‘উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকা মার্কায় ভোট দিন’

২৪ আগষ্ট ২০১৩, ৯ ভাদ্র ১৪২০
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের প্রতি আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আগামী নির্বাচনে তাঁর দল ফের ক্ষমতায় এলে দেশের চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য পাগল হয়ে গেছে। বিএনপি এবং এর মিত্র জামায়াত ও হেফাজত ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়নে বিপর্যয় নেমে আসবে। শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থেকে বিএনপি দেশে প্রতিহিংসা, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের নতুন ধারার রাজনীতি চালু করেছিল। তারা আবার ক্ষমতায় এলে সেই রাজনীতি ফিরে আসবে।

প্রধানমন্ত্রী আজ বিকেলে শহীদ মঞ্জু স্টেডিয়ামে এক বিশাল জনসমাবেশে ভাষণ দেন। তিনি এখানে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও কয়েকটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি এবং এর মিত্র জামায়াত ও হেফাজত ক্ষমতায় এলে কি করবে ইতোমধ্যে দেশের কিছু অংশে তার মহড়া শুরু হয়েছে। তারা নতুন করে হাওয়া ভবন চালু এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, সংখ্যালঘু নির্যাতন, নারী ধর্ষণ ও চাঁদাবাজি শুরু করবে।
২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগের সামাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয়। তিনি আরো বলেন, জনগণের ভাত ও ভোটের অধিকার হরণ এবং বাংলাদেশকে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদের দেশে পরিণত করা হয়েছিল।শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ দেশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু বিগত বিএনপি সরকারের আমলে বাংলাদেশ আবার খাদ্য-ঘাটতির দেশে পরিণত হয়। তারা এক কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার বানিয়ে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু দেশের মানুষ তাদের সেই চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেয়। তিনি বলেন, ২০০১ সালে ক্ষমতা গ্রহন করে বিএনপি সারা দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। সাবেক অর্থমন্ত্রী এসএএমএস কিবরিয়া ও আহসানউল¬াহ মাস্টার-সহ আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী বিএনপির হাতে নিহত হন।

বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তার সরকারের উদ্যোগ গ্রহণের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ১৯৯৬ সালে ক্ষমতা গ্রহনের পর হরিপুর ও মেঘনাঘাটে প্রথম এ ধরণের উদ্যোগ নিয়েছিল।বিগত সাধারণ নির্বাচনে মহাজোটের পাঁচজন প্রার্থীর সকলকেই নির্বাচিত করায় নারায়নগঞ্জের জনসাধারণকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের রায় নারায়নগঞ্জের ব্যাপক উন্নয়ন সাধনে তাঁর সরকারের জন্য সহায়ক হয়েছে।এরআগে প্রধানমন্ত্রী সোনারগাঁয়ে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প, ৪১২ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট, মুক্তিদ্ধোদ্ধা এসএম মাজহারুল হক অডিটরিয়াম ও কম্যুনিটি সেন্টার, নারায়ণগঞ্জ সার্কিট হাউজ ও স্যার জ্যেতি বসু পাঠাগার ও সেমিনার হলের উদ্বোধন করেন।তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং অন অ্যাপলাইড নিউট্রেশন, প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, আড়াইহাজার উপজেলা কমপ্লেক্স, মুড়াপাড়ায় শীতলক্ষ্যার উপর পিসি গাডার ব্রিজ ও আড়াইহাজারে দয়াকান্দা খালের উপর ব্রিজ, এগ্রিকালচার ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিদ্ধিরগঞ্জে ৩৩৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্টের উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে নারায়গঞ্জের প্রতিটি আনাচে কানাচে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। আওয়ামী লীগ উন্নয়নে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম, বাংলাদেশকে একটি ডিজিটাল দেশে পরিণত করবো। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আমরাই জনগণের দোরগোড়ায় মোবাইল ফোন পৌঁছে দিয়েছি।
এবার আমরা প্রতিটি গ্রাম ও ঘরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা সস্তায় জনগণের মাঝে ইন্টারনেট সেবা ও ল্যাপটপ পৌঁছে দেয়ার কাজ করছি। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্কুলে প্রায় ২০ হাজার মাল্টি-মিডিয়া ক্লাশরুম চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আগামীতেও আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহজালাল মিয়া। জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সময়বায় মন্ত্রী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যু, জ্বালাইন ও খনিজ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) এনামুল হক, সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য সুবিদ আলী ভূইয়া এমপি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি গাজী গোলাম দস্তগীর, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি নাসিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এনামুল হক শামীম, শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *