বঙ্গবন্ধুর চিন্তা ও দর্শন

বঙ্গবন্ধু ও কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেছিলেন। আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শহিদ হয়েছিলেন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। অর্থাৎ আগস্ট মাসেই এই দুই মহামানব পরলোক গমন করেছিলেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘সভ্যতার সংকট’ প্রবন্ধে লিখেছেন, “পরিত্রাণকর্তার জন্মদিন আসছে আমাদের এই দারিদ্র্য লাঞ্ছিত কুটিরের মধ্যে; অপেক্ষা করে থাকব, সভ্যতার দৈববাণী সে নিয়ে আসবে, মানুষের চরম আশ্বাসের কথা মানুষকে এসে শোনাবে এই পূর্বদিগন্ত থেকেই”। বঙ্গবন্ধুই হচ্ছেন ইতিহাসের সেই মহানায়ক; যাঁর কথা বিশ্বকবি তাঁর ‘সভ্যতার সংকট’ প্রবন্ধে উল্লেখ করেছিলেন। আবার, ‘স্বদেশী সমাজ’ প্রবন্ধে কবিগুরু লিখেছিলেন, “স্বদেশকে একটি বিশেষ ব্যক্তির মধ্যে আমরা উপলব্ধি করতে চাই। এমন একটি লোক চাই, যিনি আমাদের সমস্ত সমাজের প্রতিমাস্বরূপ হইবেন। তাহাকে অবলম্বন করিয়াই আমরা আমাদের বৃহৎ স্বদেশীয় সমাজকে ভক্তি করিব, সেবা করিব। তাহার সঙ্গে যোগ রাখিলেই সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তির সঙ্গে আমাদের যোগ রক্ষিত হইবে”। নিঃসন্দেহে বাংলার মানুষ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে যোগ রেখেছিলেন বলেই এত দ্রুত দেশটি স্বাধীন করা সম্ভব হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর সুদক্ষ নেতৃত্বেই ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিঙ পাখির মতো উঠে দাঁড়িয়েছে ‘আরেক বাংলাদেশ’।
বঙ্গবন্ধু আপাদমস্তক একজন সংস্কৃতিপ্রেমী ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর জীবনে কবিগুরুর প্রভাব ছিল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইউব খান ও তাঁর অনুচরবৃন্দ রবীন্দ্র-বিদ্বেষী ছিলেন। তাই সামরিক সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠান পণ্ড করার জন্য অপচেষ্টা চালায়। পাকিস্তান সরকারের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাঙালি জাতিসত্তার প্রতি আঘাত হানা। কিন্তু এ অপতৎপরতা গণআন্দোলনের রূপ পরিগ্রহ করে। পাকিস্তানি শাসনের প্রতিরোধ উপেক্ষা করে বিভিন্ন সভা-সমিতি অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন করে। এই সময় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘ছায়ানট’। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ছয়দফা ঘোষণার পর অসাম্প্রদায়িক আন্দোলনের এই ধারা আরও বেগবান হয়।
১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের সময় রবীন্দ্রসংগীত প্রচার বন্ধ থাকে। ছয়দফা আন্দোলন দমনের জন্য সরকার কেবল রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করেই ক্ষান্ত হয়নি। পূর্ববাংলার ভাষা-সংস্কৃতির উপরও নগ্ন হামলা চালায়। রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধ করার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে ১৯৬৭ সালের জুন মাসে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে এটা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। ২৩ জুন পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্রসংগীত প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী খাজা শাহাবুদ্দিন বলেন, রবীন্দ্রসংগীত আমাদের সংস্কৃতির অঙ্গ নয়। তিনি বলেন, রেডিও ও টেলিভিশন থেকে পাকিস্তানবিরোধী রবীন্দ্রসংগীতের প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে রবীন্দ্রনাথের অন্য গানের প্রচারও হ্রাস করা হবে। খাজা শাহাবুদ্দিনের এ ঘোষণা প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ ও সংস্কৃতিমনাদের ক্ষুব্ধ করেছিল। পাকিস্তান সামরিক সরকারের ধারণা ছিল বঙ্গবন্ধুকে আটক করে রাজনৈতিক আন্দোলন দমানো সম্ভব হবে, একইসাথে রবীন্দ্রনাথকে নিষিদ্ধ করে সাংস্কৃতিক আন্দোলনকেও দুর্বল করা যাবে। খান এ. সবুরও রবীন্দ্রসংগীতকে হিন্দু সংস্কৃতির অংশ বলে মন্তব্য করেন। এ বিতর্কের বিষয়টি ঢাকার সংবাদপত্রে প্রকাশিত হলে ২৫ জুন ১৮ জন বাঙালি বুদ্ধিজীবী সরকারি বক্তব্যের সমালোচনা করে একটি বিবৃতি প্রদান করেন। রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগও এ ঘোষণার প্রতিবাদ জানায়। ‘ক্ষমতাবলে হয়তো সাময়িকভাবে রেডিও ও টেলিভিশন হইতে রবীন্দ্রসংগীতের প্রচার বন্ধ করা যাইতে পারে। কিন্তু গণচিত্ত হইতে রবীন্দ্রসংগীতের সুমধুর আবেদনকে কোনো কালেই মুছিয়া ফেলা যাইবে না’।
১৯৬৬ সালের ঢাকার ইডেন হোটেলে আওয়ামী লীগের ৩ দিন ব্যাপী কাউন্সিল অধিবেশনের উদ্বোধন হয়েছিল রবীন্দ্রনাথের ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’ গানটি দিয়ে। এই গানটিকেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত করবেন বলে ঠিক করে রেখেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের গান ও কবিতা ছিল বঙ্গবন্ধুর সঙ্গী। মমিনুল হক খোকা বলেন, “আজো কানে বাজে সেগুনবাগিচার বাসাতে মিঞাভাইর গুনগুনিয়ে সুর বাজা- ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলরে’, ‘বিপদে মোরে রক্ষা করো, এ নহে মোর প্রার্থনা’, ‘সংকোচের বিহ্বলতা নিজেরে অপমান’, ‘আমার সোনার বাংলা’ ও আরো নানা রবীন্দ্রসংগীতের পঙ্‌ক্তি”। রেডিও-টেলিভিশনে রবীন্দ্রসংগীতের ওপর থেকে সকলপ্রকার বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবি জানানোর পাশাপাশি রেডিও-টেলিভিশনে পর্যাপ্ত পরিমাণ রবীন্দ্রসংগীত প্রচারের দাবি জানান বঙ্গবন্ধু। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেন, “আমরা মির্জা গালিব, সক্রেটিস, শেঙপীয়ার, এরিস্টটল, দান্তে, লেনিন, মাও সে তুং পড়ি জ্ঞান আহরণের জন্য। আর দেউলিয়া সরকার আমাদের পাঠ নিষিদ্ধ করিয়া দিয়াছেন রবীন্দ্রনাথের লেখা; যিনি একজন বাঙালি কবি এবং বাংলায় কবিতা লিখিয়া যিনি বিশ্বকবি হইয়াছেন। আমরা এই ব্যবস্থা মানি না-আমরা রবীন্দ্রনাথের বই পড়িবই, আমরা রবীন্দ্রসংগীত গাহিবই এবং রবীন্দ্রসংগীত এই দেশে গীত হইবেই”। বঙ্গবন্ধু এভাবেই রাজনীতির সঙ্গে সংস্কৃতির সেতুবন্ধন রচনা করেছিলেন।
বেতার কর্মকর্তা আশরাফ-উজ-জামান তাঁর ‘দেশের বেতার ও শেখ মুজিব’ প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘প্রবল গণআন্দোলনে আইয়ুব খান এবং মোনায়েম খানের অপসারণের পর প্রথম বেতারের অনুষ্ঠান প্রচার নিয়ে আলাপ হয় শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে। দেশের ছাত্ররা ইতোমধ্যেই তাঁকে ‘বঙ্গবন্ধু’ আখ্যায় ভূষিত করেছে। দেখা হতেই তিনি প্রথম বেতার নিয়ে মন্তব্য প্রকাশ করলেন। বললেন, দেশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে অনুষ্ঠান প্রচার করতে না পারলে বন্ধ করে দিন। পরে কাছে এসে হেসে বলেছিলেন, একবার রবীন্দ্রনাথের ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি বেতার থেকে প্রচার করতে পারেন না?’ পরদিনই সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সমস্ত বেতার কর্মীদের একান্ত সহায়তায় বেতার থেকে ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি প্রচারিত হয়। আন্দোলনের সাথে সংযুক্ত করে বেতারে অনুষ্ঠান প্রচারেরও ব্যবস্থা নেয়া হয়।
১৯৬৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত রবীন্দ্রসংগীতের অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ছাড়া বাংলা ভাষা ও গান অসম্পূর্ণ। বেতার-টেলিভিশনে রবীন্দ্রসংগীত প্রচারের সময়সীমা বাড়ানোর জন্যও তিনি প্রস্তাব করেছিলেন। সাপ্তাহিক পূর্বাণী’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধু বলেন, “…বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার জন্যে জাতীয় পুনর্গঠন ব্যুরো স্থাপন করা হয়েছে। পাকিস্তান রেডিও এবং টেলিভিশনও এই ষড়যন্ত্রের দোসর। তারা রবীন্দ্র সংগীত প্রচার বন্ধ করে দিয়েছিল।…জনগণ তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এই চক্রান্ত সহ্য করবে না”।
১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় রবীন্দ্রনাথের ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’ গান দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল। পূর্ব পাকিস্তান সংগীত শিল্পী সমাজ ১৯৭১ সালের ২৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর সম্মানে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বঙ্গবন্ধু কবি-সাহিত্যিক-শিল্পীদের উদ্দেশ্যে সেই অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, আজ বস্তির নিঃস্ব সর্বহারা মানুষের জন্যে গান রচনার দিন এসেছে। রবীন্দ্রনাথ এবং নজরুলের মতো বিপ্লবী হতে হবে। মানুষের মনে প্রেরণা যোগাতে হবে। যদি এতে বাধা আসে, সেই বাধা-মুক্তির জন্য সাড়ে ৭ কোটি বাঙালি এগিয়ে আসবে।
১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করে লণ্ডন থেকে দিল্লী হয়ে ঢাকায় আসেন। ভারতীয় কূটনীতিক শশাঙ্ক ব্যানার্জি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে একই বিমানে ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বঙ্গবন্ধু বিমানে বসে ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি গুনগুন করে গাইছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাঁকে বলেছিলেন, এই গানটি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হবে। ১৯৭২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কলকাতায় ভাষণ দেয়ার সময় রবীন্দ্রনাথের ‘নিঃস্ব আমি রিক্ত আমি’ এবং ‘নাগিনীরা দিকে দিকে ফেলিতেছে বিষাক্ত নিশ্বাস’ কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭২ সালের মার্চ মাসে সাংবাদিক অমিতাভ চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করতে আসলে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “আমার রবীন্দ্র-প্রীতি ছোটবেলা থেকেই। মনে আছে, আমি তখন স্কুলের নিচু ক্লাসে পড়ি। হঠাৎ একটি সাধারণ কবিতার অতি সাধারণ দুটি লাইন আমাকে মুগ্ধ করে দিয়েছিল- ‘তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে!’ গ্রামের ছেলে আমি, সাদামাটা লোক। মনে হলো, এত সাদামাটা কথায় বাস্তুহারা এক দুঃখী মানুষের কথা তো আর কেউ লেখেননি। আমি সেই প্রথম মানুষকে ভালোবাসতে শিখলাম। তাছাড়া রবীন্দ্রনাথের ওই যে লেখা- ‘নমঃ নমঃ নমঃ সুন্দরী মম জননী বঙ্গভূমি/ গঙ্গার তীর স্নিগ্ধ সমীর জীবন জুড়ালে তুমি’-পড়ার পরই আমি দেশকে ভালোবাসতে শিখলাম। রবীন্দ্রনাথকে আমি ভালোবাসি তাঁর মানবপ্রেম ও দেশপ্রেমের জন্য”।
শামসুজ্জামান খান তাঁর বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ এবং প্রাসঙ্গিক কথকতা গ্রন্থে এ প্রসঙ্গে বলেন, “জাতীয় সংগীতও বঙ্গবন্ধুর নির্বাচন। তিনি রবীন্দ্রনাথকে ভালবাসতেন, তাঁর কবিতা যখন-তখন আবৃত্তি করতেন এবং তাঁর মনের গহীন কন্দরে বাংলার নিসর্গ ও তার মধ্যে সংস্থাপিত জনজীবন যে আবহ তৈরি করেছিলো তাতে ‘আমার সোনার বাংলা’-কে তিনি জাতীয় সংগীতের মর্যাদা দিবেন, এটাই স্বাভাবিক”। ১৯৭২ সালের ৮ মে রবীন্দ্রনাথের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু বলেন, “বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে লক্ষ লক্ষ প্রাণ ও অপরিমেয় ত্যাগের বিনিময়ে। কিন্তু সত্য, শ্রেয়, ন্যায় ও স্বাজাত্যের যে চেতনা বাঙালি কবিগুরুর কাছ থেকে লাভ করেছেন; আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রামে তাঁরও অবদান অনেকখানি। বাঙালির সংগ্রাম আজ সার্থক হয়েছে। বাঙালির রবীন্দ্র সম্মাননার চেয়ে বড় কোনো দৃষ্টান্ত আমার জানা নাই”। ১৯৭২ সালের ১৫ নভেম্বর কলকাতা একাডেমি অব ফাইন আর্টস রবীন্দ্রনাথের আঁকা একটি ছবি বঙ্গবন্ধুকে উপহার দিয়েছিল। প্রখ্যাত শিল্পী এম এম ঘোষ বঙ্গবন্ধুর রবীন্দ্রপ্রীতি দেখে মুগ্ধ হয়ে পাঁচ ফুট লম্বা রবীন্দ্রনাথের একটি প্রতিকৃতি উপহার দেন। ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমি আয়োজিত সাহিত্য সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য বঙ্গবন্ধুকে আমন্ত্রণ জানাতে গিয়েছিলেন একাডেমির কর্মকর্তাবৃন্দ। তাঁদের তিনি বলেছিলেন, আমি রবীন্দ্রনাথ পড়ি, ভালোবাসি তাঁকে-সাহিত্যে আমার পুঁজিতো ওইটুকুই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১১২তম জন্মবার্ষিকীতে দেয়া এক বাণীতে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, কবির রচনা ও গান জাতীয় জীবনকে উদ্বুদ্ধ করেছে। বঙ্গবন্ধু তাঁর বাসভবনে রবীন্দ্রনাথের বাণী বাঁধাই করে রেখেছিলেন। ভারতীয় সাহিত্যিক রমা চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, “পরম শ্রদ্ধেয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর গণভবনে তাঁর পরমপ্রিয় রবীন্দ্রনাথের যে মর্মস্পর্শী বাণীটি সুন্দর করে, শ্রদ্ধাভরে, আদরসহকারে বাঁধিয়ে রেখেছেন, সেইটি অশেষ আশা-বিশ্বাসের সঙ্গে উদ্ধৃত করে শেষ করছি-‘অবসান হল রাতি/ নিবাইয়া ফেল কালিমা-মলিন/ ঘরের কোণের বাতি।/ নিখিলের আলো পূর্ব-আকাশে/ জ্বালিল পুণ্যদিনে।/ এক পথে যারা চলিবে তাহারা/ সকলেরে নিক চিনে’।”
বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক প্রজ্ঞার সঙ্গে সাংস্কৃতিক সচেতনতা ছিল নিবিড়ভাবে সংযুক্ত। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের একজন একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন তিনি। বঙ্গবন্ধু তাঁকে বরণ করেছিলেন গভীর শ্রদ্ধায়, প্রদীপ্ত চেতনায়, জ্ঞানের মাহাত্ম্যে, সাহসের বলিষ্ঠতায়, মননের শাণিত প্রভায় এবং দিব্যলোকের অনিঃশেষ যাত্রায়। বাঙালি জাতিসত্তার মননে রবীন্দ্রনাথের উপস্থিতির অনিবার্য দিকটিকে রাজনীতি ও সংস্কৃতির যোগসূত্রে গেঁথে দিয়েছিলেন। এভাবেই রাজনীতির কবি বঙ্গবন্ধু সংস্কৃতির কবি রবীন্দ্রনাথকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেন।

মো. মোরশেদুল আলম | সহকারী অধ্যাপক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *