ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি যেন ক্ষুন্ন্য না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ছাত্রলীগের ইতিহাস বাঙালির প্রতিটি অর্জনের সাথে জড়িত। আর তাই ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনের ভাবমূর্তি যাতে কোনোভাবেই ক্ষুণœ না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। শিক্ষা-শান্তি-প্রগতি ছাত্রলীগের এই মূল নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আমি এটুকুই চাইব, ছাত্রলীগ যেন সব সময় একটা আদর্শ নিয়ে চলে। কারণ আদর্শহীন সংগঠন ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষা করতে পারে, জাতির স্বার্থ রক্ষা করতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অনেক ঝড়-ঝাপ্টা, বাধা-বিঘœ অতিক্রম করতে হয়েছে। বারবার আঘাত এসেছে। শুধু দেশের ভেতরে নয়, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হয়েছে। সততার শক্তি থেকেই এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলার শক্তি পেয়েছি। সততার শক্তি অপরিসীম। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। এই অগ্রযাত্রা আর কেউ রুখতে পারবে না ইনশাল্লাহ।
গত ২৫ জুলাই রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উপমহাদেশের প্রাচীন ও বৃহৎ ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দুদিনব্যাপী ২৮তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ অভিশাপমুক্ত হচ্ছে। এই খুনির রাজত্ব আর যাতে দেশে ফিরে আসতে না পারে সেজন্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দীর্ঘ ২১ বছর বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের লালন-পালন ও পুরস্কৃত করা হয়েছে। তবে আমার প্রতিজ্ঞা ছিল একদিন না একদিন বাংলার মাটিতে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের মুখোমুখি করব। জনগণের অকুণ্ঠ ভালোবাসা ও সমর্থনে আমরা সে প্রতিজ্ঞা পূরণ করেছি। তবে এজন্য আমাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু সব বাধা অতিক্রম করে আমরা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করেছি। শুধু সততার শক্তির জোরেই এসব গুরুদায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হয়েছি। এজন্য ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের গড্ডলিকায় গা না ভাসিয়ে সততার জোরে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গঠনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পড়াশোনা করার জন্য ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হাতে আমি খাতা-কলম তুলে দিয়েছিলাম। তাই নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে এ সংগঠনের ইতিহাস-ঐতিহ্যের কথা মনে রাখতে হবে। যারা নিয়মিত ছাত্র, মেধাবী ও পড়াশোনায় মনোযোগী তাদের হাতেই আগামী দিনের নেতৃত্ব তুলে দিতে হবে। এই নেতৃত্ব যাতে চাপিয়ে না দিয়ে নির্বাচিত হতে পারে সে ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এভাবে নেতৃত্ব উঠে এলে সংগঠন শক্তিশালী হবে, এগিয়ে যাবে।
সারাদেশ থেকে আগত ছাত্রলীগের কাউন্সিলর ও ডেলিগেটরাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের লক্ষাধিক নেতাকর্মী মিছিল সহকারে সম্মেলনস্থলে সমবেত হন। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জাতীয় পতাকা ও ছাত্রলীগের নিজস্ব পতাকা, রং-বেরঙের বেলুন, ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে সুসজ্জিত করা হয়। সংগঠনটির রং-বেরঙের ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে দৃষ্টিনন্দন টুপি-গেঞ্জি পরিহিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে সেখানে রীতিমতো উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে। দীর্ঘ চার বছর পর অনুষ্ঠিত এই জাতীয় সম্মেলনকে ঘিরে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সুশৃঙ্খল পরিবেশে মুহুর্মুহু স্লোগান আর বাদ্যের তালে তালে নেচে গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শুধু বর্তমান নেতৃত্বই নয়, সুদীর্ঘ সময়ে ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনটির নেতৃত্ব পাওয়া সাবেক নেতাদের পদচারণাতেও মুখর হয়ে ওঠে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। সম্মেলনকে ঘিরে রীতিমতো নবীন-প্রবীণ ছাত্রলীগের নেতাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ‘বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা টাওয়ার’ সংলগ্ন স্থানে বিশাল মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা বক্তব্য দেন। সামনেই বিশাল প্যান্ডেলে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সংগঠনের কাউন্সিলর ও ডেলিগেটসসহ সংগঠনের সাবেক নেতৃবৃন্দ, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা বসেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেলা ১১টার কিছু পরে সম্মেলনস্থলে পৌঁছলে লক্ষাধিক নেতাকর্মী গগনবিদারী স্লোগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। এরপর শেখ হাসিনা জাতীয় সংগীতের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় ছাত্রলীগের সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমসহ দেশের ১০১টি সাংগঠনিক জেলা ইউনিট এবং বিদেশের ৯টি শাখার নেতারা সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে আসন গ্রহণ করলে তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। এ সময় ভিশন-২০২১ এবং ভিশন-২০৪১ কে সামনে রেখে প্রস্তুতকৃত একটি ক্রেস্টও তারা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। পরে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সংগীত পরিবেশিত হয়। এ সময় ‘শোন একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কণ্ঠস্বরের ধ্বনি প্রতিধ্বনি আকাশে বাতাসে ওঠে রণি, বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ’ কালজয়ী এই দেশাত্মবোধক গানের সাথে সমবেত নৃত্যও পরিবেশন করা হয়। এরপরই শুরু হয় সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা। সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন দফতর সম্পাদক শেখ রাসেল।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার ৪২ মিনিটের বক্তব্যে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ এবং দেশের সব গণতান্ত্রিক ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ছাত্রলীগ ও এই সংগঠনের নেতা-কর্মীদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। বঙ্গবন্ধুর একটি উদ্ধৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু ভোগের কথা চিন্তা করে যারা নেতৃত্ব দেবে, তারা দেশকেও কিছু দিতে পারবেন না, জাতিকেও কিছু দিতে পারবে না। ত্যাগের মনোভাব নিয়ে রাজনীতি করতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রলীগ জাতির সব অর্জন ও উন্নয়নের সাথে জড়িয়ে রয়েছে। যখন বাঙালির ওপর আঘাত এসেছে, তাদের ভাষার অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা চলেছেÑ তখনই এই সংগঠনের জন্ম। সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামেও ছাত্রলীগ কখনো পিছিয়ে থাকেনি। শহীদদের তালিকায়ও দেখা যাবে প্রতিটি অর্জনে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাই বেশি জীবন দিয়েছেন। তিনি বলেন, আজ যারা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে, তারাই একদিন জাতির চালিকাশক্তি হবে কিংবা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসবে। আজ আমরা যারা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে রয়েছি, আমরাও একদিন ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবেই কাজ শুরু করেছিলাম। এজন্য ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সুশিক্ষায় সুশিক্ষিত হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। বঙ্গবন্ধু বলতেন যে কোনো মহৎ অর্জনের জন্য বড় ত্যাগ করতে হবে। ছাত্রলীগকে বঙ্গবন্ধুর এই আদর্শে গড়ে উঠতে হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ছাত্রলীগের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের ঝনঝনানি ও একযোগে সারাদেশে বোমাবাজি দেখা গেছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি দেশে শান্তিপূর্ণ অবস্থা ফিরিয়ে আনতে। শিক্ষার মান যেন বজায় থাকে, দেশ যেন শান্তিপূর্ণ হয়Ñ সেদিকে লক্ষ্য নিয়েই নেতা-কর্মীদের কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ছাত্রলীগ করেই আজ এই নেতৃত্বে এসেছি। ছাত্রলীগের কর্মী থাকলেও নেতা হওয়ার সুযোগ আমার কখনো হয়নি। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আমাকে কখনো একটা সদস্য পদ দেওয়া হয়নি। এটা আমার একটা দুঃখ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের চরম দুঃসময়ে প্রতিটি আন্দোলনেই আমি রাজপথে ছিলাম। সেই স্কুল জীবন থেকে। আজিমপুর গার্লস স্কুলে পড়ার সময় গেট ও ওয়াল টপকিয়ে মিছিলে যোগ দিতাম। কলেজেও সেভাবেই যোগ দিয়েছি। শেখ হাসিনা বলেন, ইডেন ইন্টারমিডিয়েট কলেজে আমি ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটির একজন সামান্য সদস্য ছিলাম।
ছাত্রলীগের সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগের সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি, সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক জয়দেব নন্দী, অভ্যর্থনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক আবদুল কাদের মহিউদ্দিন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুমন কু-ু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি বলেন, যে বাংলাদেশ ছিল রিক্ত, নিঃস্ব, সেই বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ সারাবিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। তিনি বলেন, এদেশের যদি সবচেয়ে বেশি ক্ষতি কেউ করে থাকে, সে হচ্ছে জিয়াউর রহমান।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি বলেন, বিশ্বায়নের যুগে অনেক আধুনিক দেশেই ছাত্র রাজনীতি এখন বিলুপ্তির পথে। কেননা সেখানকার ছাত্ররা তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এখন নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত, দেশ ও জাতির দিকে তাদের মনোযোগ কম। কিন্তু উপমহাদেশের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ এখনও দেশ ও জাতির জন্য আত্মোৎসর্গ করে যাচ্ছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, দেশকে বদলাতে হলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের আচরণ পরিবর্তন করতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নের উপযোগী হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়–ন। তা হলে রাজনীতি কিংবা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে শিখতে হবে না। মুজিব পরিবারকে জানুন। তা হলে সব কিছু শিখতে পারবেন।

ছাত্রলীগের নয়া কমিটি
সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ
সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন
দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের ২৮তম জাতীয় সম্মেলনে সাইফুর রহমান সোহাগ (২৮) সভাপতি ও জাকির হোসেন (২৫) সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী দুই বছর তারা ছাত্রলীগকে নেতৃত্ব দেবেন। ছাত্রলীগের দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের সমাপনী দিন গত ২৬ জুলাই রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে তারা নির্বাচিত হন। ভোট গণনা শেষে রাতে তাদের নাম ঘোষণা করা হয়। একই দিন আজিজুল হক রানাকে সহ-সভাপতি, আসাদুজ্জামান নাদিমকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মোবারক হোসেনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। শিগগিরই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।
সভাপতি পদে ২ হাজার ৬৯০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন সাইফুর রহমান সোহাগ। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে ২ হাজার ৬৭৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জাকির হোসেন। সারাদেশের মোট ১০১টি ও প্রবাসের ১০ ইউনিটসহ মোট ১১১টি ইউনিটের ৩ হাজার ১৮৩ কাউন্সিলরের মধ্যে ২ হাজার ৮১৯ কাউন্সিলর ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সভাপতি পদে ১০ ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
সোহাগ-জাকিরের ছাত্র রাজনীতি শুরু যেভাবে : সাইফুর রহমান সোহাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ¯œাতক ও ¯œাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর এখন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগে ¯œাতকোত্তর শ্রেণিতে পড়ছেন। ২০০২ সালে এসএসসি এবং ২০০৪ সালে এইচএসসি পাস করার পর ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।
অন্যদিকে নতুন সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়ে ¯œাতক ও ¯œাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর এখন এমফিল করছেন। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু ল’ কলেজে আইন নিয়ে পড়াশোনা করছেন তিনি। জাকির ২০০৫ সালে নরসিংদীর জামিয়া মাদ্রাসা থেকে বিজ্ঞান বিভাগে দাখিল পাসের পর ২০০৭ সালে ঢাকার রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।

গণভবনে নবনির্বাচিত ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ছাত্র রাজনীতির মর্যাদা ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব ছাত্রলীগকে নিতে হবে। ছাত্রদের প্রতি মানুষের যে আস্থা ও বিশ্বাস ছিল সেটি ফিরিয়ে আনতে হবে। লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে ত্যাগের মনোভাব নিয়ে জনগণের সেবায় কাজ করার জন্য ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার জন্য জাতির পিতা এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দেশের ইতিহাসে প্রতিটি অর্জনের পেছনে ছাত্রলীগের অবদান রয়েছে। গত ২৭ জুলাই বিকেলে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত কমিটির নেতারা সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। ছাত্রলীগের নতুন সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৪৮ সাল থেকে ছাত্রলীগ দেশের জনগণকে মুক্তির পথ দেখিয়ে আসছে। ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমাদের মাঝ থেকেই আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনা কারা করবে তা উঠে আসবে। তাই আদর্শ দিয়ে চলতে হবে। কারণ আদর্শ ও নীতি ছাড়া কোনো নেতৃত্ব গড়ে উঠতে পারে না। লোভ, লালসার ঊর্ধ্বে উঠে ত্যাগের মনোভাব নিয়ে জনগণের সেবা করতে হবে। এটাই জাতির পিতার আদর্শ।
ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ২৮তম জাতীয় সম্মেলনের কাউন্সিলররা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় অনুষ্ঠানস্থলে এলে হলভর্তি নেতাকর্মীরা তুমুল করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান। ২৭ জুলাই ছিল সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন। জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর মধ্যেই অনুষ্ঠানে প্রবেশ করেন শেখ রেহানার ছেলে রেদওয়ান সিদ্দিক ববি। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানস্থলে এলে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্রলীগ শক্তিশালী ছিল বলেই অতীতের সকল চড়াই-উৎরাই পার করা সম্ভব হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আদর্শ নিয়েই সবাইকে তৈরি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আদর্শ নিয়ে সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। আদর্শহীন সংগঠন হলো কা-ারিহীন নৌকার মতো। কোথায় ভেসে যাবে কেউ জানে না। তিনি বলেন, ছাত্রলীগ ছিল বঙ্গবন্ধুর অগ্রগামী দল। প্রতিটি ক্ষেত্রেই অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের মূল কথাটা হচ্ছে পড়াশোনা করতে হবে। নিজেকে সেভাবে গড়ে তুলতে হবে। উপযুক্ত নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য কিন্তু এটা বড়ই প্রয়োজন।
পরাজিত শক্তির দোসররা যাতে আর এদেশে মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে সে ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সততা, নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সাথে দেশকে ভালোবাসতে হবে। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মাঝখানে কিছু কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটে। কিন্তু তোমাদের মনে রাখতে হবে কেউ যদি কোনো অন্যায় করে আমি কিন্তু প্রশ্রয় দেই না, দেবও না।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নেতৃত্ব নির্বাচন করায় ছাত্রলীগকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এটা দেশের সামনে একটা উদাহরণ। আপনারা দেশকে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, বাংলাদেশের একটি মাত্র গণতান্ত্রিক দল, সেটা হচ্ছে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ।
অনুষ্ঠানে সজীব ওয়াজেদ জয়ের স্ত্রী ক্রিস্টিনা ওভারমায়ার, ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ছাত্রলীগের সদ্যবিদায়ী সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম ছাড়াও ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *