আবারও আগামী নির্বাচনে দলকে জয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে

উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সব অর্জন ও উন্নয়নমূলক কর্মকা- জনগণের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচার করতে তৃণমূল নেতাদের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, নৌকা বাংলার জনগণের মার্কা, গ্রামগঞ্জের মার্কা। নৌকায় ভোট দিয়ে দেশের মানুষ স্বাধীনতা ও ভাষার মর্যাদা পেয়েছে। নৌকা ছাড়া এ দেশের মানুষের উন্নতিও সম্ভব নয়। দেশের জনগণকে বোঝাতে হবে যখনই নৌকা ক্ষমতায় এসেছে তখনই দেশের উন্নতি ও অগ্রগতি হয়েছে। আর বিএনপি ক্ষমতায় এলেই তো জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও লুটপাট করবে। ক্ষমতায় থাকতে এরা সন্ত্রাস ছাড়া আর কিছু দিতেও পারে নি। ক্ষমতা উপভোগ করেছে। এরা ক্ষমতায় এলেই দেশকে পিছিয়ে নিয়ে যায়। এসব কথাও জনগণকে জানাতে হবে।
গত ২০ মে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন চত্বরে কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের পর প্রথম আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় সূচনা বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আগামী নির্বাচনে জয়ী হতে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত দলকে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের দুঃখী মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের আগ পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে যে পর্যন্ত না বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণের মাধ্যমে দুঃখী মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে। তাই একদিকে সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- প্রচার করতে হবে, অন্যদিকে বিএনপি কী করেছে তাদের সেসব অপকর্মগুলোও জনসমক্ষে তুলে ধরতে হবে।
দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কী পেলাম আর কী পেলাম না, সেটি বড় কথা নয়। দেশের মানুষকে কী দিতে পারলাম সেটিই সবচেয়ে বড় কথা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগকে কাজ করতে হবে। আগামী নির্বাচনে দলের উন্নয়নমূলক কর্মকা- তুলে ধরে দলের জন্য ভোট অর্জন করতে দলের সকল নেতাকর্মীকে প্রত্যেক ভোটারের কাছে পৌঁছতে হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশের যে উন্নয়ন অভিযাত্রা শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে ২০০৮ সালের পর আবার ২০১৫ সালে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে পারার কারণেই। কাজেই দেশের এ উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে হলে দলকে আবারও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আনতে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের একযোগে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে যেতে হবে।
নিজস্ব গ্রুপ ও দল ভারী করার স্বার্থে আবর্জনা দলে টেনে না আনার নির্দেশ দিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমার কাছে তথ্য আছে, দল ভারীর জন্য অন্য দল থেকে সুবিধাবাদীদের দলে টানা হচ্ছে, এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মনে রাখবেন, এরা দলে ঢোকে কমিশন খাওয়ার লোভে। দলে ঢুকে এরা এত বেশি শক্তিশালী হয়ে যায় যে এদের কনুয়ের গুঁতায় আমার দলের নিবেদিতরা টিকতে পারে না। ক্ষমতা ভোগের কোনো বস্তু নয়, ক্ষমতা দায়িত্ব পালনের। প্রতিটি ঘণ্টা, প্রতিটি মিনিট, প্রতিটি সেকেন্ড দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের কল্যাণে কাজ করে যেতে হবে। কোনো বিশ্রাম নেই। আর আগামীতে নৌকার প্রতীক যাদের দেব, সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার পক্ষে কাজ করতে হবে। কেউ অন্য কাউকে সমর্থন দেবেন না। আর সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সব জেলার নেতাকে বছরান্তে সাংগঠনিক রিপোর্ট দিতে হবে।
২২ ও ২৩ অক্টোবর জাতীয় সম্মেলনের সাত মাসের মাথায় অনুষ্ঠিত এ বিশেষ বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ ও জাতীয় পরিষদ সদস্য, দলীয় মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, জাতীয় সংসদ সদস্য, ৭৮টি সাংগঠনিক জেলা ও মহানগর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, দফতর ও উপ-দফতর, প্রচার ও প্রকাশনা, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা এবং তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদকরা সভায় যোগ দেন।
সব ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ শেষে বর্ধিত সভায় উদ্বোধনী বক্তৃতা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। বৈঠকের শুরুতেই শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন দলের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপির সঞ্চালনায় সূচনা বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী দলের গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র উন্মোচন এবং নিজের সদস্যপদ নবায়ন করেন। সদস্যপদ নবায়নের জন্য নির্ধারিত ফি ২০ টাকা হলেও শেখ হাসিনা ৫০০ টাকা দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শফিউল আলম ভূঁইয়া এবং সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ফারজানা বেগমকে সদস্য করার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়। এরপর দলের প্রতিটি সাংগঠনিক জেলার জন্য প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের দেওয়া ল্যাপটপ হস্তান্তর করেন শেখ হাসিনা। এরপর আট বিভাগের আট জেলার নেতাকে বর্ধিত সভায় বক্তব্য রাখার সুযোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। বর্ধিত সভায় আগত সব তৃণমূল নেতার হাতে একটি ব্যাগে দলের গঠনতন্ত্র, ঘোষণাপত্র ছাড়াও বর্তমান সরকারের উন্নয়ন-অগ্রগতি ও সফলতার বিবরণ সংবলিত একটি বুকলেট এবং বিএনপি-জামাত জোটের অগ্নিসন্ত্রাসের বিভিন্ন ভিডিও সিডি দেওয়া হয়।
এক ঘণ্টারও বেশি সময়ের সূচনা বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বিএনপির মধ্যে কোনো মানবতাবোধ নেই। এদের রাজনীতিই লুটে খাওয়া ও মানুষ পুড়িয়ে মারার রাজনীতি। বিএনপির সময় দুর্নীতিতে দেশ পাঁচবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানকে সুষ্ঠুভাবে চলতে দেয় নি তারা। কেবল দলীয়করণ ও দুর্নীতি করেছে। দলীয়করণ, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিই তাদের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় এলে আবারও দেশে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, দুর্নীতি-লুটপাট ফিরে আসবে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের দুঃশাসনের পাশাপাশি আন্দোলনের নামে ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে এ জোটের দেশব্যাপী সন্ত্রাস-নৈরাজ্য ও মানুষ পুড়িয়ে মারার বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, কীভাবে অত্যাচার-নির্যাতন তারা করেছে, সেগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরা উচিত।
তিনি বলেন, তারা (বিএনপি) ক্ষমতায় আসতে চায়! তারা ক্ষমতায় এলেই তো জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও লুটপাট করবে। ক্ষমতায় থাকতে এরা সন্ত্রাস ও দেশকে পিছিয়ে দেওয়া ছাড়া আর কিছু দিতেও পারে নি। ক্ষমতা এরা উপভোগ করেছে। তিনি বলেন, বেশ কয়েকবারই তো বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়ারাও ক্ষমতায় ছিলেন। তারা দেশের উন্নতি করতে পারেন নি কেন? আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই কেবল দেশের উন্নতি হয়Ñ এটাও তো বারবারই প্রমাণিত হয়েছে।
দলকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার জন্য তৃণমূল নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল এ দেশের প্রতিটি মানুষ অন্ন পাবে, আশ্রয় পাবে, উন্নত জীবন পাবে। আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটি নেতাকর্মীর দায়িত্ব হচ্ছে জাতির পিতার সে স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করা। তাই এ দেশের দুঃখী মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হওয়ার আগ পর্যন্ত এ সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে এবং জনগণকে সেই কাক্সিক্ষত জায়গায় পৌঁছানো অবধি দেশকে সঠিক রাস্তায় পরিচালিত করাই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য।
’৭৫-পরবর্তী সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি বলে তারা তিনবার ক্ষমতায় ছিল। জাতীয় পার্টি বলে তারা একবার ক্ষমতায় ছিল। তারা ক্ষমতায় থাকার কথা বলে; কিন্তু তারা ক্ষমতায় থাকতে দেশের কোনো উন্নতি হয়নি কেন? আওয়ামী লীগ যদি দেশের এত উন্নয়ন করতে পারে তবে তারা পারে নি কেন? তাদের উদ্দেশ্য হলো লুটপাট করে খাওয়া আর সম্পদের পাহাড় গড়া। তা না হলে ভাঙা সুটকেস আর ছেঁড়া গেঞ্জি ছাড়া যাদের ঘরে কিছুই ছিল না, তারা এত কোটি কোটি টাকা আর বিশাল লঞ্চবহরের মালিক হয় কীভাবে?
পাকিস্তানের আইয়ুব খানের মতোই জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে মুক্তিযুদ্ধ করাকে অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। তারা পাকিস্তানিদের তোষামোদ করে। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে।
জনগণের কল্যাণে আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকা- তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে হাজারও মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা করেছে। ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার কাজ চলছে। একটি পরিবার যদি ২০০ টাকা জমাতে পারে তা হলে সরকার তাকে আরও ২০০ টাকা দিচ্ছে, যাতে তার ৪০০ টাকা সঞ্চয় হয়। যাতে তারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে যেন কোনো অনিয়ম না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন ঘোষিত সাম্প্রতিক ভিশন-২০৩০ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রী একটি ভালো জিনিস শিখেছেন বহু যুগ পরে। এত যুগ পরে তাদের মাথায় এলো, তারা ভিশন-২০৩০ দিয়েছে। তবে বড় কথা হচ্ছে মানুষই মানুষের কাছে শেখে। তারা আওয়ামী লীগের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়েছে। নকল করে হয়তো পরীক্ষায় পাস করা যায়; কিন্তু দেশের জনগণের দায়িত্ব এটা বিবেচনা করার। প্রবাদে আছেÑ ‘চুরি বিদ্যা বড় বিদ্যা যদি না পড় ধরা’। তিনি বলেন, বিএনপি হত্যা ও সহিংসতার পথ ছেড়ে জাতির সামনে একটা বিষয় তুলে ধরেছে, তবুও ভালো। খালেদা জিয়াকে ধন্যবাদ যে এতদিন পরে হলেও ভিশন-২০৩০ এর মতো পরিকল্পনা ঘোষণা করতে পেরেছেন।

অনুপ্রবেশকারীরা দলের আবর্জনা
পরে সমাপনী বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুপ্রবেশকারীদের দলের আবর্জনা হিসেবে আখ্যা দিয়ে এদের দলের ঠাঁই না দেওয়ার নির্দেশ দেন। যারা দলে অনুপ্রবেশ ঘটাবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। পরে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ, গ্রুপিং, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সাথে নেতা-কর্মীদের দূরত্ব, দলের কিছু শীর্ষ নেতার বক্তব্যের নেতিবাচক প্রভাব, সহযোগী সংগঠনের সাথে সমন্বয়হীনতাসহ নানা অসংগতির কথা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন তৃণমূল নেতারা।
সূত্র জানায়, তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য শোনার পর সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সার্ভে করার কথা উল্লেখ করে বলেন, বহু জায়গায় আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন করেছে, নানা অপরাধ করেছে তাদের দলে নেওয়া হয়েছে। গ্রুপিং ভারী করার জন্য অনেকে তাদের দলে নিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, অনুপ্রবেশকারীরা দলে এসেছে কেন? ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরে যারা জ্বালাও-পোড়াও করেছে, তাদের অনেকেও দলে এসেছে। অনেকে দলের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে গেছে। শুধু তাই নয় দলে যোগদানের পর অনেকে আমাদের নেতা-কর্মীদের হত্যা পর্যন্ত করেছে।
এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু-কন্যা আরও বলেন, গ্রুপিংয়ের স্বার্থে, দল ভারী করার স্বার্থে এ সমস্ত আবর্জনা দলে স্থান দেওয়া যাবে না। ক্ষতিকর এসব অনুপ্রবেশকারীদের দলে ভেড়ানো নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, কার মাধ্যমে আসছে, এখানে নামটা না বলি। তারা যদি এ পথ না ছাড়েন তবে তারা কিন্তু নেতৃত্ব পাবেন না। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা করতালি ও হর্ষধ্বনির মাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান। মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সাথে নেতা-কর্মীদের দূরত্ব ঘুচিয়ে ফেলে সকলে মিলেমিশে কাজ করাও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূলে দলের মনোনয়ন নিয়ে জালিয়াতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়েও সবাইকে সতর্ক করেন। আগামী দিনে সংশ্লিষ্ট সবার স্বাক্ষরসহ তৃণমূল থেকে কেন্দ্রে পাঠানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী দিনে নির্বাচনে যাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে তার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরুর কথা উল্লেখ করে তিনি এ অভিযানকে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, জেলার নেতারা উপজেলায়, উপজেলার নেতারা ইউনিয়নে এবং ইউনিয়নের নেতারা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে যাবেন। এভাবে সদস্য সংগ্রহ করবেন।
আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারের উন্নয়ন, বিগত সময়ে বিএনপি-জামাতের আন্দোলনের সময়কার সহিংসতা, অন্যান্য সরকারের সাথে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরতে নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নে দলের নিজস্ব অফিস থাকতে হবে। তার তথ্য-প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টার দেওয়া ল্যাপটপ অফিসের কাজে ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, এসব ল্যাপটপকে ডাটাবেজ ও যোগাযোগের জন্য যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। সবার সাথে অনলাইনে যোগাযোগ করতে হবে।

আগামী নির্বাচনে বিজয়ের বিকল্প নেই
বর্ধিত সভায় উদ্বোধনী বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়ের বিকল্প নেই। আমাদের ভোটে জিততে হলে জনগণের সাথে ভালো আচরণ করার বিকল্প নেই। শেখ হাসিনার উন্নয়নকে মিনিংফুল করতে হবে। আর একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম এ বর্ধিত সভার মাধ্যমেই শুরু হলো।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগকে স্মার্ট, আধুনিক, সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামী নির্বাচন মোকাবেলা করতে হবে। আসুন ঐক্যবদ্ধ হয়ে আদর্শ ও বিশ্বাসের সমন্বয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাই, এ হোক আজকের শপথ। তিনি বলেন, রাজনীতির রোল মডেল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও উন্নয়নের রূপকার জননেত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা বিশ্বের ১০ জন শক্তিধর নেতার মধ্যে অন্যতম।
তৃণমূল নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের কাছে আমাদের কমিটমেন্ট আছে। উন্নয়ন করতে হবে। সেই উন্নয়ন যেন সঠিকভাবে হয়, সে জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের দায়িত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার তিন বছরে যে উন্নয়ন হয়েছে, অতীতে ২৮ বছরে কোনো সরকারই সে উন্নয়ন করতে পারে নি। তাই আগামী দিনে শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা প্রয়োজন। এ জন্য আমাদের জিততে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *