গোলাম আযম এর কার্যকলাপ……পটভূমি ১৯৭১


গোলাম আযম বাংলাদেশে বসবাসরত একজন রাজনৈতিক নেতা,।তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী হিসাবে পরিচিত। ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেন এবং ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরও তিনি বাংলাদেশ বিরোধী কর্মকান্ড চালিয়েছেন বিদেশের মাটিতে।১৯৭১ সালে স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকান্ডের জন্য বাংলাদেশ সৃষ্টির পর তার নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছিল। গোলাম আযমের জামায়াত-ই-ইসলামী বাংলাদেশ এক মাত্র রাজনৈতিক দল যারা ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদদের প্রতি এবং ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে যান না, যদিও বাংলা ভাষা দিবসকে জাতি সংঘ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দিয়েছে। তাকে বাংলাদেশের সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি হিসাবে গণ্য করা হয়।

১৯৭১ সালে গোলাম আযম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের তীব্র বিরোধিতা করেন। গোলাম আযম মুক্তিযুদ্ধের শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিরোধিতাই করেননি বরং তিনি এবং তাঁর দল জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সাহায্য করতে রাজাকার, আলবদর, আলশামস্ প্রভৃতি বাহিনী গড়ে তোলেন। এরা পুরো মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী বাহিনীর পক্ষে কাজ করে।

২৫ শে মার্চ রাতে সংঘটিত অপারেশন সার্চলাইট এর ছয় দিন পর গোলাম আযম ঢাকা বেতার কেন্দ্র থেকে একটি ভাষণ দেন। এ ভাষণে তিনি বলেন, ” ভারত সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারী প্রেরণ করে কার্যত পূর্ব পাকিস্তানীদের দেশপ্রেমকে চ্যালেঞ্জ করেছে।…আমি বিশ্বাস করি যে, এই অনুপ্রবেশকারীরা পূর্ব পাকিস্তানীদের নিকট হেত কোন প্রকার সাহায্য পাবে না। সূত্র: দৈনিক সংগ্রাম, ৭ এপ্রিল ১৯৭১

দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় ১৩ এপ্রিল, ১৯৭১ তারিখে প্রকাশিত খবরে বলা হয় ১২ এপ্রিল ১৯৭১ তারিখে পরিচালিত শান্তি কমিটির মিছিল শেষে গোলাম আযমের নেতৃত্বে পরিচালিত মোনাজাত সম্পর্কে বলা হয়,“পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে সত্যিকারের মুসলিম সৈনিক হিসেবে দেশরক্ষার যোগ্যতা অর্জনের জন্য আল্লাহর দরগাহে দোয়া করেন। সত্যিকারের মুসলমান ও পাকিস্তানী হিসেবে বেঁচে থাকার ও পাকিস্তানে চিরদিন ইসলামের আবাসভূমি হিসেবে টিকিয়ে রাখার জন্য সর্বশক্তিমানের নিকট দোয়া করেন।”

৩০শে জুন লাহোরে সাংবাদিকদের কাছে গোলাম আযম বলেন, “তাঁর দল পূর্ব পাকিস্তানে দুস্কৃতকারীদের(মুক্তিযোদ্ধা) তৎপরতা দমন করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে এবং এ কারণেই দুস্কৃতকারীদের হাতে বহু জামায়াত কর্মী নিহত হয়েছে। সুত্রঃদৈনিক সংগ্রাম,৪ জুলাই,১৯৭১।

The head (Amir) of the collaborators (Rajakar) of Pakistani occupation army and a heinous war criminal, The vile monster behind the genocide of 1971, rapes and molestation of 45,00,000 Bengali women and murder of hundreds of pro Bangladesh intellectuals. In one of the photos recovered from the archive of Pakistan military intelligence Gholam Azam and his top associate Motiur Rahman Nizami are seen handing the list of the names of progressive Bangalee intellectuals over to the Pakistani generals for elimination. The guru of extremist Islamic ideologies in Bangladesh. The Leader of 70,000 Razakars, Al-Badr and Al-Sams forces. (New York Times, 30 July,1971).

পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামের আমীর গোলাম আজম লাহোরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে, পূর্ব পাকিস্তানিরা রাজনৈতিকভাবে অনুভব করেন, প্রশাসনে তাদের সমানাধিকারকে অস্বীকার করা হয়েছে এবং যারা পাকিস্তানের আদর্শে বিশ্বাসী নয় তারা এই মনোভাবকে কাজে লাগিয়েছে। এছাড়া যুক্ত নির্বাচন প্রবর্তনের ফলে পূর্ব পাকিস্তানে বহু অমুসলিম থাকার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের সুযোগ লাভ করে। বে-আইনী আওয়ামী লীগ তার অন্যতম।গোলাম আজম আরোও বলেন , শেখ মুজিবুর রহমানের বিচ্ছিন্ন হবার ইচ্ছা ছিল কিন্তু তিনি কখনো তা উথলন করেননি। তবে ৬-দফা স্বাধীনতার পথ সুগম করে দিত।সুত্রঃ দৈনিক সংগ্রাম ,২৩ আগষ্ট ১৯৭১।

ছবিঃ গোলাম আযম ও পাকিস্তানের মালেক এর পাকিস্তানী সৈন্যদের আলোচনা।
সুত্রঃwikipedia

১৯৭১ সালের ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর দৈনিক সংগ্রাম এ গোলাম আযমের পশ্চিম পাকিস্তান সফরকালের একটি সাক্ষাৎকারের পূর্ণ বিবরণ দুই কিস্তিতে ছাপা হয়। এই সাক্ষাৎকারে তিনি মুক্তিবাহিনীর সাথে তার দলের সদস্যদের সংঘর্ষের বিভিন্ন বিবরণ ও পূর্ব পাকিস্তান পরিস্থতির ওপর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন,”বিচ্ছিন্নতাবাদীরা জামায়াতকে মনে করে পহেলা নম্বরের দুশমন। তারা তালিকা তৈরি করেছে এবং জামায়াতের লোকদের বেছে বেছে হত্যা করছে, তাদের বাড়িঘর লুট করছে জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং দিচ্ছে। এতদসত্বেও জামায়াত কর্মীরা রাজাকারে যোগ দিয়ে দেশের প্রতিরক্ষায় বাধ্য। কেননা তারা জানে ‘বাংলা দেশে’ ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য কোন স্থান হতে পারে না। জামায়াত কর্মীরা শহীদ হতে পারে কিন্তু পরিবর্তিত হতে পারে না”।সুত্রঃ দৈনিক সংগ্রাম, ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭১

সেপ্টেম্বরের ১৭ তারিখে,ঢাকার মোহাম্মাদপুরের আল-বদরদের হেডকোয়ার্টার এবং রাজাকার প্রশিক্ষণকেন্দ্ ফিজিকাল ট্রেনিং কলেজ পরিদর্শনকালে রাজাকারদের সম্পর্কে বলেন”রাজাকার কারও নির্দিষ্ট দল নয়,রাজাকার সকলের যারা পাকিস্তান বিশ্বাস করে।”
সুত্রঃhttp://www.scribd.com/doc/13168752/Golam-Azam-1971

অক্টোবরের ১৬ তারিখ,বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে একটি জনসভায় তিনি বলেন,সমগ্র দেশে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে তার জামাত শান্তি বাহিনীর সাথে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সুত্রঃhttp://www.scribd.com/doc/13168752/Golam-Azam-1971

যখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূর্য উদিত হবার পথে,সেই অবস্থা পর্যবেক্ষন করে গোলাম আযম নভেম্বরের ২১ তারিখ পাকিস্তান থেকে একটি টেলিগ্রাম পেয়ে পূর্ব পাকিস্তান ত্যাগ করেন এবং ১৯৭৮ সালের আগে আর বাংলাদেশে আসেননি।

পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামের আমীর গোলাম আজম লাহোরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে, পূর্ব পাকিস্তানিরা রাজনৈতিকভাবে অনুভব করেন, প্রশাসনে তাদের সমানাধিকারকে অস্বীকার করা হয়েছে এবং যারা পাকিস্তানের আদর্শে বিশ্বাসী নয় তারা এই মনোভাবকে কাজে লাগিয়েছে। এছাড়া যুক্ত নির্বাচন প্রবর্তনের ফলে পূর্ব পাকিস্তানে বহু অমুসলিম থাকার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের সুযোগ লাভ করে। বে-আইনী আওয়ামী লীগ তার অন্যতম।গোলাম আজম আরোও বলেন , শেখ মুজিবুর রহমানের বিচ্ছিন্ন হবার ইচ্ছা ছিল কিন্তু তিনি কখনো তা উথলন করেননি। তবে ৬-দফা স্বাধীনতার পথ সুগম করে দিত।
সুত্রঃ ২৬শে নভেম্বর, দৈনিক সংগ্রাম ১৯৭১।

ডিসেম্বরের ৩ তারিখে করাচি থেকে তিনি বলেন,”একজন পুর্ব পাকিস্তানী ভারতের মাটিতে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে এবং বাংলাদেশ নামক প্রহসন ও তামাশা সৃষ্টি করে বিশ্বের মাটিতে পাকিস্তানের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।“
সুত্রঃ //www.scribd.com/doc/13168752/Golam-Azam-1971

বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও এর পরও গোলাম আযম লন্ডনে পাকিস্তানীদের সাথে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে গেছেন যার খবর দিয়েছে স্বাপ্তাহিক বিচিত্রা,লন্ডন ১৯৭৪। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৮ সালে মায়ের অসুস্থতার কথা বলে গোলাম আযম পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে সাময়িক ভাবে বাংলাদেশে আসেন এবং কোন ভিসা ছাড়াই ১৯৭৮-১৯৯৪ পর্যন্ত বাস করেন। এরপর বাংলাদেশের আদালত তাকে জন্মসুত্রে বাংলাদেশী নাগরিকত্ব প্রদান করলে তার আর এদেশে থাকার কোনো বিধিনিষেধ থাকেনি।আমাদের সবার চোখের সামনে দিয়ে আজও তিনি নির্ভয়ে বিচারবিহীন অবস্থায় ঘুরে বেরাচ্ছেন।
শহীদ জননী জাহানারা ইমাম ৭১ এর ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি গঠন করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধে যারা পাকিস্তানীদের সাহায্য করেছিলেন তাদের বিরুদ্ধে।তিনি তার মৃত্যুর শেষ দিন পর্যন্ত গোলাম আযমদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের লোকজ়নকে রুখে দাড়ানোর জন্যে বলে গেছেন।তিনি তার মৃত্যুশয্যায় লিখে গেছেন,
My Appeal and Directives to the people of Bangladesh (From Shahid Janani Jahanara Imam)
My fellow warriors,
You have been fighting the evil forces of Golam Azam and his war criminals of 1971, along with the detractors of a free Bangladesh for the last three years. As a nation of Bangalees, your unity and courage has been unparallel. I was with you at the start of our struggle. Our resolve was to remain in battle until we had achieved our objective. Stricken with the fatal disease of cancer, I am now facing my final days. I have kept my resolve. I did not leave the battle. But I cannot stop the inevitable March of death. Therefore, I once again remind you of our resolve to fight until our goal is attained. You must fulfill your commitment. You must stand united and fight to the very end. Even though I will not be among you. I will know that you— my millions of Bangalee children—- will live in a free Golden Bengal with your sons and daughters.We still have a long and arduous road ahead. People from all walks of life has joined this battle. People from different political and cultural groups, freedom fighters, women, and students, and youths have all committed themselves to the battle. And I know that there is no one more committed than the people. People are power. So I commit the responsibility of the fight to bring Golam Azam and the war criminals of 1971 to justice and to continue to champion the Spirit of the Liberation War to you— the people of Bangladesh. For certain, victory will be ours.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *