ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক অধ্যায় (১৭৫৭ – ১৯৪৭)

এই উপমহাদেশের মানুষ বার বার বিদেশী শক্তিদারা আক্রমনের শিকার হয়েছে। ব্রিটিশ শাসন শুরু হয় ১৭৫৭ সালে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দোল্যার পরাজয় দিয়ে।

এই দুই শতক ধরে এই অঞ্চলের মানুষ ক্রমাগত সাধীনতার জন্য ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু ১৯৪০ এর গোরার দিকে এই আন্দোলনে হিন্দু-মুসলিম বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং মুসলিমলীগ আলাদা ভারত থেকে আলাদা হয়ে যেতে চায়।

ফলশ্রুতিতে, ১৯৪৭ এর আগষ্ট মাসে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অবসান হয় এবং ভারত দুভাগে ভাগ হয় ধর্মের ভিত্তিতে। একটি ভারত এবং অন্যটি পাকিস্তান। পাকিস্তানের আবার ভৌগলিক সীমারেখার দিক থেকে দুটি খন্ড – পূর্বপাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান।

পাকিস্তান শাসনামল (১৯৪৭ – ১৯৭১)

পাকিস্তান মুলত এমন একটি দেশ ছিলো যার দুই খন্ডের মানুষে মানুষে শুধুমাত্র ধর্ম ছাড়া আর কোনই মিল ছিল না। হাজার মাইলের দুরত্ত ছারাও তাদের মধ্যে ছিল অনেক অমিল। সংস্কৃতি, ভাষা, আচার-আচরন এমনকি অর্থনৈতিক ব্যবধান।

পূর্ব পাকিস্তানের জনগনের সাধীনতা আন্দোলনের সুত্রপাত মুলত ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই। পাকিস্থানিরা সেদিন আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে কিতে ছেয়েছিল যা এই অঞ্চলের মানুষ মেনে নেয়নি। ১৯৫১ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী পৃথিবীতে প্রথম কোন জাতি ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছিল।

[In 2001, UNESCO declared 21 February as International mother language day]

পুরো পাকিস্তান শাসনামলে এই অঞ্চলে গনতন্ত্র বলে কিছুই ছিল না।

ঐ সময়ের কিছু উল্ল্যেখযোগ্য ঘটনাবলীঃ

১৯৫৪ – মুসলিমলীগের বিপক্ষে যুক্তফ্রন্টের জয় কেড়ে নেয়া হয়।
১৯৫৬ – পাকিস্তানকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষনা।
১৯৫৮ – সামরিক শাসন জারী।
১৯৬২ – ছাত্ররা সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন শুরু করে।
১৯৬৭ – গনমাধ্যমে রবীন্দ্র সংগীত প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়।

পুরো পাকিস্তান শাসনামলে এই অঞ্চলের মানুষ তাদের ভাষা এবং সংস্কৃতির জন্য আন্দোলন করে যায়। সাংস্কৃতিকর্মীদের মাঝে দেখা দেয় গভীর অসন্তোষ।

গনমাধ্যমের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। শত শত আন্দোলনকারী ছাত্র এবং রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সংবাদকর্মীরাও আন্দোলন শুরু করে তাদের অধিকারের জন্য।

১৯৬৬ সালে আওয়ামীলীগ নেতা শেখ মুজিবর রহমান ৬ দফা দাবি নিয়ে পুর্ব পাকিস্তানে গনতন্ত্র ও সায়ত্তশাসনের আন্দোলন শুরু করেন।

১৯৬৮ – শেখ মুজিবর রহমান, কিছু বাঙ্গালী সাধারন মানুষ এবং সেনা সদস্য এর বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হয়।

ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র কমিটি তাদের ১১ দফা আন্দোলন শুরু করে। ১৯৬৯ এ এই আন্দোলন চরম রুপ নেয়। ইউনিভার্সিটির ছাত্র আসাদ, নবকুমার স্কুলের ছাত্র মতিউর রহমান এবং রাজশাহী ইউনিভার্সিটির শিক্ষক শামসুদ্দোহা শহীদ হন।

চরম আন্দোলনের মুখে জেনারেল আয়ুব খান নতুন সৈরশাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সরে যায়।

চরম চাপের মুখে ইয়াহিয়া খান ১৯৭০ এ সাধারন নির্বাচনের ঘোষনা দেয়। সেই নির্বাচনে আওয়ামীলীগ পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯ টি আসনের মধ্যে ১৬৭ টি আসন পায় যা সমগ্র পাকিস্তানের সর্বমোট ৩০০ আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ট ছিলো।

তত্তকালীন সামরিক সরকার এই ফলাফল মেনে নিতে অসীকৃতি জানায়।

[চলব…..]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *