গেরিলা ম্যানুয়েল (১৯৭১) : মেজর এম এ মঞ্জুর

বাংলার মুক্তিযুদ্ধ (গেরিলা বাহিনীর নির্দেশাবলী)

“এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম।” – বঙ্গবন্ধু

প্রণীত

সেনানায়ক
দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী

একটি সংগ্রামী ফরিয়াদ

ভায়েরা,
আজ আমরা আমাদের মাতৃভূমির স্বাধীনতা সংগ্রামে লিপ্ত। পশ্চিম পাকিস্তানী সামরিক গোষ্টী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে যে নৃশংসভাবে নির্বিচারে বাঙালী হত্যা করছে, আমাদের মা-বোনকে ধর্ষন করেছ ও আমাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে সম্পদ লুটে আমাদেরকে গৃহহারা করে চলেছে তার বিরুদ্ধে আমরা রুখে দাঁড়িয়েছি। আমাদের যুদ্ধ ততদিন পর্যন্ত চলবে যতদিন পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী সমূলে নিপাত না হবে এবং বাংলাদেশ সম্পূর্ণ স্বাধীন না হবে। শত্রু নিপাত করার জন্য শত্রুকে জানা দরকার ও তার রণকৌশল সম্পর্কে জ্ঞান থাকা নিতান্ত প্রয়োজন। আমাদের শত্রু সুসজ্জিত ও সংখ্যাধিক। তার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের সময় এখনো হয়নি। আমরা এখনো গেরিলা রণকৌশল ব্যবহার করছি। অতর্কিতে শত্রুর উপর হামলা করে তার সর্বাধিক ক্ষতিসাধন করতে হবে। দেখতে হবে শত্রু যেন তার দৈনিক সরবরাহ না পায় ও কোথাও নিরাপদ অনুভব না করে।
আমি বিশ্বাস করি যে, মুক্তিযুদ্ধের যে নির্দেশাবলী এই লিপিকায় দেওয়া হয়েছে তা পুরোপুরি পালন করলে আমরা সফলকাম হবো।
খোদা মোদের সহায়- জয় আমাদের সুনিশ্চিত। জয় বাংলা।

এমএ মঞ্জুর
সেনানায়ক

আমরা বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী
আমাদের কাম্য : বাংলাদেশের স্বাধীনতা
আমাদের শত্রু : বিবেকহীন পশ্চিম পাকিস্তান সরকার ও বর্বর হানাদার সেনারা, যারা-
* শিশু, নারী, বৃদ্ধ নির্বিচারে বাঙালীদের হত্যা করছে
*ঘৃন্যতম উপায়ে আমাদের মা-বোনকে হত্যা করছে
*আমাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে
*আমাদের সম্পদ লুটে লক্ষ লক্ষ নিরপরাধ নরনারীকে দেশছাড়া করছে
*বাঙালী জাতিকে ধ্বংস করার জন্য আমাদের মাঝে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করছে।

আমাদের পণ: খোদার উপর বিশ্বাস রেখে মরণপণ সংগ্রাম অক্ষুণ্ন রাখব, যতক্ষণ না আমাদের শেষ শত্রুটিকে দেশ ছাড়া করব এবং বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্ররূপে প্রতিষ্ঠিত হতে দেখব। (চলবে)

ছবি: জয়নুল আবেদীন

লেখাটি একইসঙ্গে সচলায়তনে প্রকাশিত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *