ঊনসত্তুর থেকে পচাঁত্তুর-‘৭১ যাদের বয়স তিনের কমছিল তাদের থেকে সামুর কনিষ্ঠতম ব্লগারটিকে উৎসর্গীকৃত-পর্ব২০

অবতরনিকা: বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্বংশকারীদের (আমি নির্বংশই বলবো কারন প্রচলিত ধারায় বংশগতি পুরুষ উত্তরাধিকারীর ওপরেই বর্তায়) শাস্তি প্রদানের পর থেকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটার পর একটা পোষ্ট আসছে। যার প্রায় সবগুলোই (গুটি কয়েক ব্যতিক্রম ছাড়া) পক্ষপাত দুষ্ট। অনেক ভাবনা চিন্তা করে আমার নিজস্ব ক্ষতির কথা ভুলে/ এড়িয়ে আমি আমার একান্ত ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরছি, শিরোনামে উৎসর্গীকৃত ব্লগারদের জন্যে। ৩ বছরটা উল্লেখ করার কারন হ’ল যে মানুষের কোন স্মৃতি ৩ বছর বয়সের আগে থাকেনা, সাধারনত। এ পোস্টে আমার ব্যাক্তিগত ক্ষতি গুলোঃ

১। এটা প্রকাশিত হবার পর আমার পরিচয় গোপন থাকবেনা, যা আমি এতদিন সযতনে রক্ষা করেছি।

২। ব্যাক্তিগত ঘটনা বয়ান পাঠকদের কাছে মাঝে মধ্যে আত্মপ্রচার ও পারিবারিক প্রচারের মত লাগবে যা আসলেই অশোভন, অরুচিকর এবং বিরক্তিকর। এগুলোও আমি লুকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে এসেছি আজীবন।

৩। কোন পক্ষাবলম্বন না করে লেখাটা অত্যন্ত দুঃসাধ্য। আমার জন্যে আরো কঠিন। কারন যৌবন যখন সদ্য দেহ-মনে ভর করে আমার সমগ্র সত্তাকে ভীষনভাবে নাড়িয়ে দিচ্ছে, যা কিছুই সুন্দর তারই প্রেমে পড়ছি, ঠিক সে সময়ই বংগবন্ধুর সাথে আমার পরিচয়। নিরপেক্ষভাবে তাঁর ব্যাপারে লিখতে আমার খুবই কষ্ট হবে এবং আমাকে অসাধ্য সাধন করতে হবে।

৪। শুধুমাত্র স্মৃতি নির্ভর লেখার মূল সমস্যাটা হ’ল ভুল স্মৃতি মনের মধ্যে থাকা। যে কেউ যদি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আমার কোন বক্তব্যে দ্বিমত প্রকাশ করেন, তা’লে তাকে আমি অনুরোধ করবো মন্তব্যে তা তুলে ধরতে। আমার স্মৃতি ঘাটতে সাহায্য করার নেই কেউ আমার হাতের কাছে।

আমি আপ্রাণ চেষ্টা করবো-আমার যে একটা দায় আছে আমার পরের প্রজন্মগুলোর কাছে।

আমার এই দায় শোধ যদি এই প্রজন্মকে আমাদের গৌরবময় আর কলংকলেপিত অতীতকে নিরপেক্ষ ভাবে দেখতে শেখার পথে একপাও এগিয়ে নিয়ে যায়, তা’লেই আমি মনে করবো সেটা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন।

অনুগ্রহ করে মনে রাখবেন এটা আমার একান্তই ব্যাক্তিগত স্মৃতিচারন। পারিবারিক ঘটনাবলীর চর্বণ। সমগ্র দেশের ব্যাপারটা কখনোই প্রধান্য বিস্তার করবেনা, সে সাধ্য বা যোগ্যতা আমার নেই।

পুরো সময়টার কিছু অনুল্লেখযোগ্য অংশ বিষদ ভাবে আসবে আবার অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ পরবে, ব্যাক্তগত স্মৃতিচারনের এটা একটা বিরাট সমস্যা। অনুরোধ করি বিষয়টা মনে রেখে আমার এ লেখাটা পড়বেন ।

পুরোটা পড়ার পর অনেকের কাছেই এটাকে “পর্বতের মূষিক প্রসব” বলে মনে হ’তে পারে। তাদের কাছে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>

পর্ব-১পর্ব-২পর্ব-৩ পর্ব-৪
পর্ব৫পর্ব-৬পর্ব-৭ পর্ব-৮ পর্ব-৯ পর্ব-১০ পর্ব-১১ পর্ব-১২ পর্ব-১৩ পর্ব-১৪ পর্ব-১৫ পর্ব-১৬পর্ব-১৭ পর্ব-১৮পর্ব ১৯

এ পোষ্টে আওয়ামী লীগ আর বাকশাল সমার্থক হিসেবে নেয়া হয়েছে।নিজেদের ছবিগুলো ছাড়া বাকিগুলো ইনটারনেট থেকে নেয়া
টেলিভিশনের একটি ফুটেজ

টিভি দেখছি অনেকক্ষণ ধরে। খুব সম্ভবত তখন সাদা কালো টিভি। এখন মনেও করতে পারছিনা যে সেটা সরাসরি সম্প্রচার ছিল কিনা।

বংগ বন্ধু দাড়িঁয়ে আছেন বত্রিশ নম্বরের দোতলার ঝুল বারান্দায়। মুখে বিজয়ের হাসি। কিন্তু বিজয়টা কিসের তা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে না। ডান হাত তুলে নাড়াচ্ছেন তিনি অনেক্ষণ ধরে। আমরা দর্শকেরা অবাক হচ্ছি-একজন মানুষ কি করে এতক্ষণ ধরে হাত তুলে রাখতে পারেন?

চোখ জ্বালা করছে। তবুও আমরা কেউই সরাতে পারছিনা চোখ টিভির পর্দা থেকে। এ যাবৎ বরেণ্য যত বাংগালীর নাম শুনেছি, প্রায় সবাইকেই দেখা যাচ্ছে একে একে। পৃথিবীর ইতিহাসে এত ভি ভি আই পি আর ভি আই পির এক মিছিলে সমবেত হয়ে অভিবাদন জানানোটা সম্ভবতঃ ছিল সেই প্রথম এবং সেই শেষ।

হঠাৎ আমার রাগ ইমনের কথা মনে পড়ে গেল। ক’দিন আগে তাঁর একটা মন্তব্য পড়ছিলামঃ ………পাপকে পাপ বলে স্বীকার করে তার প্রতিবাদ , প্রতিকার করাটা যখন সকল প্রকার প্রাণীর সুবিধাবাদের বিরুদ্ধে যায়, তখন “চারিদিকে শত্রু”। তাই না?
যে পথে হাটছেন তাতে একলা চলো নীতিটাই একমাত্র নীতি , বাকি সবই দুর্মতি………..। না সেদিন কোন রাগ ইমন সংসদে ছিলেন না! বাংলাদেশেও ছিল কিনা জানিনা। বংগবন্ধু হত্যার পর তাও নির্মলেন্দু গুণ প্রতিবাদী কবিতা লিখেছিলেন, বাঘা কাদের অস্ত্র ধরেছিলেন {তাঁর সে অস্ত্র ধরা যতটা না বংগ বন্ধুর প্রতি তার ভালবাসা প্রসুত ছিল, আমার ধারনা আত্ম রক্ষার(Self preservation ) আদিম প্রবৃত্তির তারণনা ছিল তার চেয়ে বেশী, টাংগাইলের লোকেরা তার অত্যাচারের বদলা নিত } বংগ বন্ধুর জন্যে কিন্তু গণতন্ত্র হত্যার সে দিন গুলোতে গণতন্ত্র বাঁচাতে কাউকেই উদ্যোগী হতে দেখা গেল না। বিরোধী যারা ছিল মাটির নীচে বা সুন্দরবনের গহীনে তারা বিশ্বাস করতো সর্বহারাদের একনায়কতন্ত্রে।

টিভির দিকে নজর গেল। মন্ত্রী পরিষদের সকল সদস্য, স্পিকার, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সকল সচীবগণ, সেক্টর কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানগন, সেনাবাহিনী প্রধান, নৌ বাহিনী প্রধান, বিমান বাহিনী প্রধান, দেশের সকল স্তরের সকল স্তরের শিক্ষালয়ের প্রধানেরা, ………………………………ঘন্টার পর ঘন্টা………………………………… …………….. সে রাজন্যবর্গের শোভা যাত্রা আর শেষ হয়না।

এতো ফুটেজ দেখি, এই ফুটেজটা আর দেখিনা। ১৯৮২-৮৩তে রামপুরা টিভি স্টেশনে আমার বন্ধুর ডিউটি পরেছিল। আমার ডিউটি ছিল রমনা পুলিশ কন্ট্রোল রুমে। আমি ওকে দিয়ে এবং অন্যান্যদেরকে দিয়ে অনেকখুঁজিয়েছি। পাইনি। জিয়ার একাত্তুরের রনাংগনের ফুটেজ পাওয়া যায় ইউ টিউবে কিন্তু রাজন্য শোভা যাত্রার সেই অপূর্ব ও অভুতপূর্ব দলিলটি হাওয়া হয়ে গেছে।

সেদিন রাতে ফোন এল বাবার কাছে। বংগ বন্ধু নিজেই ফোন করতেন, তাঁর কোন পিএর দরকার হতোনা সম্ভবত। “র….দেখলাম না আজ?”

বাবা উত্তর করলেন: “স্যার, দ্বিতীয় বিবাহে যত কম সংখ্যক লোক সমাগম হয় ততই শোভন”!

স্বরণাতীত কালের একমাত্র এই ভি আই পি তীর্থ যাত্রা শুরু হয় সম্ভবতঃ (এখন ঠিক করে মনে নেই), ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতিবাচক মনোভাবকে তোয়াক্কা না করে ২৫ শে জানুয়ারী, ১৯৭৫ এ ২৯৪ ভোটে সংসদে চতুর্থ সংশোধনী পাশ হবার পর। গণতন্ত্র কবর দেয়ার সময়, সারা জীবন ধরে গণতন্ত্র করা কোন সাংসদ সেদিন এ সংশোধনীর বিপক্ষ ভোট দেন নি। এখানে এসে স্মৃতির কাছে আমি পরাজিত। অনেককেই বলতে শুনি যে আবদুল মালেক উকিল সে সময়ে ছিলেন স্পিকার এবং যে অধিবেশনে কুখ্যাত ৪র্থ সংশোধনী পাশ হয় তার পৌরহিত্য করেন তিনি। বইতেও সেরকমই পড়েছি বোধ হয়, কিন্তু আমার জানা মতে আবদুল মালেক উকিল ৭৪এর প্রথম থেকে সম্ভবত ‘৭৪এর নভেম্বর পর্যন্ত সংসদের স্পিকারের দায়ীত্ব পালন করেন। কেউ আসল সত্যটা জানলে দয়া করে জানাবেন। বনানী থেকে কড়াইল হয়ে মহাখালি যাবার পথে বনানীর শেষ প্রান্তে হাতের বামের শেষ বাড়িটি তাঁর সাক্ষর বহন করে “MALEK UKIL”।

তাজুদ্দিন আহমদ বাকশালের ঘোর বিরোধী ছিলেন। উনিওতো একটা নেতিবাচক ভোট দিয়ে বাংগালী জাতির আত্ম সম্মানটির রূপক প্রতিনিধিত্ব করতে পারতেন! সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে লিপিবদ্ধ করতে পারতেন (আমি জানিনা ওঁ সেদিন সংসদে ছিলেন কিনা)।

তবে

আমাদের সংবিধান থেকে যদ্দিন না ফ্লোর ক্রসিং সংক্রান্ত উপধারাটিকে ঝেটিয়ে বিদায় করা হবে, ততদিন পর্যন্ত গণতন্ত্র শুদ্ধভাবে চর্চা করা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।

জনপ্রিয়তায় ধ্বস

সময়টা মার্চ এপ্রিল হবে পঁচাত্তুরের। আমি আর মিষ্টি কাজী (আমেরিকা প্রবাসী, এই সতীর্থটির সাথেই কেবল কোন যোগাযোগ নেই) রিকসায় করে ৩২ নম্বর ধরে যাচ্ছি ওর বাসায় (মিষ্টির বাসা ছিল ৩২ নম্বরেই। মিরপুর রোড থকে ৩২ নম্বরে ঢুকে, বংগ বন্ধুর বাড়িটি ছাড়িয়ে, হাতের বায়ে কালভার্টটা পেড়িয়ে সোজা চলে গেলে ডেড এন্ডের কিছু আগে, হাতের ডানে)। বংগবন্ধুর বাড়ি পেরুচ্ছি হঠাৎ মিষ্টি বলে উঠলো, এই বাড়িটাকে … কি যেন বলতে গিয়ে থেমে গেল। আমার মতই বংগবন্ধু পাগল সে। আমাদের ক্লাসের আর সবার বংগবন্ধু প্রীতি ততদিনে উবে গেছে। আমাদের দুজনকে ততদিনে আমাদের কলেজের ছেলেরা আওয়ামী লীগের অন্ধ সমর্থক বলে ভাবা শুরু করেছে। মিস্টার ওয়াহাবুজ্জামন তখন আমদের এ জুটিকে ঢাকতেন sentimental fools। কেউ বুঝতে চাইতোনা যে আমাদের সমর্থন শুধু মাত্র বংগব্ধুর প্রতি আর আমরা বুঝতে পারতাম না যে আওয়ামীলীগ আর বংগবন্ধু সমার্থক।

আমি একটা দীর্ঘ নিশ্বাস চাপলাম। এর কিছুদিন আগেই সিরাজ সিকদারকে হত্যার পর বংগবন্ধুর করা সে উক্তি আমাকে তখন খুব বিমর্ষ করে রাখতো। ছুটির দিন গুলোতে তীব্র ক্ষুধাও আমাকে সে কষ্ট দেয় নি। তাছাড়াও সে সময়ে চাল পাওয়া যাচ্ছিল আবার। সবচে’ বেদনা দায়ক ব্যাপার হল আমার ছোট বেলাকার ভালবাসা আমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছিল। আমার ধারনা বাংলাদেশের প্রায় সব মানুষেরতা হচ্ছিল।

তেয়াত্তুরের নির্বাচনের পর থেকেই আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা নিম্ন গামী ছিল। যদিও সে বছর বংগবন্ধুর জনপ্রিয়তায় কোন কমতি চোখে পড়ে নি। ‘৭৪এর মার্চ থেকে দেশের খাদ্য প্রাপ্যতা এবং তাঁর জনপ্রিয়তা সমানুপাতিক হারে কমতে থাকে।

সে জন্যে আকাল ছাড়াও আরো যে দুটি কারন তখন লক্ষ করেছি তা হ’ল দলের লোকদের নিয়ন্ত্রনে ব্যার্থতা আর রক্ষী বাহিনীর অত্যাচারের গাঁথা। গাজী গোলাম মোস্তফা, কাদের সিদ্দিকী এদের সামন্ত রাজাদের মত চাল চলন, আচার ব্যাবহার, প্রায় ইশ্বরের মত সীমাহীন ক্ষমতা, আওয়ামী লীগের আর রক্ষী বাহিনীর সদস্যদের অবর্ননীয় অত্যাচারের কাহন তখন সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। তখনো মনে করতাম, এখনো করি যে তার অনেকটাই ছিল স্বাধীনতা বিরোধীদের অপপ্রচার, কিন্তু এ অপপ্রচার ঠেকাতে বংগবন্ধুকে কোন পদক্ষেপ নিতে দেখিনি।

আমি এখনো বুঝিনা যে দলীয় লোকদেরকে বাগে আনতে বংগবন্ধুর কি বাঁধা ছিল। আমাদের কাছে তিনি যতটুকু সময় তিনি চেয়েছেন ততটুকুই দিয়েছি। পাড়া শুদ্ধ রোজা রেখেছি যাতে করে বংগবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে ফিরে আসেন। আমার মা রোজা রাখতে অসমর্থ, জীবনে তাঁকে শুধু সেই সময়েই রোজা রাখতে দেখেছি, রোজা রেখে বিছানা নিতে দেখেছি।

যে নবতীপর বৃদ্ধ, যে অশতীপর বুড়িমা দিনের পর দিন পায়ে হেঁটে তেজগাঁও বিমান বন্দরে এসেছিলেন বংগ বন্ধুকে বরন করতে, তাদের ভালোবাসা, তাদের প্রাণের আকুতির চেয়ে গাজী গোলাম মোস্তফার লোভ, দম্ভ কিভাবে বংগ বন্ধুর কাছে বড় হতে পারে আমার তা বোধে আসেনি সেদিন গুলোতেও, আজও।

সাত কোটি তেরো লক্ষ বাংগালীর অকল্পনীয় ভালবাসা, অকুন্ঠ প্রেম, নিঃস্বার্থ অনুসরন, অনুকরনীয় ব্যাক্তিগত ত্যাগ, প্রশ্নাতীত আনুগাত্য এসবের কোন মূল্যই কি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাংগালী দি্য়েছিলেন?

১৯৭৫এর জুন জুলাইতে এমন কোন লোক দেখিনি, এমন কারু সাথে পরিচয় হয়নি যে বংগবন্ধুকে, তাঁর দলীয় লোককে, তাঁর ব্যাক্তিগত সেনাবাহিনীকে ভালবাসতো। এটাই বাস্তব, এটাই সত্য, যেমন সত্য প্রতিদিনের ওঠা সূর্য।

খেলা ভাংগার খেলা

তখন রোববার সাপ্তাহিক ছুটি ছিল।

দিনটি ছিল শুক্রবার।

আমাদের কলেজে আন্তঃ কেডেট কলেজ বাস্কেট বল প্রতিযোগিতা চলছিল। আন্তঃ কলেজ প্রতিযোগিতা চলায় কোন পিটি নেই। আমরা বাস্কেটবল কোর্টের চারপাশে সারিবদ্ধ ভাবে বসা।

খেলা শুরু হ’ল।

কিছুক্ষণ পর হন্তদন্ত হয়ে এ্যাডজুট্যান্টকে আসতে দেখা গেল প্রিন্সিপ্যালের দিকে। তিনি নীচু হয়ে কানে কানে কি যেন বল্লেন অধ্যক্ষকে।

আমাদের খেলা ভেংগে গেল।

আরো কিছু খেলা ভেংগেছিল ঘন্টা খানেক আগেই।

তারিখটি ছিল ১৫ই আগস্ট, ১৯৭৫।

সময়; সকাল ৬টা বেজে ১৫ মিনিট।

আমার বক্তব্য শেষ। আমি এখন সেই প্রসংগ আনবো যে প্রসংগে আমি এই সিরিজ শুরু করেছিলাম।

আমরা আসলে এমন একটা চক্রে ঘুরপাক খাচ্ছি যে হয় আমরা বংগ বন্ধুকে সব ভুলের উর্দ্ধে দেখতে ভালবাসি নয় তাকে ফেরাউন বানিয়ে দেই। মাঝখান থেকে নারকীয় খুনীরা পেট্রিয়ট হয়ে যায়।

দেখা যাক আসলে সেদিন পরিস্থিতিটা আসলে কি ছিল।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টে বংগবন্ধুর জনপ্রিয়তা ছিল যখন শুন্যের কোঠায়, নির্মলেন্দু গুণ আর কাদের সিদ্দিকী(?) ছাড়া যেখানে আর তেমন কেউই প্রতিবাদী হয়নি, তখন তাঁকে হত্যা করার কি প্রয়োজন ছিল? সেদিন আমি কাউকে কাঁদতে দেখিনি বংগবন্ধুর জন্যে। আজ পর্যন্ত এমন কারো সাথে আমার পরিচয় হয়নি যিনি বলেছেন যে তিনি সেদিন কেঁদেছিলেন বা কাউকে কাঁদতে দেখেছিলেন।

তাঁকে যদি একটা বিমানে তুলে দিয়ে দেশে সামরিক শাসন জারি করা হ’ত সেদিন, শতকরা ৯৯ জন লোক সাদরে সে শাসনকে বরন করে নিত। অনেকে আমার সাথে তর্ক করবেন যে তিনি ফিরে আসতেন বলেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল

আমার যুক্তিটা তাঁর ফিরে আসা না আসা নিয়ে নয়। আমার কথা হচ্ছে গনতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্যে তাঁকে হত্যা করার কোন প্রয়োজন ছিল কি ছিলনা। যে ম্যাসাকার, যে কারনেজ তারা চালিয়েছিল তিনটি বাড়িতে তাঁর যুক্তি সংগত কোন ব্যাখ্যা কেউ আজ পর্যন্ত দিতে পারেনি। এ পৃথিবী ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত কেউ তা দিতে পারবে বলে মনে করিনা।

কেন দুধের শিশু, কেন ৪/৮ বছরের বাচ্চাকে সেদিন হত্যা করতে হয়েছিল?

শেখ কামালের কি দোষ ছিল? তাঁর দোষকে যদি মৃত্যু দন্ড যোগ্য অপরাধ ধরা হয় তা’লে পরবর্তী যুবরাজদের হাজারবার জন্ম গ্রহন করতে হবে শুধু ঐ একই শাস্তি পাওয়ার জন্যে।

কেউ তো শেখ জামালের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগও তুলতে পারেনা। সে তো সেনা বাহিনীর কর্মকর্তা ছিল। দেশের কর্ণধারের আত্মজ হিসেবে, সেনা সদস্য হিসেবে, অফিসার হিসেবে কোন্ অন্যায়টা সে করেছিল? আমার কনিষ্ঠ পুত্র ও শেখ জামাল সমব্য়সী- মৃতের বয়স বাড়েনা। আমার সে পূত্রটি আমাকে যতখানি জুলুম করে তার শতভাগের একভাগও যদি জামাল করে থাকতো-তার অত্যাচারের কাহিনী নিয়ে এত দিনে মহাভারত লেখা হয়ে যেত।

শেখ রাসেলের কিশোর আদালতে বিচার করার বয়সও হয়নি তখন।

সুলতানা কামাল, তাঁর আর তার প্রিয়র জন্ম না নেয়া শিশুটির কি দোষ ছিল?

চার বছরের শিশুটিকে মনে আনুন , আপনার চার পাশে তাকান। সে ব্য়সী আপনার সন্তান, আপনার সহদোরের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখুন, একটা বকুনি দিতে পারবেন বা একটা থাপ্পড়? কিভাবে ঠান্ডা মাথায় সে বয়সের ইশ্বরের দূতকে বীরেরা, পেট্রিয়টেরা হত্যা করলো?

শেখ মণির সমস্ত দোষ, সমস্ত অন্যায়, আবদুর রব সেরনিয়াবাতের সবগুলো বিচ্যুতি আমলে নিয়ে যদি তাদের মৃত্যু দন্ড দেই তাহলে আজকের কোন মন্ত্রী, কোন আমলা, কোন ব্যাবসায়ীটি ফাঁসীর ফাঁস এড়াতে পারবে? তাঁদের পরিবারের সদস্যরা কি অন্যায় করেছিল যে তাদের ফায়ারিং স্কোয়াডে মরতে হল?

আপনারা যারা ফারুখ রশিদ গংদের গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী ভাবেন, বীর ভেবে পূজা করেন তাদেরকে বলছি, শাহরিয়ারদের উদ্দেশ্য আর যাই থাক গণত্ন্ত্র উদ্ধার ছিল না -ওরা খুব বেশী হলে ঠান্ডা মাথার খুনী আর কিছু নয়। কৃমি কীটও তাদের চেয়ে বেশী সম্মান পাবার যোগ্য।

গণতন্ত্র পুণঃপ্রতিষ্ঠাতে ১৫ই আগস্টের হত্যা যজ্ঞের কোন প্রয়োজন ছিলনা।

___________________________________________
____________________________________________
_____________________________________________
” KE SARA’ , SARA’ (Que sera sera),/What ever will be , will be ”

সোনকান্দা।

১৭৫ বছরের পুরানো নীল কুঠি।

কুঠির ছোট্ট একটা কোটরে ৩/৪ মানুষ সমান উঁচু ছাদ থেকে পলেস্তরা খসে গালের ওপর পড়ায় কিছুক্ষণ আগেই ঘুম ভেংগেছে।

হঠাৎ সুরেলা হেড়ে গলায় ভেসে এলো:

” KE SARA’ , SARA'(Que sera sera) ,
what ever will be , will be ”
The future’s not ours to see
KE SARA’ , SARA
What will be, will be……

১৩ বছর আগে ফিরে গেলাম।

বুয়েট ক্যাম্পাস। নানা, বড় চাচা-চাচী, বড় খালা তখনো সবাই বেঁচে। বিশাল দুই সংসারের বোঝা তখনো বাবা-মার ঘাড়ে এসে পড়েনি। খুবই সচ্ছল ভাবে জীবন কেটে যায়। সরকারী ল্যাবরেটরী স্কুলে ভর্তি হতে তখনো এক বছর সাত মাস বাকি।৪র্থ জন্মদিন আমার। বাবার সাথে নাচছি-১ ২ ৩ – ১ ২ ৩-Waltz….. টেপ রেকর্ডারে ভেসে আসছে .

When I was just a little girl
I asked my mother…

বাবা নাচার সাথে সাথে গলা মিলাচ্ছেন গানে….

When I grew up and fell in love
I asked my sweetheart ……

মনটা অসম্ভব ভাল হয়ে গেল। লাফ দিয়ে আমিও গাওয়া শুরু করলাম:
What will be, will be….

হাত মুখ ধুয়ে মাকে বল্লাম বাবার কি হয়েছে এত খুশী কেন? আধ ঘন্টা ধরে গাইছেন গানটা।

মা আমার অতি মলিন হেসে যা বল্লেন তা হ’ল:

আগের দিন বাবা অফিসে ঢুকতেই বাবার পিএ দৌড়ে এসে বল্লেন যে সেনানিবাস থেকে ফোন এসেছে। বাবাকে চাইছে। বাবা ফোন ধরতেই অপর প্রান্ত থেকে কেউ বললো: Dr. R… we heard that you are yet to remove the photo of Mujib from your office. Is it true?
বাবা উল্টো জিজ্ঞেস করলেনঃ Who are you?
উত্তর আসলোঃ I’m from the Army Headquarters.
বাবা বল্লেনঃ I don’t take orders from killers!

বলে সশব্দে ফোনটা রেখে দিলেন (slammed the receiver).

সেদিন অতি প্রত্যুষে একটা ফোন এসেছিল বাবার পিএ করেছিলেন। উনি বলেছেন যে বাবার কর্পোরেশন আর স্টিল মিলস কর্পোরেশন মিলিয়ে নতুন কর্পোরেশন করা হয়েছে- স্টিল এ্যান্ড ইনজিনিয়ারিং করপোরেশন-বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল সংস্থা। সে সংস্থার চেয়ারম্যান হয়েছেন এক সাদামাটা সিএসপি অফিসার, তবে তাঁর বড় একটা যোগ্যতা আছে-সাতক্ষীরার মুসলিম লীগের বেগম রাজিয়া ফয়েজের স্বামী জনাব ফয়েজ তিনি।

বাবা কোথাও নেই।

মা বল্লেন একশো টাকা আছে মাত্র হাতে, সামনে কি যে হয়! জীবনে প্রথম মার গলায় অনিশ্চয়তা- এত অর্থ কষ্টে, খাদ্য কষ্টে, হিটলারের রাজ্যে ইহুদী হয়ে থাকার কষ্টে পড়েছি, মার মুখ কখোনো ম্লান হতে দেখিনি আর।

প্রথমে আতংকে আমি চোখে অন্ধকার দেখা শুরু করলাম। বাবার গলা ভেসে এলো:

Now I have Children of my own
They ask their mother
What will I be

সব আতংক কেটে গেল আমার । তারস্বরে গেয়ে উঠলামঃ

KE SARA’ , SARA..

বাবা বেড়িয়ে আসলেন তাঁর ঘর থেকে, দুজনে এক সাথে এত উঁচু গলায় গাইতে লাগলাম যে সম্ভবতঃ শীতলক্ষার পাড় থকে সবাই শুনতে পাচ্ছিলঃ
KE SARA’ , SARA..
What will be, will be

বাবার চোখে মুখে এক আশ্চর্য্য দ্যুতি-মুক্তির অভাবনীয় আনন্দ।

গাইতে গাইতে আমরা শীতলক্ষার পাড়ে চলে এলাম। নানা রংয়ের পাল তোলা নৌকো তখনো দেখা যেত স্বচ্ছ নদীর বুকে।

বংগবন্ধু হত্যার পর এর আগে কখনো হাসতে দেখিনি তাঁকে।

উপসংহার

আমি বাবা বাসায়, বাকিরা সবাই স্কুলে। একটা ফোন এলো।

মাকে সেনানিবাসের জাহাংগীর গেইট থেকে সেনারা গ্রেপ্তার করেছে। …………….
গাড়ি চেক করার জন্যে গেটে গাড়ি থামানো হয়েছিল, মা স্বগোতোক্তি করেছিলেনঃ “বংগ বন্ধুই পারলোনা দেশটাকে ঠিক করতে , এই খুনীরা করবে দেশ ঠিক– ”
এর পর স্তব্দ্ধতার ২৬ নম্বর কমেন্টটি দেখুন। সেখানেই এ সিরিজের পরিসমাপ্তি
_____________________________________________
http://www.youtube.com/watch?v=j6AK7mRfeT8 (নাচের)

Click This Link (অনুভবের)

When I was just a little girl
I asked my mother
What will I be
Will I be pretty
Will I be rich
Here’s what she said to me

Que sera, sera
Whatever will be, will be
The future’s not ours to see
Que sera, sera
What will be, will be

When I grew up and fell in love
I asked my sweetheart
What lies ahead
Will we have rainbows
Day after day
Here’s what my sweetheart said

Que sera, sera
Whatever will be, will be
The future’s not ours to see
Que sera, sera
What will be, will be

Now I have Children of my own
They ask their mother
What will I be
Will I be handsome
Will I be rich
I tell them tenderly

Que sera, sera
Whatever will be, will be
The future’s not ours to see
Que sera, sera
What will be, will be
Que Sera, Sera

This song was written for
Alfred Hitchcock’s 1956 re-make
Of his 1934 film “The Man Who Knew Too Much” grandiose
Starring Doris Day & Jimmy Stewart

৬ই মে, ১৯৬৩, আমি আর আমার বাবা নাচছি, ওয়ালৎজ, আমার চতুর্থ জন্মদিনে, Que sera sera র সাথে।

শেষ।
_____________________________________________
আমার কৃতজ্ঞতাঃ

আমি আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই সর্বশক্তিমানকে, যার অসীম অনুগ্রহ ছাড়া আমার এই সিরিজ আমি কোনদিনই শেষ করতে পারতামনা।
আমার বাসার সাহায্যকারী কুলসুম আর ছুডুকে,
তারপর শয়তান নির্বোধ কে আসলে ?? :-* সাময়িক জিজ্ঞাসা পোস্ট সবার প্রতি , দীপ দীপ্তি হায়! এমন মানুষ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শেখায়, যে মনে মনে লালন করে মন্ত্রীপরিষদে রাজকারদের দেখার ইচ্ছা আর প্রতি বিপ্লবীকে, যাদের কর্মকান্ড আমার অশনী সংকেত হিসেবে কাজ করেছে। তাদের সক্রিয় সাহায্য ছাড়া আমি আমার স্মৃতিকথাটিকে প্রায় নিখুঁত করতে পারতাম না কখনই।
যারা আমাকে তাঁদের চেনা শোনা মানুষদের কাছ থেকে শুনে এসে আমার বক্তব্যকে সঠিক বলে সমর্থন করেছেন, যাঁরা আমার তথ্যের ভুল ধরে দিয়ে লেখার মানকে উন্নত করেছেন, আমার দৃষ্টি কোন থেকে আমার বক্তব্য বিচার করে আমার অবস্থান বার বার পরিষ্কার করে দিয়েছেন অন্যদের একাধিক পোস্টে গিয়ে, যারা আমাকে উৎসাহ, সাহস এবং পরিশ্রম করার প্রনোদন দিয়েছেন, আমার বক্তব্যের চুল চেরা সারগর্ভ, গঠনমূলক সমালোচনা করেছেন তাদের সবাইকে আমি শ্রদ্ধাভরে স্বরণ রাখবো।
অগনিত ইমেইল দিয়ে যারা আমাকে সব সময় চাংগা রেখেছেন, জানতে চেয়েছেন, জানাতে চেয়েছেন তাদের অন্তরের অন্তস্থল থেকে কৃতজ্ঞতা।এ মুহুর্তে শুধু স্মৃতি থেকে যাদের নাম মনে আসছে, মনে আসার পরাম্পরায়ঃ
স্তব্ধতা
তারার হাসি
হাসান শহীদ ফেরদৌস
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত
রোহান
অলস ছেলে
পি মুন্সী
রাগীমন থুক্কু ইমন জুবায়ের থুক্কু রাগ ইমন
রাজীব
গেঁয়া হোসাইন১৯৫০ বদ্দা।
তায়েফ আহমেদ/আহমদ/আহাম্মদ/আহমাদ
নাজনীন ১
মিমি জোবায়ের
পরাবাস্তবতা/অপরাবাস্তবতা/বাস্তবতা
পারভেজ
তালহা তিতুমির
ও হেনরী/ও জামান (পরের দিকে হারিয়ে গেলেন। মিস করেছি ওঁকে)
এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা সরি এনকার্টা সরি উইকি সরি রাগীব
সাজিদ
রাজর্ষি
মারিও পুজো ধ্যাৎ এ্যাল পুচিনো ধ্যাৎ গডফাদার ২
ফালতু মিয়া
পারভেজ
এ্যাবরাহ্যাম লিংকন ধুৎতেরি ইব্রাহিম খলিল ধুৎতেরি ইব্রাহিম আহমেদ
পেলে/আশরাফুল/সানিয়া মির্জা/নাদিয়া কমুনিচি/রোনাল্ডো ভাই
নতুন রাজা
মেঘের অনেক রং/মেঘের পর মেঘ
সৈয়দ ওয়ালি উল্লাহ/শহিদুল্লাহ কায়সার/বিভুতিভুষণ/লালসালু
সেতূ
শ।মসীর
আতিকুল হক
চন্দনপুরা/চন্দন
লুৎফুল্লা/প্যাটফুল্লা/লুৎফুল কাদের
অমি রহমান পিয়াল
বোলতা/ ভিমরুল/মৌ-মাছি
কোহিনুর/শাহিনুর/শাহেরীন
ইমাম মেহেদী/মেহেদী বাগ/মেহেদী হাসান
তুষারকনা
রোবোট
ফারযানা
সব্যসাচী প্রসূন
গরীবের কথা
সবুজ সাথী

মন্জুরুল হক
অরণ্যদেব
মহাপৈতাল
জাতিশ্বর
আমি ছাড়া সবাই ভাল
দড়াবাজ
কখনও মানব কখনও দানব
দীপ দীপ্তি

আমার স্ত্রী, আমার সকল অত্যাচার হাসিমুখে সহ্য করার জন্যে, লেখায় সাহায্য করার জন্য আর প্রতিকূলতায় পাশে থাকার জন্যে, যা সে সারা জীবন করে এসেছে। আমার সিরিজের এন্ডিং থিম, কে সারা সারা র সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আমার আর বাবার ওয়াৎজ নাচের দৃশ্যটি সারা বাড়ি তোলপাড় করে খুঁজে বের করে যে ঋণে আমাকে সে ঋণী করেছে তা শোধ দেবার নয়।
_____________________________________________
A snap shot in the family album
Daddy what else did you leave for me?

আমার বড়মা, আম্মার নানু, আমরা পাঁচ প্রজন্ম এক সাথে ছিলাম এ পৃথিবীতে একদিন।আমার ছেলে, আমি, মা, মার খালা, মার নানু, ছবিটা পাচ্ছিনা।

ম্যাডোনা- আমি মায়ের কোলে, ডিসেম্বর, ১৯৫৮

আমার প্রথম জন্মদিন, ৬ই মে, ১৯৫৯

আমার তৃতীয় জন্মদিন, ৬ই মে, ১৯৬১, নাজনীন-১এর জন্যে-ডারউইনের ত্বত্ত প্রমানিত।

কক্স বাজারে, আমরা আর বাবার বন্ধু পরিবারের সাথে হোটেল সাইমন, ১৯৬৭।জ্যাকেটে আমি।

ইতিহাসের অংশ-শফিউল আজম (উইটনেস টু সারেনডার, সিদ্দিক সালিক, রাও ফরমান আলী ওঅন্যানয় পাকিদের লেখা বইগুলোতে তাঁর অনন্য অবদানের নজির পাবেন, বাংগালী সিভিল সার্ভেন্টদের তখন কি অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তা কল্পনায় আনতে পারবেন), চেয়ারম্যান, ইপিআইডিসি, সাথে বাবা, ১৯৬৭

বিজয়ের আনন্দ! ১৭/১৯ শে ডিসেম্বর, ১৯৭১। সিডিএ আগ্রাবাদ। ১৯৭১এ এদের অনেকেই গ্রেনেড, বিস্ফোরোক, তথ্য আনা নেয়া করেছে সম্ভবতঃ)।

সামনের সারি: রুবেল, (লতিফ চাচার ছেলে), দীপু, বিথী (শাহজাহান চাচার ময়ে), মায়া (বোন), লুইসা (বোন), মমতা (বোন) বকুল (বিথীর বড় বোন)
পেছনের সারি: কিবরিয়া (রব্বানী চাচার ছেলে), আজিম (এম এ আজিজ চাচার ছেলে, সওদাগর এজেন্সিজ), লিও (ভাই) ইকবাল ওরফে জেডু( কর্নেল, আবুল হোসেন চাচার ছেলে),তুফান (ভাই), ? ? ?।

ডিসেম্বর’৭১-জানুয়ারী’৭২, আমাদের বাসায় জলসা, আমার প্রতিরোধের আগুন, আমার প্রতিবাদের ভাষা- পারভীন (লতিফ চাচার মেয়ে) ও এলা (ডাঃআনোয়ার আলী ও মন্জুলা আনোয়ারের দ্বিতীয় মেয়ে)

নাটক- কিরফিন (কৃপণ) আলী কুশি-লবঃ লিও ও দিপু,

নাটকের পিচ্চি দর্শকেরা, বামে সিঁড়ির ওপরও বসে আছেন। এই সিঁড়ি দিয়েই সুলতান চাচার হাঁক ডাক শুনে নেমে এসেছিলাম, যেদিন নৌ কমান্ডোরা কর্ণফুলীতে অনেক কটা জাহাজ ডুবিয়েছিল।

______________________________________
ফিরে দেখাঃ
প্রতিবিপ্লবী বলেছেন : এরম চব্যচোষ্যলেহ্যপেয় দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শোনানোর মধ্যে একটা মজাকি ব্যাপার আছে। ত্রিশোংকু স্যার আর্মি ম্যান। উনারা যুদ্ধের ময়দানেও পোলাও কোরমা খায়া অভ্যস্ত। ব্লাডি সিভিলিয়ানগো পুষ্ঠ গবাদী পশু, মুরগি দিয়া ভুড়িভোজন না করলে বন্দুক আলগাইবো ক্যামনে! অমি পিয়ালের পোস্ট করা একটা ভিডিও দিই জনাব। যতবার মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গে আপনার মুখ দিয়া স্যালাইভা ঝরভো, ততবার এই ভিডিওটা দেখবেন। দেখবেন অপুষ্ঠ শিশুটার মুখে ভনভন করা মাছিগুলারে, যা আপনাগো ভুনা গোস্তের আশেপাশে উড়াল দিয়া আসার সুযোগ পায়না। ওই শিশুটা কার মুখ জানেন স্যার? এক কোটি শরণার্থীর। মৃত্যু ভয়ে দৌড়ের উপর থাকা আরো কয়েকলাখ বাঙালীর। ট্রেঞ্চে তীব্র অনাহারী শরীরেও পাষণ্ড পাঞ্জাবীদের ক্রমাগত ধর্ষনের শিকার দু্ই লাখ মা বোনের। দেইখা বলেন চিয়ার্স।
পি মুন্সী বলেছেন: আপনার এই পর্ব না ফিরে পারলাম না।
১. আপনি সত্যিই একজন সৈনিক। আপনাকে আমার স্যলুট। আমার অভিবাদন গ্রহণ করুন।
আপনাকে আমি অনেক আগেই বলেছিলাম, আমার বিচারে আপনার পেশা সমরবিদ্যা এজন্য আপনি ইউনিক, অন্যন্য; আলাদা করে আপনাকে চেনা যায়; ক্রিটিক্যালী দেখার স্বভাব অভ্যাসটার উৎস ওখানে – এ’এক ইউনিক কম্বিনেশন। আপনার প্রাণভোমরা ঐ ক্রিটিক্যালী দেখার স্বভাব, ভ্যালুজের এর মধ্যে।
এখন এর সাথে যোগ করলাম কঠিন হলেও বৈরী পরিবেশে জানা সত্যটা বলতে পারার ক্ষমতা; যে সৈনিকের মর্যাদা বুঝে এই গুণ সেখান থেকে এসেছে………
২. আমার পড়াশুনার অভ্যাস আমার কাছে খারাপ বলে মনে হয় না। কিন্তু কৌতুহল থাকলেও ‘৭৪র দুর্ভিক্ষ নিয়ে বেশি পড়াশুনা হয়নি, টুকরো টাকরা খাপছাড়া কিছু কথা ছাড়া, পাওয়া যায়নি বলে। এখানে আপনি এমন কতগুলো দেখা স্বাক্ষীর মত কথা বলেছেন যেগুলো আমি কোথাও দেখিনি বা শুনিনি; ফলে কান খাড়া করার মত। আমি নতুনকরে আমার মনে সাজানো ‘৭২-‘৭৫ সালের রাজনৈতিক ছবি, প্রকল্পগুলো নতুন করে সাজানোর দরকার বোধ করছি; আরও কী কী বিষয় আমাকে জানতে হবে তার তালিকা তৈরি করছি।
অলস ছেলে বলেছেন: পড়ছি। ভালো লেগেছে। শেখ কামাল আর সুলতানার বিয়ে নিয়ে আপনি যা বললেন একই কথা আমার আম্মাও বলতেন, আম্মা তখন ঢাবির ছাত্রী।
শেখ মণির অন্যায় দাপট, দেশের চার মূলনীতি অসামঞ্জস্যতা এ প্রসঙ্গগুলোতে ভাবনার উপাদান পেলাম। বিনয় হোক আর সত্যি হোক, আপনি আমড়া হলে বেশি মানুষের ক্ষতি নেই আপনার পরিবার পরিচিত গন্ডিতে সীমাবদ্ধ 🙂 কিন্তু নেতা আমড়া হলে জনগণের তো সমস্যা।
ফালতু মিয়া বলেছেন: আমার বড় ভাই সে সময় সেনাবাহিনীর একজন সাধারণ মানের সৈনিক ছিলেন, তার কাছ থেকে শোনা গল্পের সাথে মিলে যাচ্ছে হুবহু।
ধন্যবাদ শেষ পর্যন্ত টিকে থাকুন এই কামনা করি।
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: প্রতিবিপ্লবী বলেছেন:
—————->>> মি: প্রতিবিপ্লবী, হোয়াট ইজ র; উইথ ইউ…….???
উপড়ের প্রতিটা লাইন প্রমান করে আপনার মনমানসিকতা….!!!!

সাতজন বীর শ্রেষ্ঠ, আর কয়েক ডজন বীর উত্তমের সবাই সেনা বাহীনির| আপনার কথা মতো পুষ্ঠ গবাদী পশু, মুরগি দিয়া ভুড়িভোজন করায় ব্যস্ত থাকলে আজকের বা;লাদেশের ইতিহাস একটু ভিন্ন হতো|
বা;লাদেশের আর্মিদের নিয়ে আপনার হীন ধারনার নিন্দা করলাম|
রাজর্ষী বলেছেন: এই পর্বটা পড়ে মনে হলো যে আপনার পরিশ্রম যথার্থ কারন এটা খুবই গুরুত্বপুর্ন একটা পোস্ট।
তালহা তিতুমির বলেছেন: লিখে যান । অনেক অজানা বিষয় সামনে আসছে। সুলতানা কামালের মতো আরেকটা ভুয়া তথ্য সবাই সত্য বলে মানে সেটা হলো- মেজর ডালিমের স্ত্রীকে অপহরণ ও নির্যাতন করেছিলো শেখ কামাল। আসলে এ কুকর্মের নায়ক হলো আওয়ামিলীগ নেতা গাজী। আশা করি আপনি এ ধোয়াশাগুলো পরিষ্কার করবেন।
নাজনীন১ বলেছেন: ৭৪-এ আমার নানাও চট্টগ্রামে ছিলেন। আম্মার মুখে শুনেছি সেই রেশনের আটার কথা। উনারা অর্থের অভাবে সেকেন্ড হ্যান্ড শাড়ি কিনে পড়তেন। আমার শ্বশুরেরও পোস্টিং ঐ সময়ে চট্টগ্রামে ছিল। আমার হাজবেন্ডের মুখেও একই কথা শুনেছি। আমার ননদদের শ্বশুর টালের জামা কিনে দিতেন। আমার নানা এবং শ্বশুর দুইজনেই সরকারী চাকরী করতেন।
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: ভারতীয় সেনাবাহিনী কি বিহারীদের প্রটেক্ট করেছিল? এটার কোন সূত্র আছে?”
১৬ ডিসেম্বরের পর নারায়নগঞ্জ, মীরপুর, মোহাম্মদপুরসহ বিহারী অধ্যূষিত এলাকাগুলো ভারতীয় বাহিনী ঘিরে রেখেছিলো। কারণ বাইরের মিডিয়ায় এ নিয়ে বেশ প্রচারণা চলছিলো। হ্যা ভারতীয় বাহিনী বিহারীদের প্রটেক্ট করছিলো বাঙালীদের রোষ থেকে।
রোহান বলেছেন: ১৬তম ব্রিগেডের অনেক গল্প শুনেছি… আমার এক চাচা আছিলো মুক্তিযোদ্ধা যার সার্টিফিকেটই নাই, অথচ আব্বার আরেক চাচাতো ভাই (খুব সম্ভবত ৭১ এর আগে পুলিশে ছিলো, ৭১ জুড়ে দেলু রাজাকারের এলাকায় ঘুরাঘুরি কইরা টাইম পাস করছে, ৭১ এর পরে ১৬তম ব্রিগেডে জয়েন করে এবং কিভাবে কিভাবে সার্টিফাইড মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে আত্ম প্রকাশ করে এখন বেশ ভাল তবিয়তেই আছে, অনেক ছোটোবেলার কথা মনে পড়ে চিটাগাং এর আমাদের বাসায় বেড়াতে এসেছিলো, আব্বা অফিস থেকে ফোন করে বলে দিয়েছিলো চলে যেতে, সেই তখন এই ব্রিগেডের নাম শুনি…)
রোহান বলেছেন: পুরো পোষ্ট টা পড়ে কেমন একটা অসুস্থ বোধ হচ্ছে….. এইসব নরপশুদের প্রকাশ্যে টেনে চামড়া ছিলে ঝুলিয়ে রাখলেও এদের অপকর্মের শাস্তি দেওয়া শেষ হবে না… আর কিছুই বলার নাই… কিচ্ছু বলার নাই….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *