প্রিয়জনদের সমাধিতে গোলাপের পাপড়ি ছড়ালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট কালরাত্রিতে হারানো স্বজনদের কবরে ফুল ছিটিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় শোক দিবসে বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানী কবরস্থানে শায়িত বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের কবরে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান তিনি।

এসময় প্রিয়জনদের হারানোর ব্যথায় কাতর প্রধানমন্ত্রীর চেহারা মলিন হয়ে উঠে।এসময় সঙ্গে থাকা মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও দলীয় নেতারা তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে শহীদদের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান।

বৃহস্পতিবার ভোরে মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল আর দলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসেন বনানী কবরস্থানে। পরনে সাদা খোলের কালো পাড় শাড়ি। চোখে রোদ চশমা। কিছুদিন আগেই চোখের সমস্যার কারণে অস্ত্রোপচার করে এসেছেন শেখ হাসিনা। এ কারণেই রোদ চশমা পড়েছেন তিনি। চোখে চশমা থাকায় প্রধানমন্ত্রী চোখের পানি দেখা যায়নি। এটি না হয়ত আরও ভালো করে পড়া যেত তার চোখে ফুটে ওঠা বেদনা। যে বেদনা ছড়িয়ে রয়েছে তার পুরো মুখে। তার কণ্ঠ ভারি হয়ে উঠে। সমাধির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় স্বজন হারানোর যন্ত্রণায় তার পা যেন সামনে এগোতে চাচ্ছিল না। ধীর গতিতে হেঁটে সমাধিতে গোলাপের পাপড়ি ছিটিয়ে দেন তিনি।

৪৪ বছর আগে আজকের রাতেই বাবাসহ পরিবারের ১৩ সদস্যকে একসঙ্গে হারিয়েছিলেনি শেখ হাসিনা। তিনি ও বোন শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যান। বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান থেকে শুরু করে ছোটভাই শিশু রাসেল, কাউকেই ছেড়ে কথা বলেনি ঘাতকের বুলেট। শেখ হাসিনার সেই প্রিয়জনেরা শুয়ে আছেন বনানীর এই কবরস্থানে। এই সারি সারি সবুজ কবরই তার স্বজনদের চিহ্ন। সকালে নিজের মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে সেই কবরের ওপরেই তিনি ছড়িয়ে দিলেন গোলাপের নরম পাপড়ি।এরপর হেলিকপ্টারে করে যান টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *