ওরা নতুন একগুচ্ছ ফুল

গত ১৫ অক্টোবর কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার সাবেক ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় এসে সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আপনারা হলেন ফুলবাড়ীর ফুল। এই ফুল আমরা নিজেদের মধ্যে পেয়েছি। আপনাদের আর কখনও ছিটমহলবাসী বলা হবে না। আপনারা এ দেশের নাগরিক। আপনাদের আর বঞ্চিত হতে হবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে অনেক আগেই আপনারা নাগরিক সুবিধা পেতেন। দীর্ঘ ৬৮ বছর আপনাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হতো না। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শুধু ভারতের সাথে স্থলসীমান্ত চুক্তিই করেন নি, আইনও পাস করেছিলেন। তবে ভারত এই আইন পাস করতে পারে নি। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর যারা ক্ষমতায় এসেছিলÑ জিয়া, এরশাদ, খালেদাÑ কোনো সরকারই স্থলচুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর আমি ভারতের সাথে স্থলসীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা শুরু করি। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে সীমানা চিহ্নিতকরণ ও প্রটোকল চুক্তি হয়। এর মধ্যে ভারতে কংগ্রেস সরকারের পরিবর্তন ঘটে। কিন্তু আমরা কাজ চালিয়েছি। এখন কী করে আপনাদের জীবন উন্নত করা যায়, তা দেখতে এখানে ছুটে এসেছি। আপনারা আমাদের আপনজন।
প্রধানমন্ত্রী ওই দিন সকালে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে ফুলবাড়ী আসেন। সেখান থেকে মোটর শোভাযাত্রায় ১৯ কিলোমিটার দূরে দাসিয়ারছড়ায় পৌঁছান সোয়া ১০টায়। এই সড়কটি নতুন করে মেরামত এবং সাবেক ছিটমহল দাসিয়ারছড়া পর্যন্ত ২ কিলোমিটার নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। এখানে কালীরহাট বাজারের পাশের নতুন প্রতিষ্ঠিত শেখ হাসিনা বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের পাশে মঞ্চে তিনি সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী দাসিয়ারছড়াসহ পঞ্চগড়ের সাবেক ছিট দহলা খাগড়াবাড়ী, কোটভাজনী, কাজলদীঘি, শালবাড়ী ও পুটিমারী এবং লালমনিরহাট জেলার সাবেক ছিট খারিজা শিয়ালদহ ১ ও ২ এবং নগরজিগাবাড়ীতে বিদ্যুৎ-সংযোগ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এসব এলাকার ২ হাজার ৫৬১টি পরিবারে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দাসিয়ারছড়ায় সোলার প্যানেল বিতরণ কাজেরও উদ্বোধন করেন। তিনি ৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে এবং তার কথা শুনতে দাসিয়ারছড়ার পথে নেমেছিল মানুষের ঢল। সকাল থেকেই আন্তঃজেলা সড়ক ও গ্রামের মেঠোপথে বাস, মোটরসাইকেল, ভটভটিতে বা বিস্তীর্ণ সবুজ ধানক্ষেতের ভেতরের সরু পথ দিয়ে হেঁটে অসংখ্য মানুষ কালীরহাট বাজার ও আশপাশের এলাকায় জমায়েত হন। ছোট ছোট ছেলেমেয়ে হাঁটছিল পতাকা নিয়ে। সবাই এসেছে সাধ্যমতো ধোপদুরস্ত পোশাকে। বিশেষত নারীদের সাজসজ্জা ছিল অনেকটা পহেলা বৈশাখ বা এ ধরনের সামাজিক উৎসবের সাজের মতো। বাজারের আশপাশে বসে গিয়েছিল নানা রকম খেলনা, বাঁশি, খাজা-গজা-জিলাপির দোকান। পুরোদস্তুর গ্রামীণ মেলার আবহ। পথে পথে তোরণ আর ব্যানার তো ছিলই, অনেক বাড়িতে, বড় বড় গাছের মাথায় উড়তে দেখা গেছে জাতীয় পতাকা। অনেকে স্লোগান দেন, ‘নিজ দেশে পরবাসী ছিলাম এত দিন/শেষ হবে না, শেষ হবে না শেখ হাসিনার ঋণ’।  অনুষ্ঠানের শুরুতে দাসিয়ারছড়াবাসীর পক্ষে হৈমন্তী শুক্লা, সংসদ সদস্য তাজুল ইসলাম চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী ও জেলা প্রশাসক মো. নূরুল আমিন বক্তব্য দেন।
জনসভা : দাসিয়ারছড়া থেকে ফুলবাড়ী হয়ে দুপুরে প্রধানমন্ত্রী আসেন কুড়িগ্রামে। বিকেলে সরকারি কলেজ মাঠে ছিল জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে জনসভা। বিশাল মাঠটি জনাকীর্ণ। পাশে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সড়ক, ঘোষপাড়া, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হয়ে উলিপুর সড়কজুড়ে ছিল মানুষের সুবিশাল সমারোহ। মুহুর্মুহু স্লোগানে পুরো এলাকা মুখর। বিকেল পৌনে ৪টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান ও তার দলের শিল্পীদের গাওয়া ‘স্বাগতম জননেত্রী শেখ হাসিনা স্বাগতম/করেছ মঙ্গামুক্ত করেছ উন্নয়ন’ গানটি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা দিয়ে সভার কাজ শুরু হয়। সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম ম-ল। জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আগে কুড়িগ্রামের পরিচয় ছিল মঙ্গা এলাকা হিসেবে। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে তিনি মঙ্গা দূর করেছিলেন। ২০০১ পর্যন্ত মঙ্গা ছিল না। এরপর আবার বিএনপি ক্ষমতায় এলে কুড়িগ্রামে পুনরায় মঙ্গা ও দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এসে যেসব উন্নয়ন কাজ করেছে, তাতে কুড়িগ্রাম থেকে চিরতরে মঙ্গা বিদায় নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জেলায় একটি শিশুপার্ক, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, দুধকুমার নদে সোনাহাট সেতু নির্মাণ এবং একটি বিশেষ শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা বলেন। কুড়িগ্রাম জেলায় ২০টি নতুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ২০টি প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে কৃষিজীবী হিমাগার স্থাপন, কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভবন নির্মাণ, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের ১০০ শয্যার দুটি পৃথক ছাত্র ও ছাত্রীনিবাস, বিজ্ঞান ভবন নির্মাণ ইত্যাদি। সভায় নাগরিক সমাজের পক্ষে বক্তব্য দেন লেখক সৈয়দ শামসুল হক। আরও বক্তব্য দেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী নূরুজ্জামান আহমেদ এমপি, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আলী প্রমুখ।

‘শেখ হাসিনা আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন’
সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, অবহেলা ও অন্ধকারের রজনি শেষে তারা এখন নতুন আলোর পথে যাত্রা করেছেন। ৬৮ বছর পর পেয়েছেন হাসপাতাল, বিদ্যুতের আলো, পাকা রাস্তাঘাট, ফায়ার সার্ভিস, বিটিসিএল অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে টেলিফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ, ডিজিটাল সেন্টার, স্কুল-কলেজ, পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, স্যানিটেশন, সুপেয় পানির জন্য গভীর নলকূপ স্থাপনসহ নাগরিক সকল সুযোগ-সুবিধা। শুরু হয়েছে ভূমির মালিকানা বণ্টনের কার্যক্রম। এই ভূমি জরিপের মাধ্যমেই সাবেক ছিটমহলবাসীর আতঙ্ক সাদা কাগজের দলিল বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তি অনেক বেশি হওয়ার আনন্দে এখন আত্মহারা বিলুপ্ত ছিটমহলের সব মানুষ। মুহূর্তের মধ্যেই হাতের কাছে নাগরিক সব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ায় যারা ভারতে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন, তারা এখন বাংলাদেশে থেকে যেতে চান। ইতোমধ্যে তারা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদনও করেছেন। কিন্তু তাদের আবেদন মঞ্জুর হওয়ায় পুরো বিষয়টিই নির্ভর করছে ভারত সরকারের ওপর। অবশ্য এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কূটনীতিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সরেজমিন পরিদর্শন করে এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সদ্য বিলুপ্ত দাসিয়ারছড়া ছিটমহলে (প্রস্তাবিত নাম ‘মুজিব-ইন্দিরা ইউনিয়ন’) ৩৩ কোটি ৬৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬৩৭ টাকার উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে একটি অত্যাধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স, ৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক, একটি নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি মাদ্রাসা স্থাপন করা হচ্ছে। অস্থায়ীভাবে ৩টি হেলথ কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান করা হচ্ছে। এলজিআরডির বিশেষ বরাদ্দে হচ্ছে একটি পাবলিক লাইব্রেরি কাম কমিউনিটি সেন্টার। উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও গভীর নলকূপ স্থাপনেরও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রসহ কৃষি খাতের ৭টি, বিআরডিবির ৭টি, সমবায় অধিদফতরের ৬টি ও মহিলা এবং শিশু মন্ত্রণালয়ের ৩টি প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের নতুন এই ইউনিয়নের সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। শিগগিরই জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের কার্যক্রম শুরু হবে। সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প। এ ছাড়া বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, দুস্থ ভাতা, টিআর, কাবিখা প্রকল্পের সুবিধাও পাচ্ছেন।
দীর্ঘদিনের পরাধীনতার শৃঙ্খলা থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাধীনতার স্বাদ পাওয়া দাসিয়ারছড়ার বাসিন্দা ফজলুল হক একেবারেই বিস্মিত। জীবনে কখনোই কল্পনা করেনি নাগরিক এসব সুযোগ-সুবিধা তাদের জীবনে আসবে, তাও আবার এত অল্প সময়ে। ৬৮ বছর দাসিয়ারছড়াতেই কাটানো এই কৃষক দুই মাস আগেও বাস করতেন ছিটমহলের বন্দী জীবনে; যেখানে নাগরিক পরিচয় বা মৌলিক অধিকারের প্রায় সব কিছুই ছিল অনুপস্থিত। নাগরিকত্বের স্বীকৃতি দিয়ে গত ৩১ জুলাই মধ্যরাত থেকে স্থল সীমান্ত চুক্তি কার্যকরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ছিটমহলের বিলুপ্তি ঘটে। একই সাথে অবসান ঘটে ৬৮ বছরের বন্দিত্বের। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন। আপন করে নিয়েছেন, তার কাছে ছিটমহলবাসী সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবে।
ছিটমহল বিলুপ্তির সময় দাসিয়ারছড়া থেকে ৩০৫ জন ভারতের নাগরিকত্ব নেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। তারা এখন আর কেউই ভারতে যেতে চান না। দাসিয়ারছড়ার কালিরহাট বাজার এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ভারতের নাগরিক হওয়ার আবেদন করে জীবনে যে একটা বড় ভুল করেছি, তা আজ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। এদেশে যে এত সুযোগ-সুবিধা পাব তা কখনও কল্পনাই করিনি। তাই আমি ভারতের নাগরিক হতে চাই না। এজন্য রফিকুল ইসলাম কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে একটি আবেদন করেছেন। আবেদন মঞ্জুর হলেই তিনি স্বস্তি পাবেন বলে জানান। ৬৮ বছরের অন্ধকার ঘুচে গেছে এক মিনিটেই। গত ১৫ অক্টোবর বেলা ১১টা ২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাসিয়ারছড়া গিয়ে সুইস টিপে আনুষ্ঠানিকভাবে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড়ের সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহলের প্রায় আড়াই হাজার পরিবারের মাঝে একযোগে বিদ্যুতের সংযোগ প্রদান করেন। এর মধ্যে দাসিয়ারছড়ার সাড়ে ৭০০ পরিবার বিদ্যুতের সুবিধা পাচ্ছে। রুহুল কুদ্দুস বলেন, জীবনে কল্পনাও করিনি বিদ্যুতের আলো ঘরে আসবে। মোজাফফর হোসেন বলেন, এলাকাবাসীর ৬৮ বছরের ক্ষুধা মুহূর্তের মধ্যে নিবারণ হয়ে গেছে।
গঙ্গারহাট থেকে কালিরহাট বাজার (দাসিয়ারছড়া এলাকাভুক্ত) পর্যন্ত সড়কটি প্রশস্ত করে পাকা করা হয়েছে। আগে এটি ছিল ‘আইল’। একসাথে একজনের বেশি যেতে পারত না। কালিরহাটের কবির হোসেন বলেন, শুধু এই রাস্তা নয়, দাসিয়ারছড়ার অধিকাংশ গ্রামের ভিতরের রাস্তার চিত্রও পাল্টে গেছে। এদিকে দাসিয়ারছড়ার কালিরহাট বাজারে ইটের তৈরি নতুন নতুন দোকান, হোটেল, অফিস, উপ-তথ্যকেন্দ্র, ব্যাংক, মসজিদসহ অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানের ঘর ইতোমধ্যে উঠে গেছে, আরও উঠছে। একপাশে নতুন টিনের বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। সাইনবোর্ডে লেখা শেখ হাসিনা বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত আগস্ট মাসের আগে কালিরহাট বাজারে টিনের বেড়া ও ছাউনি দেওয়া একটি চায়ের স্টল, আর বহু পুরনো এক পাকুড়গাছের তলায় কয়েকটি দোকান ছিল। দাসিয়ারছড়ায় ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে সেই ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন শামসুল হক। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছেন। আর তার কন্যা শেখ হাসিনা দাসিয়ারছড়াবাসীর স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু-কন্যার কারণেই দাসিয়ারছড়াবাসী ৬৮ বছর পর হলেও এখন স্বাধীনতার সুফল পাচ্ছে। এটা দাসিয়ারছড়াবাসীর অনেক বড় পাওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *