উইলিয়াম ওডারল্যান্ড (বীর প্রতিক) – বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু

আগামী ১৬ই ডিসেম্বর আমাদের ৪০ তম বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানীদের আত্মসমর্পনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের । ১৯৭১ সালের সে বিজয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিলেন যে বিদেশীর মনিষীরা আসুন আরো একবার শ্রদ্ধাভরে স্মরন করি তাদের।
ওডারল্যান্ড হলেন একমাত্র খেতাবপ্রাপ্ত বিদেশী যোদ্ধা । ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ করেছেন হানাদার পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে।

১৯১৭ সালে নেদারল্যান্ডের আমস্টারডামে জন্ম নেন ওডারল্যান্ড। বাটা জুতা কোম্পানী’র চাকুরি ছেড়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেন। সেই বাটা সু কোম্পানী’র প্রোডাকশান ম্যানেজারের চাকুরি নিয়ে বাংলাদেশে আসেন ১৯৭০ সালে। অল্প কয়েকদিনপর জেনারেল ম্যানেজারের দায়িত্ব পান। ৭১’এর গনহত্যা, পাকিস্তানীদের ধ্বংশযজ্ঞ জাগিয়ে তোলে ওডারল্যান্ডের সৈনিক মনকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গেরিলা যুদ্ধের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ব্যাবস্থা করেন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষনের। তিনি তার ডাইরীতে লিখেন “I recollected and resumed in myself the experiences of my youth in Europe, and I felt that I should get the world informed of what was happening in Bangladesh”.

মুক্তিযোদ্ধাদের নিজের টঙ্গী’র বাসায় আশ্রয় দিতে নিজের পরিবারকে দেশে পাঠিয়ে দেন। বাটা সু কোম্পানীর টঙ্গী ফ্যাক্টরীর ভিতরেই মুক্তি যোদ্ধাদের ট্রেনিং এর ব্যাবস্থা করেন। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস থেকেছেন বাংলাদেশে। বিদেশী হিসেবে বহুজাতিক কোম্পানীর শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে তার গতিবিধি ছিল অনেকটাই অবাধ। জেনারেল টিক্কা খান, জেনারেল নিয়াজির সাথে ব্যাক্তিগত বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। সেনানিবাসে তার প্রবেশাধিকার ছিল। পাকিস্তানীদের গনহত্যা, লুটপাট, জ্বালানো পোড়ানোর ছবি পৌছে দিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। পাকিস্তানীদের চলাচলের খবরখবর পৌছে দিতেন মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে। মুক্তিযোদ্ধাদের নগদ আর্থিক সহায়তা থেকে শুরু করে সব ধরনের সাহায্য করে গেছেন যুদ্ধের শেষ দিন পর্যন্ত। মুক্তি বাহিনী’র ২নং সেক্টরের গেরিলাযোদ্ধা ছিলেন তিনি।
১৯৭৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে থেকেছেন ওডারল্যান্ড। চাকুরি থেকে অবসর নিয়ে নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন অস্ট্রেলিয়া’র পার্থ নগরীতে। ১৮ই মে ২০০১ সালে মৃত্যবরন করেন ওডার ল্যান্ড। তিনি তার একমাত্র মেয়েকে বলতেন ” Bangladesh Mon amor”- বাংলাদেশ আমার ভালোবাসা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *