দেশ স্বাধীন হয়েছে কিন্তু শৈশব হারিয়ে গেছে: ১১ বছরের মুক্তিযোদ্ধা মনজু

মনজুরুল হকের স্মৃতিচারণমূলক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ধারাবাহিক পোষ্ট আমরা দেখেছিলাম সামহয়ার ব্লগে। সেই রচনাগুলো বই আকারে সংকলিত ও প্রকাশিত হয়েছে এবারের বই মেলায়। বইয়ের নাম “এ লিটিল ফাইটার স্লিপিং উইথ আর্মস”। প্রকাশ করেছে ‘ঐতিহ্য’। পাওয়া যাবে – একুশে বইমেলার ঐতিহ্যের স্টলে। এবারের বইমেলায় ঐতিহ্যের স্টল নম্বর ১২৯, ১৩০, ১৩১।

আমার লেখা ঐ বইয়ের এক রিভিউ পাঠকেরা এখানে দেখতে পারেন।
—————————–

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গল্প উপন্যাস নাটক সিনেমা আমরা অনেক শুনেছে পড়েছি, দেখেছি। মনজুর এই বই সেরকমই একটা কিছুর সংযোজন নয়, বরং একেবারে ভিন্ন।
ভিন্ন এজন্য নয় যে মনজু তখন ১১ বছরের এক বালক অথবা কিশোর; ঐ বয়সেই সে যুদ্ধের ফ্রন্টে, এ লিটিল ফাইটার স্লিপিং উইথ আর্মস বা এক খুদে বালকের বিছিয়ে রাখা অস্ত্রের উপর ঘুমানো – না! সেজন্য নয়। সেটাও আছে, তবে আমার কাছে তা আরও গুরুত্ত্বপূর্ণ অনেকগুলো কারণে; সেগুলোর তুলনায়, অস্ত্রের উপর লিটিল ফাইটারের ঘুমানো খুবই গৌণ একটা বিষয়।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গল্প উপন্যাস নাটক সিনেমা ইত্যাদি যাই আমরা দেখেছি ওগুলো থেকে চাইলে গল্পের স্ক্রিপ্টের কিছু সাধারণ ফর্মুলা আমরা বের করতে পারি। একটা ভিলেন-হিরোর ব্যাপার থাকে সেখানে। তরুন যুবক হিরোর সাথে মা বাবা পরিবারের টুকরো টাকরা কিছু ঘটনা, ফেলে যাওয়া প্রেমিকার উদগ্রীব ভালবাসা অপেক্ষার পথ চেয়ে থাকা, রাজাকার পাকিস্তানী সৈন্যরা কত অমানবিক, নৃশংস ছিল তার সুন্দর উপস্হাপনা ইত্যাদি।

আমাদের সাহি্ত্য জগতে হুমায়ন আহমেদের প্রবেশের আগে অবস্হাকে মোটা একটা দাগ টেনে আলাদা করা যায়। সে যুগে গল্প বলার ধরণে একটা কমন ষ্টাইল ছিল এবং প্রায় ব্যতিক্রমহীনভাবে এক হিরো কেন্দ্রিক গল্প হত সেটা। অসৎ বা নেগেটিভ চরিত্র না থাকলে সৎ বা ন্যায়ের প্রতীক চরিত্রকে আঁকা যায় না। সেই প্রয়োজনে তাই এরপরের অবশ্যম্ভাবী চরিত্র হলো এ্যন্টিহিরো, যার কাজ হলো হিরোকে নায়কোচিত রূপ নিয়ে হয়ে উঠতে সাহায্য করা। এককথায় ভিলেন-হিরো এই দুটোই মুখ্য চরিত্র। এরপর এই চরিত্র দুটোকে ফুটিয়ে তুলতে আর যেসব অগুরুত্ত্বপূর্ণ ছোট চরিত্রের প্রয়োজন মত সময়ে দরকার হয় সে মোতাবেক অন্যদের মঞ্চে ছোটখাট প্রবেশ, আসা-যাওয়া ঘটে থাকত।

আমার মতে, হুমায়ন আহমেদই সবার আগে গল্প বলার এই গঁৎবাধা ছক থেকে আমাদের বের করে আনেন। এটা কতটা তিনি সচেতনভাবে নতুন এক ষ্টাইল সৃষ্টি বা দাঁড়া করানোর জন্য করেছিলেন আর কতটা অসচেতন স্বতঃস্ফুর্ত তবে নিজস্ব ষ্টাইল – এনিয়ে দীর্ঘদিন আমি ধ্বন্ধে ছিলাম। ইদানিং অবশ্য ক্রমশ নিশ্চিত মনে হচ্ছে এটাই তাঁর ষ্টাইল,স্বতঃস্ফুর্ততা – কোন সচেতন ট্রেন্ড সেটিং তাঁর লক্ষ্য ছিল না। এমন দায়িত্ত্ব তিনি নেননি। নিতে হবে এমন কোন কথাও অবশ্য নাই।

পুরানো ট্রাডিশনালদের যেমন বলার একটা গল্প থাকে আগে তা থেকে একটা হিরো এবং পর্যায়ক্রমে বাকিরা আসে এর বিপরীতে হুমায়ুন আহমেদের কাছে সবসময় থাকে – একটা সাবজেক্ট, একই সাবজেক্ট – “মানুষের মন”। এই মন – একই সাবজেক্ট বললাম বটে তবে আসলে তা বহু, অনেক, অসীম। কারণ মানুষের মনের ধরণ সীমাহীন, অগুণতি। এর সুবিধা হলো, ইচ্ছামত লেখক যতখুশি চরিত্র আনতে পারেন, নাও আনতে পারেন কিন্তু মূল কথা হলো প্রতিটা চরিত্রেরই মনের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার উপর ভর করে ওর দুঃখ, বেদনা, খুশি, ভাললাগার একএকটা পারস্পেকটিভ, একএক জায়গায় দাড়িয়ে দেখে লিখে যেতে পারেন। ফলে এই রচনার সব চরিত্রই গুরুত্ত্বপূর্ণ। আবার কোন চরিত্র আঁকতে গিয়ে ওর মনের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সবচেয়ে ভাল ট্রিটমেন্ট দিতে পেরেছেন বা দিতে চান সেই হাতযশ, বাহাদুরি দেখানোর সুযোগ তাঁর সব চরিত্রের ক্ষেত্রেই খোলা থাকে। আবার সব চরিত্রেরই একটা কালমিনেশন বা পরিণতি টানতে হবে এমন বাধ্যবাধকতাও তাঁর নাই।

আবার গঁৎবাধা ছক আগে চিন্তা করা গল্প স্ক্রিপ্টে এসে যেমন বাস্তব থেকে দূরে চলে গিয়ে আদর্শ – হিরো হয়ে বাস্তবের উর্ধে নমস্য হয়ে থাকতে চায় – বিপরীতে হুমায়ন আহমেদের ষ্টাইলের কারণে তাঁর চরিত্রগুলো বাস্তবকে ছুঁয়ে থাকতে পারে, আদর্শবান হবার প্রয়োজন পড়ে না।
কিন্তু সেই হুমায়ুন আহমেদ মুক্তিযুদ্ধের গল্প লিখতে গিয়ে তাঁর বিশেষ দক্ষতা, ক্ষমতার ব্যবহার দেখাতে পেরেছেন – এমন মনে হয়নি আমার কাছে – বলতে পারছি না।

মনজুর বই নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিশ্চয় হুমায়ন আহমেদের সাথে তুলনার রাম-বোকামি আমি করব না; সেটা আগরতলা আর চৌকিরতলা হয়ে যাবে। আমি কেবল ষ্টাইল এই প্রসঙ্গটা একটু কিছুক্ষণের জন্য ধার নিব।

ষ্টাইলের দিক থেকে মনজুর এই স্মৃতিচারণমূলক বইয়ের সাবজেক্টও মানুষের মন। অর্থাৎ সে হিরো নয়; নিজেকে হিরো বানিয়ে চিত্রণ করার চেষ্টায় এই বইটা মনজু লেখেনি। এটা নিঃসন্দেহে আবার তাঁর অসচেতনের কাজ, কিন্তু আমি নিশ্চিত এটাই ওর ষ্টাইল। কিন্তু এটা ওর ষ্টাইল, কেন এমন হলো? এর উত্তরে বলব ওর মানসিক গঠন, বেড়ে ওঠা, রাজনীতিবোধের কারণে ওর ভিতর একটা সামাজিক মন জেগে আছে; ব্যক্তিমনের উপরে সেটা আবার ডমিনেট করার ক্ষমতা রাখে। ফলে এটাই ওর ষ্টাইল।

কাজেই কথা দাঁড়ালো, মনজুর বইটা মানুষের মনকে বিষয় বানিয়ে লেখা মুক্তিযুদ্ধের একটা বই – শেষ বিচারে এই বই আবার স্মৃতিচারণমূলক অবশ্যই।

কিন্তু পাঠক এটাও আমার কাছে বইটা আমার সবচেয়ে ভাল লাগার কারণটা নয়।

এই বইয়ের নাম মনজু কয়েকজন বন্ধু মিলে সাব্যস্ত করেছিল এভাবে –
“এ লিটিল ফাইটার স্লিপিং উইথ আর্মস”। অস্ত্রের কোঁথের তাবুতে বিছানো অস্ত্রের উপর মনজুর ঘুমিয়ে থাকার ছবি নিয়ে বিদেশী পত্রিকার রিপোর্টের ঘটনা – এটা নাম রাখার সেই বাস্তবতা তৈরি করেছিল। তবে বন্ধুদের মাথায় ভর করেছিল এরিক মারিয়া রেমার্ক এর “অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েষ্টার্ণ ফ্রন্ট” গল্পের পল বোমার এর চরিত্র। যার মিলিত ফল হলো এরকম নাম।

আমি একটা নাম সাজেষ্ট করেছিলাম তবে অনেক দেরীতে, “রণাঙ্গনে এক কিশোরের চোখে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ”। বইটা ছাপা হবার পর দেখলাম, উপনাম হিসাবে এরই কাছাকাছি কিছু একটা জুড়ে দিয়েছে মনজু।

মুল নামটা আমি ততটা পছন্দ করি নাই এজন্য যে ওর ভিতর একটা হিরোগিরি আবেগ আছে, কিন্তু মনজুর বই সেভাবে লেখা নয় বলেই আমি মনে করি। বরং আমার কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো, একটা ১১ বছর বালক মনের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার লিখিত প্রকাশ ওটা; আমার কাছে এই নয় মাসে ঐ ১১ বছরের বালক তাঁর সমবয়সীদের চেয়ে মানসিক গঠনে কীভাবে আলাদা হয়ে যাচ্ছে, নয় মাসের জীবন অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ হওয়ার কারণে যুদ্ধের শেষে বয়স হয়ত তাঁর ১২ বছর কিন্তু যে পথে সে বড় হয়েছে সে অভিজ্ঞতায় মনের পরিপক্কতায় সে ২১ বছরের মানুষের সমান। যুদ্ধ শেষে সবাই তাঁর সাথে ১২ বছরের বালক হিসাবেই ট্রিট করছে, কিন্তু সে ১২ বছরের বালকদের খেলার সাথী হতে পারছে না কারণ সে খেলা ভুলে গেছে। আবার বড়দের সাথে একই আসরে বসতে পারছে না।
এএক অব্যক্ত, অনির্বচনীয় গভীর কষ্ট। শুধু তাই নয় এ এমন এক একাকীত্ত্বের কষ্ট দুনিয়াতে তাঁর কেউ নেই যার সাথে সে শেয়ার করতে পারে।
একমাত্র কান্না, নীরব নিভৃতে অঝরে কান্না তাঁর একমাত্র সাথী; একমাত্র সে এবং তাঁর কান্না – পরস্পরকে বুঝতে পেরেছিল, তাই সে জ্যন্তমরা হওয়ার দশা থেকে বেঁচে গিয়েছিল।
আমি প্রথম তার লেখার বর্ণনার এতদূর পড়ার পর সাংঘাতিকভাবে চমকে উঠেছিলাম। মনজুর লেখার এই জায়গা পড়তে পড়তে অনেক কষ্ট অনুভব করছিলাম, হঠাৎ চমকে যাই – মনে পরে গেল গল্পের এই মনজু তো জীবন্ত, মনজুই একথাগুলো লিখছে – কোন গল্পকার যেমন লিখে কাল্পনিক চরিত্র খাঁড়া করে , পাঠকের মানবিক-বৃত্তিগুলোকে নিয়ে খেলা করে, পাঠকের মনের উপরও দখল কায়েম করে; পাঠককে হাসায়, কাঁদায়, খুন করায়, রোমান্টিক করে তোলে – আর আমরা সেই চিত্রিত চরিত্রের জন্য সমব্যথী আকুল হয়ে উঠি। কিন্তু মনজুর বই তা নয়। মনজু কোন কাল্পনিক চরিত্রের নাম নয়, মনজু আমাদের জীবন্ত, আমরা মেল-এ কথা বলি, ওর পোষ্ট দেখি; এক অদ্ভুত অনুভুতি হয় মনে। জীবনে কোন বই পড়ে এমন অনুভবে শিহরিত কখনও হইনি।
নিজেকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম আমি কী গল্পের কাল্পনিক মনজু চরিত্র নিয়ে কষ্ট অনুভব করছি, না বাস্তবে যে মনজুকে আমি জানি তার জন্য? নিজেকে উত্তর দিতে পারি নাই।

ভারতের মকবুল ফিদা হোসেন একজন বিখ্যাত আর্টিষ্ট। ওনার সিনেমা বানানোর শখে বানানো দ্বিতীয় সিনেমাটার নাম “মীনাক্ষী”। ওখানে এক গল্পকার চরিত্র আছে। গল্প লিখতে লিখতে তিনি দেখেন তাঁর গল্পের নারী চরিত্র বাস্তব হয়ে তাঁর সামনে ঘুরে বেড়াচ্ছে, গল্পকারের বোনের বিয়েতে হাজির, গল্প কেন এমন হলো জানতে চাচ্ছে – ইত্যাদি। মনজুর বই এখনও আমাকে ধন্ধে ফেলে রেখেছে মনজু কী? এই বইয়ের মনজু বাস্তবে উঠে এসেছে, না বাস্তবের মনজুই বইয়ে – আমি জানি না।

বইয়ের প্রথম অধ্যায় শুরু হয়েছে বেলুচ ইপিআর সৈনিক আল্লারাখার সাথে মনজুর সম্পর্ক দিয়ে। বন্দি আল্লারাখাকে মনজু লুকিয়ে ডাব খাওয়াতে চাইছে, কিন্তু পারে নাই। তবু আল্লারাখা তা বুঝেছে, মনজুর জন্য দোয়া করেছে। মনজুর সাথে বেলুচ সৈনিক আল্লারাখার সম্পর্ক কী? দুনিয়ার সব ধরণের সম্পর্কের মধ্যে বেষ্ট হলো বন্ধু সম্পর্ক। বন্ধু – এখানে কোন ছোটবড় নাই, না বয়সে না মান মর্যাদা টাকাপয়সার বিচারে; পিয়ার টু পিয়ার। কোন বিষয়আশয় স্বার্থের সম্পর্কে তা বাধা পড়ে না, নিঃস্বার্থ। বন্ধুর জন্য জীবনও দিয়ে দেয়া যায়। আল্লারাখাকে সেই বন্ধুর মর্যাদা দিয়ে মনজু এই অধ্যায়ের শিরোনাম রেখেছে “আল্লারাখা তোমায় ভুলিনি বন্ধু!” আর অধ্যায় শেষে লিখছে, আল্লারাখা, আমার দেখা মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ”।
বেলুচ সৈনিক আল্লারাখাকে মনজু শহীদের মর্যাদা দিয়েছে! এটাই কী জাতীয়তাবাদের লড়াইয়ে থেকেও জাতীয়তাবাদের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করা? এই জন্যই কী ভিনজাতির মানুষ হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে অকৃপন শহীদের মর্যাদা দান! আমি গভীর ভাবনায় ভাবতে থাকি।

যুদ্ধে আশ্রয়ের খোঁজে দেশ ছাড়ছে মনজুর বাবা-মা ছোট বোনেরাসহ পরিবার। অর্ধ পথে বাবা যুদ্ধে চলে যাচ্ছে আর বাবা ১১ বছরের মনজুকে পরিবারের মা-বোনের দায়িত্ত্ব সঁপে দিয়ে বলছে, “আল্লার উপর ভরসা করে ছেড়ে দিয়ে গেলাম, যদি বেঁচে থাকি হয়ত দেখা হবে”…..”ভয় পেয়ো না, তোমার উপর দায়িত্ত্ব থাকল নিজে বাঁচবে, মা-বোনদের বাঁচাবে”।
এটা যুদ্ধে কোন মুক্তিযোদ্ধাকে দেয়া কোন কঠিন দায়িত্ত্বের চেয়েও বড় কঠিন এক দায়িত্ত্ব; তাও আবার এক ১১ বছরের বালককে! গল্প উপন্যাসের স্ক্রিপ্টে আমি এমন দৃশ্য কল্পিত হতে দেখেছি বলে মনে পরে না।

বাবা ও ছেলে উভয়ে মুক্তিযোদ্ধা – এমন কাহিনী আমি আগে কখনও শুনিনি। বইটা পড়তে পড়তে হারিয়ে যাই মনে হয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কোন জমজমাট গল্প পড়ছি; যেখানে মনজু কোন কল্পিত চরিত্রের নাম। আবার সম্বিৎ ফিরে পেয়ে লজ্জিত হয়; এটা তো স্মৃতি চারণ এবং আমাদের মনজু জীবিত।

বইয়ের শেষ পৃষ্টায় মনজু দেশে ফিরে এসেছে, লিখছে, “পুরানি সবাইকে পেয়েছি, আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে, ঢাকা মুক্ত হয়েছে কী না তা নিয়ে আমার মাথা ব্যাথ্যা নাই! আমি আমার সব ফিরে পেয়েছি কিন্তু আমার বুক ফেটে কান্নার সাথে যে কথাটা বেরিয়ে আসতে পারছে না, কাউকে চিৎকার দিয়ে বলতে পাচ্ছি না যে আমি আমার শৈশব হারিয়ে ফেলেছি”।

এই বই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও আমাদের সাহিত্যের জন্য হয়ত কোন বড় ঘটনা নয়। কিন্তু আমাদের দেখার ও লেখার দৃষ্টিভঙ্গীকে নতুন অবদান যুগিয়ে সমৃদ্ধ করবে বলে আমার বিশ্বাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *