খালেদা জিয়াকে অগ্নিসন্ত্রাসের জবাব দিতে হবে

রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে গত ১৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের এক অনুষ্ঠানে এসে দুর্বিষহ কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অঝোর ধারায় কাঁদলেন আগুনে পুড়ে যাওয়া মানুষ। পুড়ে যাওয়া-পরবর্তী তাদের যন্ত্রণাদগ্ধ জীবন সংগ্রামের কথা আবেগতাড়িত করেছেন শ্রোতাদেরও। ২০১৪ সালের আলোচিত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামাত জোটের ভয়াল ও বীভৎস্য সহিংসতার দুঃসহ স্মৃতির কথা উল্লেখ করে পুড়ে যাওয়া মানুষরা নিজেরা কাঁদলেন এবং শ্রোতাদেরও কাঁদালেন।
আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-পরিষদের আয়োজনে বিএনপি-জামাতের ভয়াল তা-ব ও অগ্নিসন্ত্রাসের খ-চিত্র প্রদর্শন শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে খালেদা জিয়াই সংলাপের পরিবেশ নষ্ট করে দিয়েছিলেন। যারা গণতন্ত্রের জন্য মায়াকান্না করেন তাদের আগুন সন্ত্রাসে পঙ্গু হওয়া মানুষের আহাজারি, আর্তনাদের জবাব দেবে কে? তারা গণতন্ত্র উদ্ধারের জন্য মায়াকান্না করছেন, নাকি গণতন্ত্র হত্যার জন্য মায়াকান্না করছেন? দেশবাসীকে এদের ব্যাপারে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।
বগুড়ার ট্রাকচালক পটল মিয়া তার পুড়ে যাওয়ার স্মৃতি বর্ণনা করে বলেন, আমার আপন ভাইও যদি এই অপরাধ করে থাকে, তবে তারও যেন কঠিন শাস্তি হয়। রিকশাচালক অমূল্য চন্দ্র বর্মণ কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, পঞ্চগড় থেকে পেটের দায়ে নারায়ণগঞ্জ এসে রিকশা চালানো শুরু করি। কিন্তু বাড়ি যাওয়ার সময় তেজগাঁওয়ে আমাকে পেট্রলবোমা মেরে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ী রেজাউল করিম জানান, চট্টগ্রামে আলু নিয়ে যাওয়ার সময় বগুড়ার মহাস্থানগড়ে ট্রাকে আগুন দেওয়া হয়। আগুন লাগানোর পর ট্রাক থেকে যেন বের হতে না পারি সেই ব্যবস্থাও করে সন্ত্রাসীরা। আমার হাত, মাথা, শরীর পুড়ে যায়। আমি এই তা-বের বিচার চাই।
এ ছাড়া কক্সবাজার থেকে যশোরে ঘরে ফেরার সময় শিশু মায়শা ও তার বাবা পেট্রলবোমায় পুড়ে মারা যান। অনুষ্ঠানে মায়শার মা কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, চোখের সামনে শিশুসন্তান ও স্বামীকে পুড়ে যেতে দেখেছি। আমাদের কী অপরাধ ছিল? আমার সন্তান বাঁচার জন্য কাঁদছিল; কিন্তু আমি বাঁচাতে পারিনি। তিনি বলেন, আমার মায়শার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হবে। আমি ডাক্তার মায়শার মা হয়ে বাঁচতে চেয়েছিলাম, মৃত মায়শার মা হয়ে বাঁচতে চাইনি। আমি ১৬ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে এর বিচার চাই। ৫ জানুয়ারি নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার বিষয়ে তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্রের জন্য মায়াকান্না করেন তাদের আগুন সন্ত্রাসে পঙ্গু হওয়া মানুষের আহাজারি, আর্তনাদের জবাব দেবে কে? নির্বিচারে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার জবাবইবা কে দেবে?
আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল ও অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ। সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ৫ জানুয়ারি নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার শিকার নায়েক দুলু মিয়া, নিহত মাইশার মা মারুফা খাতুন, পিয়ারুল ইসলাম, ট্রাকচালক পটল মিয়া, আলু ব্যবসায়ী রেজাউল করিম, কাভার্ডভ্যান চালক মিষ্টি মিয়া ও রিকশাচালক অমূল্য চন্দ্র বর্মণকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *