> আরও কমলো চালের দাম - বঙ্গবন্ধু শুধু একটি নাম

আরও কমলো চালের দাম

টানা দুই সপ্তাহ ধরে চালের দাম কমছে। গত সপ্তাহে শুধু মোটা চালের দাম কমলেও এই সপ্তাহে নতুন করে কমেছে সব ধরনের চালের দাম। খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি চিকন চালের (মিনিকেট ও নাজির) দাম কেজিতে কমেছে পাঁচ শতাংশের মতো। আর গত দুই সপ্তাহে মোটা চালের (স্বর্ণা, চায়না ও ইরি) দাম কমেছে কেজিতে ১১ টাকার মতো। এ প্রসঙ্গে মানিকনগর এলাকার চাল ব্যবসায়ী মোবারক উদ্দিন বলেন, গত দুই সপ্তাহ আগে মোটা চালের কেজি ৫৮ টাকায় উঠেছিল, সেই চাল এখন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৭ টাকায়।

সরকারের বিপণন সংস্থা টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে মোটা চালের দাম কেজিতে কমেছে ৮ শতাংশের মতো।

চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় (ওএমএস) সারা দেশে খোলা বাজারে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি কার্যক্রম শুরু হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে মোটা চালের বাজারে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে মোটা চালের কেজিতে দাম কমেছে ১১ টাকা পর্যন্ত। এক সপ্তাহ আগের ৫৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া মোটা চাল (স্বর্ণা, চায়না ও ইরি) গত সপ্তাহে বিক্রি হয় ৫২ টাকা কেজি দরে। এই সপ্তাহে নতুন করে কেজিতে আরও পাঁচ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৪৭ টাকা কেজি দরে।

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যে চাল (চিকন) বিক্রি হয়েছে ৭৫ টাকা কেজি দরে, এই সপ্তাহে সেই চাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজিতে। একইভাবে মাঝারি ধরনের অর্থাৎ লতা ও পাইজাম চাল দুই টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৬২ টাকা কেজি দরে। গত সপ্তাহে এই চালের দাম ছিল ৬৪ টাকা কেজি। আর ৫৪ টাকা কেজি দরের চাল এই সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজিতে।

এদিকে খোলা ময়দা ও আটার দাম কমেছে। গত সপ্তাহে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া খোলা আটা এই সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকা কেজি দরে। এছাড়া গত সপ্তাহে ৬২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া খোলা ময়দা এই সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে এবং ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া খোলা ময়দা এই সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৫৮ টাকা কেজি।

এছাড়া প্যাকেট ময়দা আগের মতো বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি দরে।

এদিকে মোটা চালের মতো গত দুই সপ্তাহ ধরে মসুর ডালের দামও কমছে। ১৩০ টাকা কেজি দরের ডাল ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ১০০ টাকা কেজি দরের যে মসুর ডাল পাওয়া যাচ্ছে, তার গত সপ্তাহে দাম ছিল ১০৫ টাকা। তবে ১৫০ টাকা কেজি দরের ডাল (ছোট দানার) ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে মুগডাল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। দাম কমার তালিকায় রয়েছে আমদানি করা পেঁয়াজ। গত সপ্তাহে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এই সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি দরে।

তবে দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে এক লিটার ও পাঁচ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল। এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন বেড়ে হয়েছে ১৯৪ টাকা। গত সপ্তাহে এই সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ১৯২ টাকা লিটার। ২ লিটার বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ৩৮৫ টাকা।

এদিকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে আবারও বেড়েছে ডিমের দাম। ডজনে ডিমের দাম বেড়েছে ১০ টাকা। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ব্যবসায়ী ডিমের ডজন বিক্রি করছেন ১৩০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে ডিমের ডজন ছিল ১২০ টাকা। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ফার্মের মুরগির ডিমের হালি ছিল ৪০ টাকা। এই সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা হালি। ডিম ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত দুই-তিন দিন ধরে পাইকারিতে ডিমের দাম বাড়তি। এ কারণে ডিমের দাম বেড়ে গেছে।

দাম বাড়ার তালিকা রয়েছে ব্রয়লার মুরগিও। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা দরে। ব্রয়লার মুরগির পাশাপাশি পাকিস্তানি সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সোনালি মুরগির কেজি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা বিক্রি হয়।

কিছু দিন আগে অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া কাঁচা মরিচের কেজি এখন ৪০ টাকা। তবে অনেকেই এক পোয়া (২৫০ গ্রাম) কাঁচা মরিচ ১৫ টাকায় বিক্রি করছেন।

এদিকে আগের মতো বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে শিম। গত সপ্তাহে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া শিম এখন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। শিমের দাম কিছুটা কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে পাকা টমেটো, গাজর এবং বরবটির দাম। এক কেজি পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৩০ টাকায়। গাজর বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি। বরবটির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। দামি এই সবজিগুলোর পাশাপাশি বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁকরোলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁচা পেঁপের কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা, পটল ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কচুর লতি, ঝিঙে, চিচিঙ্গা কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। করলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা।

মাছ বাজারে দেখা গেছে, রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৪৫০ টাকা। তেলাপিয়া, পাঙাশ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা। শিং মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৬০ টাকা। কৈ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। পাবদা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা।

চিংড়ির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। আর এক কেজি ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা। ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা। আর ৪০০-৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.