প্রথমবার পূর্ণাঙ্গরূপে উপজেলা পরিষদ

অবশেষে পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল উপজেলা পরিষদ। উপজেলা পরিষদ গঠনের পর এই প্রথম প্রায় দেড় হাজার সংরক্ষিত নারী সদস্য ৪৭০টি উপজেলা পরিষদে যোগদান করতে যাচ্ছেন। গত ১৫ জুন এই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গরূপে পরিচালিত হতে যাচ্ছে উপজেলা পরিষদ। এর আগে দেশে ৩টি উপজেলা পরিষদ গঠিত হলেও এই পদে এবারই প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। সংরক্ষিত নারী সদস্যপদ শূন্য রেখেই তৃতীয় উপজেলা পরিষদের পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হয়েছিল।
উপজেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী, একজন চেয়ারম্যান, দুজন ভাইস চেয়ারম্যান (একজন পুরুষ ও একজন মহিলা), উপজেলার এলাকাভুক্ত প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা সাময়িকভাবে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী, উপজেলার এলাকাভুক্ত প্রত্যেক পৌরসভা যদি থাকে, এর মেয়র বা সাময়িক দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি এবং সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্যগণকে নিয়ে উপজেলা পরিষদ গঠিত হবে। কিন্তু এতদিন সংরক্ষিত মহিলা সদস্যগণকে বাদ রেখেই উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে মহিলা সদস্য নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় এই প্রথম পূর্ণরূপে গঠিত হবে উপজেলা পরিষদ। ২২ জুন ৪৭০ উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত সংরক্ষিত মহিলা সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করে ইসি। এ মাসেই তাদের শপথ হতে পারে। আর ঈদের আগেই সংরক্ষিত মহিলা সদস্যরা দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বাকি ১৭ উপজেলায় পর্যায়ক্রমে নির্বাচনের আয়োজন করবে ইসি।
১৯৯৮ সালের উপজেলা পরিষদ আইন বাতিল করে বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জারি করা, ‘স্থানীয় সরকার (উপজেলা পরিষদ) অধ্যাদেশ ২০০৮-এর মাধ্যমে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জারিকৃত অধ্যাদেশে উপজেলা পরিষদে প্রথমবারের মতো চেয়ারম্যান ছাড়াও একজন নারীসহ দুজন ভাইস চেয়ারম্যানের পদ সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বিগত মহাজোট সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জারি করা উপজেলা পরিষদ অধ্যাদেশের বিলটি বাতিল করে দেয়। ফলে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ-মহিলা) পদ দুটি বিলুপ্ত হয়। পরে একটি পরিপত্র জারি করে তা আবার বৈধ করে সরকার। আর নারী সদস্যপদে নির্বাচনী বাধা দূর করতে ২০১১ সালে ২৯ নভেম্বর সংসদে উপজেলা পরিষদ আইন সংশোধন করে বিল পাস করা হয়। সংশোধিত আইনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয়। ২০১৩ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা চূড়ান্ত করে কমিশন। ৪৮৭টি উপজেলার মধ্যে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত চতুর্থ উপজেলা পরিষদে সাত ধাপে ৪৮৩টিতে নির্বাচন সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে ৪৭৮টির সীমানা বিন্যাস করে ইসিকে তালিকা সরবরাহ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি উপজেলা পরিষদে সংরক্ষিত নারী সদস্যপদে নির্বাচনের তাগিদ দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নোট দেন নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ মে ৪৭৮ উপজেলায় সংরক্ষিত মহিলা সদস্যপদে তফসিল ঘোষণা করে ইসি। সীমানা ত্রুটির কারণে ৮টি উপজেলাতে নির্বাচন স্থগিত হয়। ৪৭০টির মধ্যে ৯৩টি উপজেলায় ৩০১ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়। ফলে বাকি ৩৭৭টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হয়। এ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো প্রায় দেড় হাজার নারী সদস্য উপজেলা পরিষদে যোগ দিতে যাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *