খালেদার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা, সমন জারি

‘মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে’Ñ এই মন্তব্যের কারণে এক আইনজীবীর করা ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ মামলা আমলে নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন আদালত। সমনে আগামী ৩ মার্চের মধ্যে আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে তাকে। ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ রাশেদ তালুকদার গত ২৫ জানুয়ারি এ আদেশ দেন। আদালতে বাদীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। এ সময় ঢাকা জেলার দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট খোন্দকার আবদুল মান্নান, মহানগর পিপি আবদুল্লাহ আবুসহ শতাধিক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ড. মোমতাজ উদ্দিন মেহেদী সেদিন সকালে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ মামলার অভিযোগ দায়ের করেন। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিরও আবেদন করা হয়। মামলায় দ- বিধির ১২৪(ক) ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগের পাশাপাশি ১২৩(ক) ধারায় বাংলাদেশ সৃষ্টির নিন্দা ও তার সার্বভৌমত্ব বিলোপে সমর্থন করা এবং ৫০৫ ধারায় জনগণের অনিষ্ট সাধন সহায়ক বিবৃতি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়। আদালত ৩টি ধারায়ই অভিযোগ আমলে নিয়ে সমন জারির আদেশ দেন। মামলার ৩টি ধারার মধ্যে ১২৪(ক) ধারায় সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন পর্যন্ত সশ্রম কারাদ- ও সর্বনি¤œ তিন বছর পর্যন্ত কারাদ- অথবা যে কোনো পরিমাণ অর্থদ-, দ-বিধির ১২৩(ক) ধারায় সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের সশ্রম কারাদ-সহ অর্থদ- এবং দ-বিধির ৫০৫ ধারায় সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদ- ও অর্থদ- অথবা উভয় দ-ের বিধান রয়েছে। মামলায় ‘আমাদের সময়’ পত্রিকার প্রকাশক এসএম বক্স কল্লোলসহ ৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
২৫ জানুয়ারি আদালতে দাঁড়িয়ে মামলার বাদী অ্যাডভোকেট মেহেদী তার জবানবন্দিতে বলেন, গত ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে খালেদা জিয়া শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। খালেদা জিয়া ওই সমাবেশে বলেন, ‘আজকে বলা হয়, এত লক্ষ লোক শহীদ হয়েছেন। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে আসলে কত লক্ষ লোক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। নানা বই-কিতাবে নানারকম তথ্য আছে।’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে খালেদা জিয়া দাবি করেন, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না। পরদিন আমাদের সময়সহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে এ সংবাদ প্রকাশ হয়। এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার পর একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিসহ একাধিক সংগঠন ও বিশিষ্টজন ওই বক্তব্যের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনকে ক্ষমা চাইতে বলেন।

খালেদার বাসার ফটকে সাঁটানো হলো সমন
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ফিরোজার গেটে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ মামলায় আদালতের সমনের কপি ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরের ৭৯ নম্বর রোডের ১ নম্বর বাসাটিতে খালেদা জিয়া বসবাস করছেন। খালেদার বিরুদ্ধে সমন নিয়ে গত ২৬ জানুয়ারি গুলশানের বাসার সামনে যান আদালতের জারিকারক (বার্তাবাহক)। কিন্তু ওই বাসার কেউ তা গ্রহণ করেন নি। পরে তা ওই বাসার গেটে ঝুলিয়ে দেন তিনি। ওই দিন সন্ধ্যায় ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখার নাজির মো. মাসুদ খান জানান, আজ (মঙ্গলবার) আমার স্বাক্ষরিত সমন দিতে আদালতের জারিকারক (বার্তাবাহক) মো. জাবিদ হোসেন বাচ্চু দুপুর ১২টায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসায় যান। সমন গ্রহণ করানোর জন্য তিনি বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত চেষ্টা করেন। কিন্তু কেউ সমন গ্রহণ করেন নি। পরে তিনি সমনটি খালেদা জিয়ার বাসভবনের ফটকে সাঁটিয়ে চলে আসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *