বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ও জিয়ে পাকিস্তান

প্রথমে হুমায়ুন আহমেদের জোসনা ও জননীর গল্প নামে একটা উপন্যাস (ইতিহাসের বই নয় কিন্তু!), আর তারপর সাবেক বিচারপতি হাবিবুর রহমান। হুমায়ুন প্রয়াত শামসুর রাহমানের বরাতে জানিয়েছেন ১৯৭১ সালে ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু জিয়ে পাকিস্তান কিংবা পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলেছেন। এটা নিয়ে স্বাধীনতা বিরোধী পক্ষের তুমুল হৈ চৈ। প্রথম কথা হচ্ছে ৭ মার্চ যদি বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান জিন্দাবাদ বা জিয়ে পাকিস্তান বলেও থাকেন, তাতে মহাভারত অশুদ্ধ হয় না। এতটুকু শুদ্ধতাহানী হয় না আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের। কারণ ২৫ মার্চ মাঝরাতে (ক্যালেন্ডারে খানিক পরই ২৬ মার্চ শুরু) পাকিস্তানীদের গণহত্যা ও ইপিআর ওয়ারলেসে স্বাধীনতার ঘোষণার প্রায় ১৮দিন আগে রেসকোর্সে দাড়িয়ে যে চরমপত্রটি পাঠ করেছেন তিনি, তাতে তখনও প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সঙ্গে দরকষাকষির শর্তাদি ছিলো।

যাক সে কথা। ফিরে আসি জিয়ে পাকিস্তান তত্বে। এখন পর্যন্ত ৭ই মার্চের পুরো ভাষণে (যা একাধিক বিদেশী মিডিয়াতেও ধারণকৃত) কোথাও পাকিস্তান জিন্দাবাদের প্রমাণ মেলেনি। এমনকি জামাতে ইসলামী বিএনপির সঙ্গে দুই দফা ক্ষমতার মোয়া খাওয়ার সময়ও এমন প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। কিন্তু রথিমহারথিদের উদাহরণ যখন মানা হচ্ছে, তখন নিশ্চয়ই ডালমে কুচ কালা থা। অবশেষে হাতে পড়লো একটি ছবি। সেই সাতই মার্চের। সম্ভবত এটাই সেই জিন্দাবাদ রহস্যের সমাধান (অরিজিনাল টেপটি শিগগিরই হাতে পাবো, তখন নিশ্চিত করতে পারবো)।

ঘটনা হচ্ছে ৭ মার্চ সেই ঐতিহাসিক ভাষণ শেষে একটি মুনাজাত পরিচালনা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। উত্তাল সেই দিনগুলোয় তখন পর্যন্ত শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে। সেই মুনাজাতের শেষে পাকিস্তান জিন্দাবাদ কিংবা জিয়ে পাকিস্তান হয়তো বলেছিলেন তিনি। কিন্তু এই মুনাজাতকে ভাষণের অন্তর্গত রাখা হয়নি কোনো উপাত্তেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *