জাতীয় কবিতা উৎসব : কবিতা মানে না বর্বরতা

কবিতাই বলে মানবতার কথা। কবিতার আশ্রয়েই কবিরা লড়ে যান অমানবিকতার বিরুদ্ধে। পুঁজিবাদের আগ্রাসনে মানুষ যখন লোভী ও ভিতু হয়ে ওঠে তখন কাব্যবীজের স্ফুরণে জেগে ওঠে আলোর পথযাত্রীরা। আর এভাবেই সত্য ও সত্তাকে একসাথে প্রকাশ করে কবির সৃষ্ট কবিতা। শব্দের পিঠে শব্দের সংযোজনে উচ্চারিত হয় অন্তর্নিহিত বিষয়। সেই শব্দমালায় থাকে দ্রোহ, প্রেম ও সময়ের দিনলিপি। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ কিংবা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ নানা আন্দোলন-সংগ্রামে হাতিয়ার হয়েছে কবিতা। আবার কখনও সময়ের প্রযোজনে কবিতা ছড়িয়ে দেয় শান্তির বারতা। সেই শান্তির বারতা নিয়েই গত ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হলো ৩১তম জাতীয় কবিতা উৎসব। ‘কবিতা মানে না বর্বরতা’ স্লোগানে অনুষ্ঠিত উৎসবে সারাদেশের কবিদের সাথে আমন্ত্রিত বিদেশি কবিরা বর্বরতাকে রুখে দিয়ে শপথ নিলেন শান্তি প্রতিষ্ঠার। বিশ্বব্যাপী চলমান নৃশংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হলো তাদের কণ্ঠ। সৃজনের নিমগ্নতাকে সঙ্গী করে বললেন সভ্য পৃথিবী গড়ার কথা। সেই সাথে শব্দের খেলায় দিনভর চলেছে কবিদের কবিতা পাঠের আসর।
বরাবরের মতো ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চত্বরে হালকা শীতের রোদেলা সকালে বসে বর্বরতাকে রুখে দেওয়ার প্রত্যয়ে দুদিনব্যাপী এই উৎসবের উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা। ১৯৮৭ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শৃঙ্খল ভেঙে মুক্তির আহ্বানে জাতীয় কবিতা পরিষদ আয়োজিত উৎসবটি এ বছর পদার্পণ করল ৩১তম আসরে। এবারের উৎসবটি উৎসর্গ করা হয়েছে কবি সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হক, কবি রফিক আজাদ ও কবি শহীদ কাদরীর স্মৃতির প্রতি। সারাদেশের কবিদের সাথে ৩১তম উৎসবে অংশ নিচ্ছেন সাত দেশের ১৪ কবি। উদ্বোধনী দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৬টি অধিবেশন। পারস্পরিক ভাববিনিময়ের পাশাপাশি দিনব্যাপী বিভিন্ন পর্বে কবিতা পাঠ করেছেন কবিরা। অংশ নিয়েছেন কবিতার সাথে শান্তি ও মৈত্রীর বন্ধনবিষয়ক আলোচনায়। এ ছাড়া আয়োজনে ছিল কবিতার গান, অন্য ভাষায় কবিতার কবিতা পাঠ ও খ্যাতিমান বাকশিল্পীদের অংশগ্রহণে আবৃত্তি পর্ব। বহুমাত্রিক আয়োজনে সকাল থেকে রাত অবধি খ্যাতিমান কবিসহ নানা বয়সী কবিতাপ্রেমীদের বিপুল উপস্থিতিতে সরব ছিল উৎসব প্রাঙ্গণ। প্রথম দিনে নিবন্ধনের মাধ্যমে কবিতা পড়েছেন দেশের নানা প্রান্তের দুশতাধিক কবি।
সকাল সাড়ে ৯টার পর শুরু হয় উৎসব কার্যক্রম। গ্রন্থাগার চত্বর থেকে বের হয় শোভাযাত্রা। পদব্রজে শোভাযাত্রা এগিয়ে যায় ভাষাশহীদদের স্মারক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ সকল আন্দোলন-সংগ্রামে শহীদকে শ্রদ্ধা জানিয়ে অর্পণ করা হয় পুষ্পস্তবক। এরপর শোভাযাত্রা এগিয়ে যায় চারুকলা সংলগ্ন জাতীয় কবির সমাধিসৌধে। সেখানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ও পটুয়া কামরুল হাসানের সমাধিতে নিবেদন করা হয় পুষ্পাঞ্জলি। শোভাযাত্রা শেষে শুরু হয় উৎসব উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা। শুরুতেই বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীদের কণ্ঠে উঠে আসে জাতীয় সংগীতের সুর। সেই সুরের তালে তালে উত্তোলিত হয় জাতীয় পতাকা ও কবিতা পরিষদের পতাকা। উত্তোলন করেন পরিষদের সদস্যসহ অতিথি কবিরা। এরপর সারিবেঁধে শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে গেয়ে শোনান একুশের গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ এবং মুহাম্মদ সামাদ রচিত ও ফকির আলমগীরের সুরারোপিত উৎসব সংগীত ‘বর্বরতা মানে না কবিতা/কবিতা মানে না বর্বরতা …’। গান শেষে বিগত বছরের শুরু থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারতের শিল্প-সাহিত্য, সংগীত, অভিনয়সহ নানা অঙ্গনের প্রয়াত কীর্তিমানদের স্মরণে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন কবি আমিনুর রহমান সুলতান।
উৎসবের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন কবি আসাদ চৌধুরী। আহ্বায়কের বক্তব্য রাখেন রবিউল হুসাইন। বক্তব্য রাখেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তারিক সুজাত। সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি মুহাম্মদ সামাদ। উৎসব উদ্বোধনের কথা ছিল বরেণ্য কবি বেলাল চৌধুরীর। তবে শারীরিক অসুস্থতার জন্য তিনি আসতে পারেন নি উৎসবে। তার পক্ষে উৎসব উদ্বোধনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের সাবেক সভাপতি কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। এ ছাড়া উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, কবি নাসির আহমেদ, সাযযাদ কাদির, রবীন্দ্র গোপ ও বুলবুল মহলানবীশ।
কবিতা উৎসবের তাৎপর্য তুলে ধরে বেলাল চৌধুরীর উদ্বোধনী বক্তব্যে বলা হয়, কবিতা উৎসব এখন বাংলাদেশের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রবহমানতা। এ উৎসবের মাধ্যমে জয় হোক মা-মাটি ও মানুষের, নির্মূল হোক জঙ্গিবাদের, জয় হোক কবিতার, বর্বরতা মানে না কবিতা। কবিতার স্বরূপ তুলে ধরে এই কবির বক্তব্যে বলা হয়, কবিতা হচ্ছে মানুষের অন্তর্গত ও অন্তর্নিহিত মাতৃভাষা। স্বগতোক্তি ও একা একা নিজের সাথে সুসংহত এবং সসুমাঞ্জস্যভাবে কথামালা সৃষ্টিই হচ্ছে কবিতা। কবিতা সর্বদাই সত্যনিষ্ঠ। কবিতায় কোনো মিথ্যা, শঠতা বা নীচুতা চলে না। বাঙালি ও বাংলাদেশের কবিতা সমৃদ্ধিশালী, ঐতিহ্যপ্রিয় এবং প্রকৃতি ও জীবনঘনিষ্ঠ।
ঘোষণাপত্রে আসাদ চৌধুরী বলেন, মানতেই হবে পৃথিবীর গভীর, গভীরতর অসুখ প্রায় ক্রনিক পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। পাল্লা দিয়ে মানুষ যেন লোভী আর ভিতু হয়ে পড়ছে। সেই সাথে ক্ষমতা ও শক্তির বেপরোয়া দাপট বর্বরতাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মানবতা ও মনুষ্যত্বের শত্রু এই বর্বরতা। এই অপশক্তিকে রুখতে না পারলে পুনরায় বিপন্ন হবে মানবতা। সংকটে কবিতাকে আশ্রয়ের কথা উল্লেখ করে কবি বলেন, সৃজনশীলতার আদিরূপ নিয়ে তর্ক থাকলেও মানতেই হবে কবিতা তার একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে। কবিতা সত্য ও সুন্দরের কথাই বলে এসেছিল, স্বপ্ন ও কল্পনার কথাই বলে এসেছিলÑ আর তাই সব ধরনের সংকটে কবিতা বাতিঘরের কাজ করেছে।
উৎসব আহ্বায়কের বক্তব্যে রবিউল হুসাইন বলেন, মানুষের মৌলিক অধিকারের কথা জানায় কবিতা। আবার মানুষের বর্বরতার বিরুদ্ধেও দাঁড়ায় কবিতা। গণবিমুখীনতাধর্মী, মানবিকতাবিরোধী দুষ্কর্ম তাদের ইচ্ছেকে পদদলিত করে অত্যাচার-নির্যাতনের পথ বেছে নিতে দেখা যায়, তখনই কবিতা স্বতঃস্ফূর্ততায় সাধারণ মানুষের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরের সমার্থক হয়। কেননা কবিতার ধর্মই এ রকম।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ সামাদ বলেন, সাহিত্যে ও সমাজে আদিমতা, বন্যতা, অসভ্যতা, নীচতা ও ক্ষুদ্রতার নির্দেশক হলো বর্বরতা। পৃথিবীতে সুন্দরের সমূহ সর্বনাশ থামিয়ে দেওয়ার মানসে ৩১তম জাতীয় কবিতা উৎসবের স্লোগান ও গানে আমরা ধ্বনিত করেছি আরও একটি নতুন বারতা ‘কবিতা মানে না বর্বরতা বা বর্বরতা মানে না কবিতা’। কবিতার সদা বহমান অমৃতধারায় আত্মা পবিত্র হোক, মরুভূমি উর্বর হোক। ফুলে-ফলে, ধন-ধান্য, সতেজ-সবুজে ভরে উঠুক বসুন্ধরা।
উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে অনুষ্ঠিত হয় ‘কবিতা মানে না বর্বরতা’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা। বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে এতে অংশ নেন আমন্ত্রিত সাত দেশের কবিগণ। তাদের মধ্যে ছিলেন ভারতের আশিস সান্যাল, চিন্ময় গুহ, বীথি চট্টোপাধ্যায়, কাজল চক্রবর্তী, রাতুল দেববর্মণ ও দিলীপ দাস। এ ছাড়া ছিলেন সুইডেনের ক্রিশ্চিয়ান কার্লসন, রাশিয়ার ড. আলেক্সানড্রোভিচ পোগাদাইভ, অস্ট্রিয়ার মেনফ্রেড কোবো, জার্মানির ইওনা বুরঘার্ট ও টোবিয়াস বুরঘার্ট এবং পুয়ের্তোরিকোর লুস মারিয়া লোপেজ, মারিয়া ডি লোস ও অ্যানজেলেস কামাকো রিভাস। আলোচনার সাথে কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠে কবিতাপ্রেমীদের জন্য এই পর্বটি হয় অনেক বেশি আকর্ষণীয়। সভাপতির বক্তব্যে বোরহানউদ্দীন খান জাহাঙ্গীর বলেন, কবিতার সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে অনাচারের বিরুদ্ধে কথা বলা। এ কারণেই আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে বর্বরতার বিরুদ্ধে। বর্বরতা ও সভ্যতা একসাথে চলতে পারে না। আমরা সভ্যতার সন্তান। সভ্যতার পক্ষে লড়াই চলবে। আমরাই জয়ী হব।
দ্বিতীয় পর্বে দিলারা হাফিজের সভাপতিত্বে কবিতা পাঠে অংশ নেন নিবন্ধিত কবিরা। তৃতীয় পর্বে আনোয়ারা সৈয়দ হকের সভাপতিত্বে¡ অংশ নেন বাংলাদেশের অন্য ভাষার কবিরা। চতুর্থ পর্বে শিহাব সরকারের সভাপতিত্বে অংশ নেন আমন্ত্রিত কবিরা। পঞ্চম পর্বে কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীর সভাপতিত্বে অংশ নেন ভারতের আমন্ত্রিত কবিরা। প্রথম দিনের শেষ পর্ব অর্থাৎ আবৃত্তি পর্বে রামেন্দু মজুমদারের সভাপতিত্বে অংশ নেয় আমন্ত্রিত আবৃত্তিশিল্পীরা। এদিনের আয়োজন চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। দুদিনের উৎসবের শেষ দিন ২ ফেব্রুয়ারি। এদিন বিকেল সাড়ে ৫টায় উৎসব মঞ্চে ২০১৬ সালের জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার প্রদান করা হয়। জাতীয় কবিতা পরিষদ সম্মাননা প্রদান করা হয় বরেণ্য কবি বেলাল চৌধুরীকে এবং জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় কবি সাযযাদ কাদিরকে। এর আগে বেলা ১১টা থেকে এদিন ৭টি অধিবেশনে থাকেÑ সেমিনার, কবিতা পাঠ ও ছড়া পাঠ। ‘কবিতার অনুবাদ : মুক্ততা ও মৌলিকতা’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আহমদ রফিক। এ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন মুহম্মদ নূরুল হুদা। এই আলোচনায় অংশ নেন শামীম আজাদ, ক্রিশ্চিয়ান কার্লসনসহ দেশ-বিদেশের কবিরা। এদিন সন্ধ্যা ৭টায় কবিতা পাঠের দশম পর্বে সভাপতিত্ব করেন পাঠকনন্দিত কবি নির্মলেন্দু গুণ। এই পর্বে কবিতা পড়েন দেশের কবিবৃন্দ। আমন্ত্রিত শিল্পীদের অংশগ্রহণে নাসির উদ্দীন ইউসুফের সভাপতিত্বে রাত ৮টায় কবিতার গান শীর্ষক পর্বের মাধ্যমে শেষ হয় উৎসব।
কবিতা উৎসবের দ্বিতীয় দিন
সকাল থেকে রাত অবধি কবিতা পড়লেন দেশ-বিদেশের কবিরা। স্বদেশের প্রতিষ্ঠিত কবিদের সঙ্গে নিবন্ধনের মাধ্যমে এই কবিতাপাঠে অংশ নিলেন দেশের নানা প্রান্তের নবীন কবিরা। আর এভাবেই বর্বরতার বিরুদ্ধে কবিতার শিল্পিত উচ্চারণের মাধ্যমে গত ২ ফেব্রুয়ারি শেষ হলো দুই দিনের জাতীয় কবিতা উৎসব। সমাপনী দিনে নানা আনুষ্ঠানিকতার মাঝে ঘোষণা করা হয় উৎসবের আয়োজক জাতীয় কবিতা পরিষদের নবনির্বাচিত নির্বাহী কমিটি। সন্ধ্যায় ২০১৬ সালের জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার প্রদান করা হয় কবি সাযযাদ কাদিরকে। পুরস্কারের সম্মানী হিসেবে কবিকে প্রদান করা হয় ২৫ হাজার টাকা। জাতীয় কবিতা পরিষদ সম্মাননা প্রদান করা হয় কবি বেলাল চৌধুরীকে। অসুস্থতার কারণে কবির ছেলে আবদুল্লাহ প্রতীক চৌধুরীর হাতে সম্মাননা তুলে দেন পরিষদের নেতৃবৃন্দ। সম্মাননার সম্মানী হিসেবে প্রদান করা হয় ৩০ হাজার টাকা।
সমাপনী দিনে উৎসবের আহ্বায়ক কবির রবিউল হোসেন জাতীয় কবিতা পরিষদের নবনির্বাচিত কমিটির নাম ঘোষণা করেন। ২০১৭-১৯ সালের জন্য গঠিত কমিটিতে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কবি মুহাম্মদ সামাদ এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন কবি তারিক সুজাত। সভাপতিম-লীর সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন রবিউল হুসাইন, মহাদেব সাহা, নির্মলেন্দু গুণ, রুবী রহমান, সাযযাদ কাদির, শিহাব সরকার ও আসলাম সানী। সম্পাদকম-লীতেÑ রয়েছেন যুগ্ম সম্পাদক আমিনুর রহমান সুলতান, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়, অর্থ সম্পাদক খোরশেদ বাহার, প্রকাশনা সম্পাদক দিলারা হাফিজ, প্রচার সম্পাদক নাসির আহমেদ, দফতর সম্পাদক হানিফ খান, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আনজীর লিটন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাহাদাত হোসেন নিপু, সেমিনার সম্পাদক ফয়জুল আলম পাপ্পু ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন হারিসুল হক। পরিষদের নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেনÑ আনোয়ারা সৈয়দ হক, মুনীর সিরাজ, আসাদ মান্নান, রবীন্দ্র গোপ, জয়দুল হোসেন, মুস্তাফা মজিদ, আহমদ আজিজ, আমীরুল ইসলাম, বুলবুল মহলানবীশ, ফনীন্দ্রনাথ রায়, আয়াত আলী পাটওয়ারী, নাহার ফরিদ খান, এমআর মঞ্জু, বদরুল হায়দার, পিয়াস মজিদ, থিওফিল নকরেক, মৃত্তিকা গুণ ও সাদিয়া স্বাতী। এছাড়া সাত সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেনÑ কবি বেলাল চৌধুরী, আসাদ চৌধুরী, মোহাম্মদ রফিক, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, মুহম্মদ নূরুল হুদা, নূহ-উল-আলম লেনিন ও কাজী রোজী। নির্বাহী কমিটির সহযোগী সদস্য মনোনীত হয়েছেন মং এখেন মং মং, আলীম হায়দার, গিয়াসউদ্দিন চাষা, শরাফাত হোসেন ও শিখা সরকার।
‘কবিতা মানে না বর্বরতা’ সেøাগানে অনুষ্ঠিত উৎসবের সমাপনী দিনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে সেমিনার, কবিতাপাঠ, ছড়াপাঠ ও কবিতার গানে সাজানো ৭টি অধিবেশন। সকাল ১১টায় ‘কবিতার অনুবাদ : মুক্ততা ও মৌলিকতা’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আহমদ রফিক। এ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেছেন মুহম্মদ নূরুল হুদা। আলোচনায় অংশ নেন শামীম আজাদ, ক্রিশ্চিয়ান কার্লসন, আহমাদ মাযহারসহ দেশ-বিদেশের কবিরা। ‘কবিতা মানে না বর্বরতা’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়। আলোচনায় অংশ নেন নূহ-উল-আলম লেনিন, গোলাম কুদ্দুছ, বিশ্বজিৎ ঘোষ, ড. রফিকউল্লাহ খান ও দিলীপ দাস। কবিতা পাঠের ষষ্ঠ ও সপ্তম পর্বে সভাপতিত্ব করেন কবি কাজী রোজী এবং কবি নাসির আহমেদ। কবিতা পাঠের দশম পর্বে সভাপতিত্ব করেন পাঠকনন্দিত কবি নির্মলেন্দু গুণ। এ পর্বে কবিতা পাঠ করেন দেশের কবিবৃন্দ। আমন্ত্রিত শিল্পীদের অংশগ্রহণে নাসির উদ্দীন ইউসুফের সভাপতিত্বে রাত ৮টায় কবিতার গান শীর্ষক পর্বের মাধ্যমে শেষ হয় উৎসব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *