ইরাকে সর্বশেষ আইএস ঘাঁটির পতন, জনমনে স্বস্তি

‘ইসলামিক স্টেট – ইউফ্রেটিস প্রভিন্স’ লেখা সম্বলিত ধুলোবালি মাখা জীর্ণ একটি সাইনবোর্ড এখন দেখা যায় ইরাকের রাওয়া শহরে। ওই সাইনবোর্ডটিই বহন করছে ধর্মভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর তথাকথিত খেলাফতের চিহ্ন।

ইরাকে আইএস এর দখলে থাকা সর্বশেষ শহরটি ছিল রাওয়া। শনিবার সেখানে সরকারি বাহিনীর অভিযানে টিকতে না পেরে পালাতে বাধ্য হয় আইএস জঙ্গিরা।

গত তিন বছর ধরে রাওয়ায় আইএস-এর ধ্বংসযজ্ঞ আর অনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখে আসছিল সেখানকার অধিবাসীরা। এদেরই একজন ১৩ বছর বয়সী হামজা মাহমুদ। ছোট্ট এই কিশোরও এই ভয়াবহতার সাক্ষী। সিরিয়া সীমান্তবর্তী ওই শহরটির অন্যান্য অধিবাসীর মতো সেও ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছে জঙ্গিদের নির্মমতা। ২০১৪ সালে জঙ্গিরা তাদের বাড়িঘর দখল করে নিলে তার আশ্রয় হয় ইউফ্রেটিস নদীর তীরে। সেই থেকে একদিনের জন্যও স্কুলে যেতে পারেনি সে।

হামজার ভাষায়, ‘পুরুষদের লম্বা দাঁড়ি রাখতে হত এবং গোড়ালি পর্যন্ত লম্বা পোশাক পড়তে হত। এই নিয়মের ব্যতয় ঘটলে কমপক্ষে বিশটি দোররা সহ্য করতে হত।’

ওই কিশোর জানায়, রাওয়া এবং আশপাশের এলাকার অন্তত বিশ হাজার মানুষকে শহরের প্রবেশমুখের একটি সমাবেশস্থলে জড়ো করে তাদের নির্যাতন-নির্মমতার কাহিনী শুনতে হতো।

তাদেরকে আইএস-এর নিয়মকানুন সম্পর্কেও সতর্ক করে দেয়া হত।

ছিলনা বিদ্যুৎ, ফোন কিংবা টেলিভিশন

৬৭ বছর বয়সী আরেফ আইদ বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে তারা আমাদেরকে বিদ্যুৎ, ফোন এবং টেলিভিশন থেকে দূরে থাকতে বাধ্য করেছে।’

একের পর এক এলাকা থেকে আইএস-কে হটিয়ে শুক্রবার ইরাকি বাহিনী রাওয়ায় পৌঁছালে তাদেরকে ব্যাপক সংবর্ধনার সাথে বরণ করে নেয় নগরবাসী।

তবে আইএস জঙ্গিদের থেকে হামলার সম্ভাবনা এখনও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর আক্রমনের মুখে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেয়ে পালানোকেই শ্রেয় মনে করেছে তারা, বলছিলেন শহরটির মেয়র হুসেইন আলি।

সীমান্তের ওপারে তারা এখনও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে এবং তাদের সর্বশেষ ঘাঁটি আলবু কামালকে রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান হুসেন।

সুন্নী গোত্রের প্রতিরোধ

রাওয়া শহরের আশপাশের সুন্নী অধ্যুষিত এলাকাগুলোও অনেকদিন ধরেই আইএস নির্যাতনে অতিষ্ঠ। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে মার্কিন আগ্রাসনের সময়েও ওই এলাকা থেকে চোরাচালানকারীরা অস্ত্র এবং অন্যান্য বেআইনী জিনিসপত্র পাচার করে আসছিল।

এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সেখানেও ভয়ঙ্কর রূপে সক্রিয় ছিল আইএস।

তাই এসব অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে অস্ত্র হাতে তুলে নেয় স্থানীয় সুন্নি গ্রুপগুলো।

এমনই এক সুন্নি যোদ্ধা মোহাম্মেদ আল-জৌঘেইফি জানান, ‘আমরা রাওয়ায় জয়লাভ করেছি।’ কথা বলার সময় স্কার্ফ দিয়ে ঢাকা থাকলেও তার মুখমণ্ডলে হাসির ছাপ ছিল স্পষ্ট। ‘যদি আবার কখনও আইএস এর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতে হয় তবে আমরা প্রস্তুত,’ বলছিলেন তিনি।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *