‘কবিতা মৈত্রীর, কবিতা শান্তির’

‘কবিতা মৈত্রীর, কবিতা শান্তির’ স্লোগান নিয়ে দেশি-বিদেশি কবিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩০তম জাতীয় কবিতা উৎসব-২০১৬। দুই দিনব্যাপী উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করেন কবি সৈয়দ শামসুল হক। চলমান সময়ের সোচ্চার দাবি নিয়ে দিনভর কবির বলা কথায় কিংবা কবিতার আশ্রয়ে উচ্চারিত হলো মানবতার জয়গান। প্রথম দিন জাতীয় সংগীত, একুশের গান, উৎসব সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা, উৎসব পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় কবিতা উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। এবারের ৩০তম উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে  কবি ও ভাষা সংগ্রামী তোফাজ্জল হোসেনকে।
সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয় উৎসব কার্যক্রম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার চত্বর থেকে বের হয় শোভাযাত্রা। এটি গিয়ে থামে চারুকলা সংলগ্ন জাতীয় কবির সমাধিসৌধে। সেখানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ও পটুয়া কামরুল হাসানের সমাধিতে নিবেদন করা হয় পুষ্পাঞ্জলি। এরপর শোভাযাত্রা এগিয়ে যায় ভাষা শহীদদের স্মারক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ সকল আন্দোলন-সংগ্রামে শহীদকে শ্রদ্ধা জানিয়ে অর্পণ করা হয় পুষ্পস্তবক।  উৎসবের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। আহ্বায়কের বক্তব্য রাখেন রবিউল হুসাইন। যুগ্ম আহ্বায়কের ভাষণ দেন কাজী রোজী। এ ছাড়া উদ্বোধনী আলোচনায় বক্তব্য রাখেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তারিক সুজাত। সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি মুহাম্মদ সামাদ। উদ্বোধনী পর্ব শেষে অনুবাদক ফকরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় ‘পোয়েট্রি ফর ফ্রেন্ডশিপ, পোয়েট্রি ফর পিস’ শীর্ষক আলোচনা। এতে অংশ নেন বাংলাদেশ, ভারত, সুইডেন, নরওয়ে, স্লোভাকিয়া, মরক্কো, তাইওয়ান ও নেপালের কবি-লেখকরা। তাদের মধ্যে ছিলেন ভারতের প্রাবন্ধিক শংকরলাল ভট্টাচার্য, সুইডেনের তিন কবি র্লাস হেগার, বেনত্ বার্গ ও লত্তে সেদেরহোলম, নরওয়ের এরলিং কিতেনসেন, স্লোভাকিয়ার মিলান রিচার, মরক্কোর বেনাইসা বোমালা, তাইওয়ানের ড. ফঅং ইয়া-চীন ও নেপালের পক্ষে ঢাকাস্থ নেপালের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত সুশীল কুমার লামসাল।
দ্বিতীয় পর্বে বেলা ১টায় সাযযাদ কাদিরের সভাপতিত্বে কবিতা পাঠে অংশ নেন নিবন্ধিত কবিবৃন্দ। তৃতীয় পর্বে বিকেল ৩টায় কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে অংশ নেন অন্যভাষার কবিবৃন্দ। চতুর্থ পর্বে বিকেল ৫টায় কবি রুবী রহমানের সভাপতিত্বে আমন্ত্রিত কবিবৃন্দ কবিতা পাঠ করেন। পঞ্চম পর্বে বিকেল সাড়ে ৬টায় কবি মহাদেব সাহার সভাপতিত্বে ভারত থেকে আমন্ত্রিক কবিবৃন্দ কবিতা পাঠ করেন। আবৃত্তি পর্বে নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদারের সভাপতিত্বে রাত ৮টায় আমন্ত্রিত আবৃত্তিশিল্পীবৃন্দ। ২ ফেব্রুয়ারি দুদিনব্যাপী উৎসবের শেষ হয়।

শেষ হলো জাতীয় কবিতা উৎসব
বাংলা কবিতা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কবিতা সম্মাননা পাচ্ছেন কবি বেলাল চৌধুরী এবং জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ২০১৬ পাচ্ছেন কবি সাযযাদ কাদির। আগামী বছর ৩১তম জাতীয় কবিতা উৎসবে তাদের এই সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত করা হবে।
গত ২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় কবিতা পরিষদ আয়োজিত ৩০তম জাতীয় কবিতা উৎসবের সমাপনী দিনে এ দুই কবির নাম ঘোষণা করেন পরিষদের সভাপতি মুহাম্মদ সামাদ।
শেষদিন সকালে সেমিনারের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপনী দিনের আয়োজনের সূচনা হয়। উৎসব মঞ্চে ‘কবিতা মৈত্রীর কবিতা শান্তির’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ। কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন কবি নূহ-উল-আলম লেনিন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, রফিকউল্লাহ খান, ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, দিলীপ দাস, মুনীর সিরাজ ও ব্রিটিশ কবি ও অনুবাদক জো উইন্টার। দ্বিতীয় অধিবেশনে কবি শিহাব সরকারের সভাপতিত্বে কবিতা পাঠে অংশ নেন নিবন্ধিত কবিবৃন্দ। কবি নাসির আহমেদের সভাপতিত্বে নিবন্ধিত কবিরা কবিতা পাঠ করেন তৃতীয় অধিবেশনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *