বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনসাধারণ, সব সম্প্রদায়ের মানুষ (হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান) একত্র হয়ে এক অখণ্ড বাঙালি জাতিতে পরিণত হয়েছিল, যেটা আগে কখনো হয়নি। বস্তুত এ সময় এ অঞ্চলের সর্বস্তরের বাঙালির মধ্যে যে অভূতপূর্ব স্বদেশপ্রেম জাগ্রত হয়েছিল, যেটা গত শতাব্দীর গোড়ার দিকে অর্থাত্ বিগত স্বদেশী যুগের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদবিরোধী বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কিন্তু সেটি ছিল খণ্ডিত আন্দোলন। এর প্রধান সীমাবদ্ধতা ছিল এই যে, তখনকার মুসলমান সমাজের বৃহত্তর অংশ ওই আন্দোলনে যোগ দেয়নি। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যথার্থই উপলব্ধি করেছিলেন যে, স্বদেশী আন্দোলনে বাংলার মুসলমানদের যোগ না দেয়ার প্রধান কারণ ছিল তার ভাষায়, ‘তাহাদের সঙ্গে আমরা কোনদিন হূদয়কে এক হইতে দিই নাই।’

স্বদেশী যুগের বাঙালি জাতীয়তাবাদের সঙ্গে আমাদের সময়কালের বাঙালি জাতীয়তাবাদের আরেকটা মৌলিক পার্থক্য হলো এই যে, সেকালের স্বদেশী আমলের বাঙালি জাতীয়তাবাদীরা স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেননি; তাদের জাতীয়তাবাদ ছিল ভারতীয় জাতীয়তাবাদ, তারা ব্রিটিশ শাসিত ভারত উপমহাদেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছিলেন। কিন্তু আমাদের সময়কালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালিরা ইতিহাসে এই প্রথম বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম ‘বাংলাদেশ’ রাষ্ট্র গঠন করতে সক্ষম হয়। বাঙালির সর্বকালের ইতিহাসে এটা সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ছাড়া এটা সম্ভব হতো না। তিনি সুকৌশলে ধাপে ধাপে আমাদেরকে স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছিলেন। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা দাবির মধ্যে স্বাধীনতার পূর্বাভাস খুঁজে পাওয়া যায়। ১৯৬৯-৭০-এর গণঅভ্যুত্থানে সেটা এক দফা অর্থাত্ স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে যায়।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু তার বিখ্যাত ভাষণে বাংলার জনগণকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত হতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। দেশবাসীকে ডাক দিয়ে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম… ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো।’ পাকিস্তানের জাঁদরেল সামরিক শাসকদের নাকের ডগায় বাস করে মুক্তিযুদ্ধ শুরু করার সপক্ষে এর চেয়ে বলিষ্ঠ ও পরিষ্কার আহ্বান আর কী হতে পারত সে সময়? বস্তুত আমাদের মুক্তিযুদ্ধ তো তখন থেকে শুরু হয়ে গিয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ হঠাত্ করে কোনো সেনাপতি বা সমরনায়কের ডাকে শুরু হয়নি। এটি ছিল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি। এ আন্দোলনের পুরোভাগে ছিলেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। একাত্তরের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বেচ্ছায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে ধরা দেয়ার পেছনে মনে হয় একটা কৌশলগত কারণ ছিল। এর ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি বিশ্বজনমতের সমর্থন লাভ করা সহজতর হয়েছিল।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছার পর বঙ্গবন্ধু তার প্রথম ভাষণে ঘোষণা করেছিলেন: ‘আমি স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই যে, বাংলাদেশ একটি আদর্শ রাষ্ট্র হবে। আর তার ভিত্তি বিশেষ কোনো ধর্মীয়ভিত্তিক হবে না। রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। এ দেশের কৃষক শ্রমিক, হিন্দু-মুসলমান সুখে থাকবে, শান্তিতে থাকবে।’

এই অসাধারণ ঘোষণার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রচিন্তার মূল নীতিগুলো পরিষ্কারভাবে ব্যক্ত করা হয়েছিল। বস্তুত ১৯৭২ সালের বাংলাদেশের সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র এই চারটি নীতিকে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে সন্নিবেশিত করা হয়। এখানে এই চার মূলনীতির কিছুটা ব্যাখ্যা দেয়া প্রয়োজন এই কারণে যে, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মূলনীতিগুলোর অপব্যাখ্যা করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করে এসেছে। প্রথমে জাতীয়তাবাদের কথা ধরা যাক। আবহমানকাল থেকে বাংলার জনগণ বহির্বিশ্বের কাছে বাঙালি বলে চিহ্নিত হয়ে এসেছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলার সব সম্প্রদায়ের মানুষের আত্মপরিচয় সম্পর্কে সম্মিলিত চেতনাই বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রধান উত্স। এই জাতীয় চেতনা ধর্মভিত্তিক বা সাম্প্রদায়িক নয়; এটি অসাম্প্রদায়িক বা ধর্মনিরপেক্ষ চেতনা, যেটি গড়ে উঠেছে এক অভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার ওপর ভিত্তি করে। সুতরাং আমাদের জাতীয়তাবাদ ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদ। আবার আমাদের দেশে যে গণআন্দোলন শুরু হয়েছিল, বিশেষ করে ভাষা আন্দোলনের সূত্র ধরে, যেটি চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে; সেটি ছিল প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক আন্দোলন। এ আন্দোলন ছিল অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ। তাই এই গণতন্ত্রের সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষতা অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। বস্তুত ধর্মনিরপেক্ষতাকে বাদ দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তেমনি সমাজতন্ত্রকেও রাষ্ট্রের মূলনীতি করার পেছনে একটি বিশেষ কারণ ছিল। বাংলাদেশ পৃথিবীর দরিদ্রতম দেশের অন্যতম। এ দেশের শতকরা ৮০ জন মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে, মানবেতর জীবনযাপন করছে। অশিক্ষা, অনাহার ও বেকারত্বের অভিশাপে জর্জরিত। এসব বিপন্ন অসহায় মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন কোনো ধরনের সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্ভব। বস্তুত আমাদের মতো দরিদ্র দেশে সমাজতন্ত্র ছাড়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তবে এই সমাজতন্ত্র যে নিছক কেতাবী সমাজতন্ত্র কিংবা সোভিয়েত রাশিয়া, গণচীন বা কোনো বিদেশী মডেল অনুযায়ী হবে না— এ ব্যাপারে আমার ধারণা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যথেষ্ট সচেতন ছিলেন। তিনি মনে করতেন যে বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এমন এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা উদ্ভাবন করতে হবে, যাতে জনগণের বৃহত্তম অংশের জীবনযাত্রার ন্যূনতম চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়। এজন্য অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগকেও যথেষ্ট পরিমাণে উত্সাহ দিতে হবে। উভয়ের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার ফলে আমাদের আর্থসামাজিক উন্নতির পথ সুগম হবে। এসব সমস্যা নিয়ে যখন আওয়ামী লীগ ও সরকারি মহলে ভাবনা-চিন্তা হচ্ছিল এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছিল এবং এর ফলে কিছুটা সুফল পাওয়ার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছিল, ঠিক সে সময় বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর কিছু লোক, যারা নানা কারণে সরকারের প্রতি বিক্ষুব্ধ ছিল, তারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেষ রাতে এক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে সপরিবারে হত্যা করে এবং আওয়ামী লীগ সরকারকে উত্খাত করে। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের ভেতরেই খন্দকার মোশতাক আহমদের নেতৃত্বে একটি চক্র বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কাজে লিপ্ত ছিল। এ চক্রের সঙ্গে বাংলাদেশের শত্রুদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। বস্তুত বাংলাদেশের ভেতরেই কিছু লোক ছিল, যারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে এবং পুরোপুরি পাকিস্তানপন্থী। তারা অনেকেই পাক হানাদার বাহিনীর দোসর ছিল। তারা স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়কে মনেপ্রাণে মেনে নিতে পারেনি। তাদের মধ্যে ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পাকিস্তানের প্রতি অনুরক্ত এক গোষ্ঠী। এ গোষ্ঠীর সঙ্গে খন্দকার মোশতাক ও তাঁর অনুসারীদের যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল, সেটা এখন প্রমাণিত হয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সামরিক অভ্যুত্থান ও স্বাধীন বাংলাদেশের জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড ছিল এ ষড়যন্ত্রেরই ফল।

বাঙালি জাতির চরম দুর্ভাগ্য, যে সময় বঙ্গবন্ধু তার মহান লক্ষ্য অর্জনের জন্য সুদৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে উদ্যত হচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদ ও তার এ দেশীয় দোসরদের ষড়যন্ত্রের নির্মম শিকার হলেন তিনি। এর কিছুদিন পর বঙ্গবন্ধুর চারজন ঘনিষ্ঠ সহকর্মী— সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, মনসুর আলী ও কামরুজ্জামানকে (জেলখানায় বন্দি অবস্থায়) নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। এমনিভাবে উত্খাত করা হলো স্বাধীন বাংলাদেশের নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারকে। যাদের হত্যা করা হলো, তারা সবাই ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সারির নায়ক এবং স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি। এটা সর্বজনবিদিত যে, আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদ ও তার দোসররা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে সুনজরে দেখেনি। তাই বাংলাদেশের মাটিতে যখন আধুনিককালের জঘন্যতম মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হলো, তখন সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও তার দোসররা তার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করেনি, বরং হত্যাকারীদের নিজেদের দেশে আশ্রয় দিয়েছে। ষড়যন্ত্র ও হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের মুখোশধারী যে ফ্যাসিস্ট সরকার অধিষ্ঠিত হলো, তাকে স্বীকৃতি দিতেও দ্বিধা করেনি তারা। বঙ্গবন্ধুর স্বঘোষিত হত্যাকারীদের বিচারকার্য একুশ বছর পর শুরু হলেও পরবর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে তা স্থগিত করে দেয়।

১৯৭১ সালে যে যে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল, সেই আশা-আকাঙ্ক্ষা কতখানি পূরণ হয়েছে, স্বাধীনতা লাভের তিন দশকের অধিককাল পর এ প্রশ্ন উত্থাপন করা মোটেই অবান্তর নয়। এটা অনস্বীকার্য যে জনগণের অধিকাংশ প্রত্যাশাই পূরণ করা সম্ভব হয়নি। তবু নিরাশ হওয়ার কারণ নেই। আত্মজিজ্ঞাসা ও আত্মবিশ্লেষণের মাধ্যমে এবং অভিন্নতার আলোকে আমাদের ক্রমাগত শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। আমাদের সাফল্য যেমন অকিঞ্চিত্কর নয়, তেমনি আমাদের ব্যর্থতাও পর্বতপ্রমাণ। একটা রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও বিপ্লবের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। বিপ্লবের পথ কণ্টকাকীর্ণ। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই যে, বিপ্লবের নায়করা ক্ষমতা লাভ করে কখনো কখনো বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন; তাদের ভুল-ভ্রান্তি ও সীমাবদ্ধতার জন্য তখন তাদের চরম মূল্য দিতে হয়েছে। তখন বিপ্লবের অগ্নিশিখা অনির্বাণ রাখার জন্য আবির্ভাব হয়েছে নতুন নেতৃত্বের। ফরাসি বিপ্লবের ইতিহাস আলোচনা করতে গিয়ে ইংরেজ ঐতিহাসিক Hearn Shaw বলেছেন: ‘Those who start a revolution are seldom those who end it.’ অর্থাত্ বিপ্লব যারা শুরু করেন, তারা অনেকেই বিপ্লব শেষ করতে পারেন না। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কালের ইতিহাসে তা-ই ঘটেছে। তবে ইতিহাসে বিপ্লবের নায়কদের মূলে রয়েছে, ইতিহাসের পাতা থেকে কাউকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ আজ এক মহাসংকটে নিমজ্জিত। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে স্বাধীনতার সপক্ষের সব শক্তিকে পরস্পরের মধ্যে ছোটখাটো মতপার্থক্য, বিরোধ ও ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে এক অভিন্ন জাতীয় প্লাটফর্মে মিলিত হওয়া একান্ত প্রয়োজন। স্বাধীনতার সংগ্রাম কখনো শেষ হয় না। নতুন নতুন পরিস্থিতিতে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ বা হুমকি মোকাবেলা করার জন্য নতুনভাবে সংগ্রাম শুরু করতে হয়। তাই সব প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিকে প্রতিহত করে বাংলাদেশকে একটি আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ প্রগতিশীল ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে পরিণত করার যে স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখেছিলেন, সেই স্বপ্নকে যে কোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করতে হবে— এই হোক আজ আমাদের অঙ্গীকার। (শেষ)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *