্রাহিম আলমচাঁন স্কুল এন্ড কলেজের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী আরফান ত্বসিন, মদনপুর রিয়াজুল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জাহিদ শিকদার, নবীগঞ্জ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ওমর ফারুক, বন্দর গালর্স স্কুল এন্ড কলেজের ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফাহমিদা, বন্দর ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রার্সার ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জুনায়েদ ইসলাম, নবীগঞ্জ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার ১০ম শ্রেনীর শিক্ষার্থ নেছার উদ্দিন সিফাত। মধ্যে স্বর্নপদক প্রদান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *