বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও রাজনীতি, বাঙালির ঐতিহাসিক বিবর্তন ধারায়, একটি ভৌগোলিক সীমারেখায় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাঙালির হাজার বছরের আশা-আকাক্সক্ষা, বেদনা-বিক্ষোভ ও আবহমান বাংলার ঐতিহ্যকে তিনি নিজের চেতনায় আত্মস্থ করেছেন। তার কণ্ঠে বাঙালি জাতির সার্বিক মুক্তির আকাক্সক্ষা প্রতিধ্বনিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সাম্রাজ্যবাদবিরোধী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মূর্ত প্রতীক। তিনি বিশ্ব শান্তি আন্দোলনের অন্যতম সেনানী এবং সমকালীন বিশ্বের মানবজাতির মুক্তিসংগ্রামে নিবেদিতপ্রাণ উৎসর্গীকৃত সন্তানদের একজন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা। বাঙালি জাতীয়তাকে বঙ্গবন্ধু আমাদের চিন্তা-চেতনা ও মননে গেঁথে দিয়েছেন। আমাদের বিস্মৃত জাতিসত্তাকে তিনি জাগ্রত করেছেন। বঙ্গবন্ধু যে বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা তা উনিশ শতকের সংকীর্ণ সাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদ নয় বরং বিশ শতকের আধুনিক ও ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদ। প্রসঙ্গত বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে অধ্যাপক এএফ সালাহ্উদ্দীন আহ্মদের মন্তব্য প্রণিধানযোগ্য।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সম্পর্কে আলোচনায়, লেখায়, ভাষণে ও সেমিনারে একটি কথা বারবার উঠে আসে : ‘বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু অবিচ্ছেদ্য’। বক্তারা যখন বলেন ‘এ নেতার জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না,’ তখন মনে হতে পারে এ উক্তি অতিশয়োক্তি। প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান ঐতিহাসিক সত্য। আবার যখন বলা বা লেখা হয় ‘সর্বযুগের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমান…’ তখন সর্বকালের বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া প্রয়োজন।যুগ যুগ ধরে পরিচালিত মুক্তিসংগ্রাম, রাজনৈতিক কর্মকা-, বিভিন্ন নেতার দর্শন শেখ মুজিবের রাজনৈতিক জীবন ও চিন্তা-ভাবনাকে প্রভাবিত করেছে। যদি তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেখানো হয়, তাহলে বাংলার হাজার বছরের ইতিহাসে তার স্থান নির্ণয় দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। একইভাবে বঙ্গবন্ধুকে যদি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়, তাহলেও বাংলাদেশের আবহমান ঐতিহ্য-সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা অস্বীকার করতে হয়। আজকের স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র বহু আগে থেকেই নিরন্তর বিবর্তনের মধ্য দিয়ে রূপ পেয়েছে। এ বিবর্তনের সঙ্গে বাঙালি ও বাংলাদেশের ইতিহাস অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।রাজনৈতিক পরিম-লে প্রাচীন যুগ থেকে বর্তমানকাল পর্যন্ত বাংলা ভাষাভাষী এলাকার ভৌগোলিক পরিবর্তনের একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখার উল্লেখ প্রসঙ্গত অপরিহার্য। ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের ফলে বাংলার পূর্বাঞ্চলের ভৌগোলিক সীমারেখা নির্দেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত বিভাগ ও বাংলা খ-িত হলেও পাকিস্তানের অন্তর্গত পূর্ববাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাভাষী সম্প্রদায় রাজনৈতিকভাবে ধর্মীয় পরিচয়ের পরও বাঙালি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নিজস্ব উত্তরাধিকার হিসেবে লাভ করেছে। বাংলার ইতিহাসের উত্তরাধিকার দেশভাগের কারণে নস্যাৎ হয়নি। এ জন্য বাংলার ইতিহাসের প্রাচীন কাল ও মধ্যযুগের বিবরণ, এর রাজনৈতিক কর্মকা-Ñ বিশেষভাবে মধ্যযুগে এই জনপদ যখন ভাষার ভিত্তিতে ‘বাঙ্গালাহ্’ নামে আখ্যায়িত হয়, তা মুসলিম শাসন আমলেই প্রচলিত হয়েছে, এ সত্য স্মরণে রাখা প্রয়োজন যে, তখনই বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের বিভিন্ন নামে অভিহিত হওয়ার ধারাটা বিলুপ্ত হয়। ‘মুসলমানেরা প্রথম হইতেই সমগ্র বাংলাদেশকে মুলুক বাঙ্গালা বলিত।’এ জন্যই সংক্ষিপ্ত পরিসরে মধ্যযুগের বাংলার মানুষ অর্থাৎ বাঙালির চিন্তা-ভাবনা, রাজনৈতিক কর্মকা-ের রূপরেখা এখানে তুলে ধরা হলো। বাংলার ইতিহাসের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন যে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তার একটা ধারণা দেওয়ার জন্য প্রাচীন ও মধ্যযুগের ভৌগোলিক পরিবর্তনের কিছুটা আভাস এখানে উল্লেখ করা হলো।গঙ্গানদীর ভাটির দিকে প্রাচীন বঙ্গ অববাহিকা ও তৎসংলগ্ন ভূভাগের বৈশিষ্ট্য প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্যে পাওয়া যায়। এই প্রাচীন বঙ্গদেশের এক-একটি জনপদ ভিন্ন ভিন্ন নামে অভিহিত হতো। ঐতেরেয় আরণ্যকে প্রথম বঙ্গজন অর্থাৎ জনগোষ্ঠী এবং জনপদের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গকে পু-্র বলা হতো এবং অধিবাসীদের বলা হতো পৌ-্রু। এরও উল্লেখ আছে ঐতেরেয় ব্রাহ্মণে। হর্ষচরিত নামে সংস্কৃত কাব্যে রাজা শশাঙ্ককে গৌড়েশ্বর বলা হতো। সপ্তম শতাব্দীতে রাজা শশাঙ্ক বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকা স্বীয় দখলে এনেছিলেন, পু-্রবর্ধনসহ প্রাচীন গৌড় দক্ষিণবঙ্গসহ তার দখলিকৃত এলাকায় তিনি গৌড় নামে রাজ্য স্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে গৌড়বঙ্গের বঙ্গ শব্দটিই বাংলা ভাষাভাষী এলাকার প্রতীক হিসেবে সামনে আসে। বাংলাদেশে মুসলিম শাসনের সূচনালগ্নে ত্রয়োদশ শতকে বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চল একক একটি নামে অভিহিত হতো না। ওই সময় রাঢ়, বরেন্দ্র, সমতট ও বঙ্গ ইত্যাদি নামে বাংলাভাষী বিভিন্ন অঞ্চলকে বোঝাতো, সমগ্র বাংলাদেশ বোঝাত না।শশাঙ্ক থেকে সেন আমলের প্রারম্ভ কালের প্রায় পাঁচশ’ বছরের গৌড় ও বঙ্গের রাষ্ট্রীয় দ্বন্দ্ব ও অনৈক্যের অবসান ঘটিয়ে সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ (১৩৫২ খ্রি.) লখনৌতি বা লক্ষণাবতী, সোনারগাঁও ও সাতগাঁও একত্র করে স্বাধীন রাজ্য হিসেবে ‘বাঙ্গালাহ্’ প্রতিষ্ঠা করেন।তখন থেকেই সমগ্র বাংলা ভাষাভাষী বিভাগগুলো ‘বাঙ্গালা’ নামে পরিচিত হতে থাকে। সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহের সেনাবাহিনীকে বলা হতো ‘বাঙ্গালার পাইক’, অপরদিকে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন চর্যাপদের রচনাকাল অষ্টম (মতান্তরে সপ্তম) শতাব্দী থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে। এসব তথ্য থেকে স্পষ্ট হয় যে,বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে বাঙালি জনগোষ্ঠীর একটি সংহত রূপ গড়ে উঠতে শুরু করে হাজার বছর আগে। বাঙালি জনগোষ্ঠীর নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য আরও কয়েক শতাব্দী আগে থেকে বাঙালি জাতির এই সংহত রূপ নির্ধারণ করেছে।‘বাঙ্গালাহ্’ নামে যে জনপদ সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ্ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তার রাজনৈতিক ইতিহাস গড়ে উঠেছে রাজা শশাঙ্কের সময়ে। এই প্রাচীন জনপদে বাংলাভাষা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে একটি জাতি হিসেবে বাঙালি জাতির আত্মপ্রকাশ শুরু হয়। মুসলিম শাসকদের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক যুগে বাঙালি হিসেবে অর্থাৎ জাতীয়-চেতনার উদ্ভব ও বিকাশ তার ভাষা ও সাহিত্যকে অবলম্বন করে উন্মেষ হতে থাকে। মধ্যযুগে পাঠান শাসনামল থেকে জাতীয় চেতনা বিকাশে সমাজ ও সংস্কৃতিতে হিন্দু ও মুসলমানের সহাবস্থান এক বাস্তবতা। মুসলমান শাসকগণ দেশ-শাসনের সুবিধা ও এ দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করার আগ্রহ থেকে স্থানীয় অধিবাসীদের সঙ্গে মিলিত জীবনযাপনে সমন্বিত সংস্কৃতিচর্চায় পৃষ্ঠপোষকতা দিতে থাকেন। অষ্টাদশ শতকে উপমহাদেশে ব্রিটিশের শাসন বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বাঙালির সমাজ জীবনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দেয়।ইউরোপীয় রেনেসাঁসের সংস্পর্শে জাতীয় ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা এবং উন্নতির ধারাটা স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে উনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিক থেকেই।ভারত ভাগের সময় যখন বাংলাকে খ-িত না করে ঐক্যবদ্ধ রাখার একটা প্রয়াস নেওয়া হয়েছিল, তখন নিখিল বঙ্গ প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সম্পাদক আবুল হাশিম একটি বিবৃতি দেন, বিবৃতিতে তিনি বলেছিলেন :আধুনিক বিপ্লবী চিন্তার জন্য ভারত বাংলার কাছে ঋণী। প্রকৃত বিপ্লব নির্বিচার হত্যার মধ্যে নিহিত নয়, বরং চিন্তা ও চেতনায় বিপ্লব আনার জন্য বাংলাকে তার হীনমন্যতা ও হতাশাবাদী মানসিকতা ঝেড়ে ফেলে আপন অতীত ঐতিহ্যে ফিরে যেতে হবে, তার প্রকৃতভাবধারার শীর্ষে উঠতে হবে এবং তার ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে।পাকিস্তান আন্দোলনের সময় ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি এবং এমএন রায়ের র‌্যাডিক্যাল হিউম্যানিস্ট সংগঠন মুসলমান জনগোষ্ঠীর জন্য পৃথক রাষ্ট্রের দাবিকে জাতীয় সংখ্যালঘুর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে। এমএন রায় ‘পাকিস্তান ও গণতন্ত্র’ নামে একটি নিবন্ধে এ যুক্তির অবতারণা করেন যে,পাকিস্তান আন্দোলন হলো জাতীয় সংখ্যালঘুর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার। সম্প্রদায় হিসেবে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতা, সামাজিক অবস্থান, শিক্ষায় অনগ্রসরতা এবং তজ্জন্য কর্মসংস্থানের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার মতো কারণগুলো ধর্মীয় জাতীয়তাবাদকে সামনে নিয়ে আসে।পশ্চিমবঙ্গের বর্ষীয়ান বাম রাজনীতিবিদ ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু বলেছেন,নিজেদের রাজ্যের সংস্কৃতি, ভাষা ভালোবাসাটা কোনো মন্দ কথা নয়, তবে আমরা যে ভারতীয় এই কথাটা যেন সবসময় মনে থাকে। আমি দুঃখের সঙ্গে বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, এখন আর ভারতবর্ষকে একটা ‘নেশন’ বলে কেউ ভাবে না।দেশের মানুষকে একমাত্র ধর্মীয় বন্ধনে বেঁধে ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব নয়। কোনো জনগোষ্ঠী তার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে এক অভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং ভাষাগত ঐক্যের কারণে একটি নির্দিষ্ট ভূখ-ের অধিবাসী হিসেবে যখন নিজেদের মধ্যে একটা ঐক্য অনুভব করে, তখন তারা একটি জাতি হয়ে ওঠে। যেমন মধ্যপ্রাচ্যে আরবরা একই ধর্মাবলম্বী ও একই ভাষাভাষী হয়েও অসংখ্য রাষ্ট্রে বিভক্ত। নৃতাত্ত্বিক ধর্মীয় ও ভাষাতাত্ত্বিক অভিন্নতা তাদের একক রাষ্ট্রে বা জাতিতে পরিণত করতে পারেনি। ভারত ভাগের পর হাজার মাইল দূরে পাকিস্তানের অপর অংশের কেন্দ্রীয় শাসকরা যে আধিপত্য পূর্ববাংলার জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিল তা তরুণ রাজনৈতিক নেতা শেখ মুজিব ও তার সহকর্মীরা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরপরই বুঝতে পেরেছিলেন। পাকিস্তান আমলে সুদীর্ঘ আন্দোলনের দিনগুলোয় মানুষ, মাটি ও প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত শেখ মুজিব এ দেশের মানুষের মনে আত্মপরিচয়ের আকাক্সক্ষা নতুন করে জাগিয়ে দেওয়ার সাধনায় ব্রতী হন। শুধু ধর্মীয় অভিন্নতা ভৌগোলিক, নৃতাত্ত্বিক, ভাষাতাত্ত্বিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে পারেনি।শেখ মুজিবুর রহমান জোর দিয়েছিলেন পূর্ববাংলার অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ও তার সাংস্কৃতিক স্বাধিকারের ওপর।১৯৫৬ সালের ৯ জানুয়ারি থেকে নতুন গণপরিষদে সংবিধান রচনা শুরু হয়। নতুন সংবিধানে এক ইউনিট ও সংখ্যাসাম্য নীতি গৃহীত হওয়ার ফলে ‘পূর্ব বাংলা’ সরকারিভাবে ‘পূর্ব পাকিস্তান’-এ পরিণত হলে গণপরিষদে শেখ মুজিব এ পরিবর্তনের বিরোধিতা করে মন্তব্য করেছিলেন, একমাত্র বঙ্গোপসাগর ছাড়া আমাদের দেশের পরিচয় বহন করার মতো আর কিছু রইল না!পাকিস্তানের রাজনীতি অপেক্ষা তিনি পূর্ববাংলার মানুষের ঐতিহ্য ও অধিকার নিয়ে সংগ্রাম ও আন্দোলনের ওপর বেশি জোর দিয়েছিলেন। স্বায়ত্তশাসন ও গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর মূল লক্ষ্য ছিল পূর্ববাংলার মানুষের সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে তাদের ঐক্যবদ্ধ করা। নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব অর্জন অপেক্ষা তিনি জোর দিয়েছিলেন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগকে তৃণমূল পর্যায়ে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত করার ওপর। এভাবেই তিনি এ দেশের মানুষকে তাদের জাতিসত্তাগত পরিচয় সামনে নিয়ে আসার কাজে অনুপ্রাণিত করেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থায় তাদের অধিকার সম্পর্কে পূর্ব বাংলার জনগণকে তিনি সজাগ ও সচেতন করে তোলেন।ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক-শাসনবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী আত্মোৎসর্গকারী বাংলার বীর সন্তানদের কথা তিনি বলতেন বিভিন্ন সভা ও অনুষ্ঠানে। পাকিস্তানি শাসকরা বাঙালিদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে গণ্য করত। শেখ মুজিব পাকিস্তানি শাসকদের এ মানসিকতা এবং রাজনীতিতে তার প্রতিফলনের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে আন্দোলন গড়ে তোলেন। এ সংগ্রাম ছিল বাঙালির আত্মপরিচয়ের সংগ্রাম, অবিচলভাবে যার হাল ধরেছেন বঙ্গবন্ধু। এ প্রক্রিয়ায় তিনি বাঙালির হৃদয়ে তার বিস্মৃত জাতীয়তাবোধকে নতুন করে জাগিয়ে তোলেন। পূর্ববাংলার অন্যান্য রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে এখানেই তার পার্থক্য। তার সব চিন্তা-ভাবনা ছিল এই বাংলার কৃষক, শ্রমিক, মধ্যবিত্ত, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক, ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মচারী, ছাত্র-যুবক, নারী-পুরুষসহ সমগ্র জাতিকে নিয়ে। বাঙালির স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে তিনি ক্ষমতায় যেতে চাননি। তিনি বারবার বলেছেন, এ দেশের মানুষের মুক্তির জন্য তিনি সংগ্রাম করছেন, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়। কীভাবে বঙ্গবন্ধু নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও বাঙালির মুক্তি সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন, কীভাবে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ ২৩ বছর আন্দোলন ও সংগ্রামে; সে ইতিহাসই হলো বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের ইতিহাস।১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগ হয় এবং তাতে বাংলাদেশও বিভক্ত হয়ে আজকের বাংলাদেশ বা পূর্ববঙ্গ প্রদেশ হিসেবে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। এর আগেও ১৯০৫ সালে ইংরেজের অধীন ভারতবর্ষের তৎকালীন বড়লাট বা গভর্নর জেনারেল লর্ড কার্জনের সময় বাংলা বিভক্ত হয়েছিল এবং তা বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলনের জন্ম দেয় পুনরায় একত্রীকরণের লক্ষ্যে। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার সৃষ্টি হয়েছিল তা ছিল সাম্প্রদায়িকতায় আচ্ছন্ন এবং তার অবসান ঘটেছিল সাম্প্রদায়িক সংঘাতে। বাংলার মুসলমান সম্প্রদায়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলনে যোগ দেয়নি এবং হিন্দু জাতীয়তাবাদের উত্থানের বাইরে ছিল। কিন্তু পাকিস্তানে যে বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে তা ভাষাভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক আধুনিক জাতীয়তাবাদ। এ বাঙালি জাতি মুসলমান, হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নিয়ে গঠিত।অতীতের বাংলানবাব সিরাজউদ্দৌলার আমলের বাংলাদেশ বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যাকে নিয়ে, ‘সুবে বাংলা’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বিভাগ, মালদা জেলা, পার্বত্য ত্রিপুরা এবং চিফ কমিশনার শাসিত আসাম নিয়ে পূর্ববাংলা-আসাম প্রদেশ গঠিত হয়, বাংলা গঠিত হয় দার্জিলিং, সম্বলপুর ও উড়িষ্যার পাঁচটি দেশীয় রাজ্য নিয়ে। বাদ ষ ১৩ পৃষ্ঠার পরপড়ে ছোট নাগপুরের পাঁচটি দেশীয় রাজ্য। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করার পর বিহারকে বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি বা বাংলা প্রদেশ গঠিত হয়।এই বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিই রবীন্দ্রনাথের সোনার বাংলা, নজরুলের বাংলাদেশ, জীবনানন্দের রূপসী বাংলা হিসেবে ভারত বিভাগের পূর্ব পর্যন্ত বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতিতে স্থান করে নিয়েছে। ১৯৪৭ সালে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির যে অংশ নিয়ে পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, ভারত ভাগের পর তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল আসামের সিলেট জেলা করিমগঞ্জকে বাদ দিয়ে।বাংলার ইতিহাসের বৈশিষ্ট্যগুলো ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষের অন্যান্য এলাকার তুলনায় বিশেষত্বের দাবি রাখে।ব্রিটিশ শাসিত ভারতে বঙ্গভঙ্গের ঘটনা এ দেশের রাজনৈতিক সমস্যার সঙ্গে শুধু নয়, তার সামাজিক চরিত্রের লক্ষণগুলোর সঙ্গেও জড়িত; ব্রিটিশ শাসকের ভেদনীতির কথা স্মরণে রেখেও এ দেশের সমস্যার ক্ষেত্রে আমাদের দায়ভার লুপ্ত হয় না। এ বাংলায় পরাধীনতার আমলে রাজনৈতিক ঐক্য ধারণে দুটো প্রয়াসের কথা এখানে স্মরণীয়। অসহযোগ খেলাফত আন্দোলন তার একটি; অসহযোগের সঙ্গে খেলাফতকে যুক্ত করা হয়েছিল হিন্দু মুসলিমের মধ্যে মিলন ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে।দ্বিতীয়টি হলো, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের ‘বেঙ্গল প্যাক্ট’। তিনি হিন্দু-মুসলিম বিরোধের মূলে সম্প্রদায়ভেদে অর্থনৈতিক বৈষম্যের চেহারাটা দূর করার জন্য এ প্যাক্ট করেন। তার মৃত্যুর পর ১৯২৬ সালে কংগ্রেস এ প্যাক্ট বাতিল করে। এ দুটি ঘটনাই বাংলার ইতিহাস ও বাঙালি জীবনকে প্রবলভাবে প্রভাবিত করেছে। পরবর্তীকালে ১৯৪০ সালে লাহোর প্রস্তাব এবং ভারত উপমহাদেশ বিভাগের ফলে বাংলা আবার ভাগ হলো। এসবই বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।লক্ষ্য করার বিষয়, বাংলার অসহযোগ-খেলাফত আন্দোলন ও চিত্তরঞ্জন (সিআর) দাশের বেঙ্গল প্যাক্টের যুগটি শেখ মুজিবের শৈশবকাল। বাংলার রাজনীতিতে প্রবেশ এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী সান্নিধ্যে ছাত্র রাজনীতির পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনে বিচরণের সময় শেখ মুজিব কৈশোর অতিক্রান্ত এক তরুণ। বেঙ্গল প্যাক্টের অন্যতম সমর্থক শহীদ সোহরাওয়ার্দীর দৃষ্টিভঙ্গি, গণতান্ত্রিক মানসিকতার প্রভাব তরুণ শেখ মুজিবের ওপর পড়েছিল। ভারতের ইতিহাসে তখন এক ক্রান্তিকাল। ভারত শাসন আইনে প্রথম ব্যবস্থাপক সভার নির্বাচন, সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ, হলওয়েল মনুমেন্ট অপসারণ আন্দোলন বাংলার রাজনীতিতে প্রধান স্থান দখল করেছে।সুভাষচন্দ্র বসুর ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক কর্মকা- তাকে প্রভাবিত করে। কিছু মুসলিম নেতা ও কর্মী হলওয়েল মনুমেন্ট অপসারণ আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিলেন। স্বাজাত্যবোধ সেদিন তাদের অনুপ্রাণিত করেছিল। এ স্বাজাত্যবোধের পরিচয় মেলে উপমহাদেশ বিভক্ত হওয়ার পর বেলেঘাটায় গান্ধীজির শান্তি মিশনের সঙ্গে সোহরাওয়ার্দীর অংশগ্রহণ সূত্রে শেখ মুজিবের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন।গান্ধীজির শান্তি মিশনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগে স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্ঠার জন্য শরৎ বসু-সোহরাওয়ার্দীর ভূমিকাও তাকে প্রভাবিত করেছিল। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর শেখ মুজিব পূর্ববাংলার ঢাকায় আসেন ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরে।১৯৪৭ সালের ২৩ মে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর অগ্রজ শরৎচন্দ্র বসু এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন,বাংলায় স্বাধীন রাষ্ট্র গঠিত হলে সেটি একটি সাধারণতন্ত্র (রিপাবলিক) হবে, এই রাষ্ট্রের প্রকৃত চরিত্র ও বিশেষত্ব হবে সমাজতান্ত্রিক। এখানে স্মরণীয় যে, ১৯৪৭ সালের জানুয়ারি থেকে কংগ্রেস নেতা শরৎচন্দ্র বসু, মুসলিম লীগ নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক হয়। সোহরাওয়ার্দী তখন বাংলার প্রধানমন্ত্রী। উড়িষ্যা ও বিহারের বাংলা ভাষাভাষী এলাকাসহ বৃহত্তর বাংলা অর্থাৎ গ্রেটার বেঙ্গল গঠিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেস নেতা কিরণশংকর রায় এবং কমিউনিস্ট নেতা বঙ্কিম মুখার্জি ও সোমনাথ লাহিড়ী প্রমুখের সঙ্গে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিম কয়েক দফা বৈঠকও করেছিলেন।শহীদ সোহরাওয়ার্দী মি. জিন্নাহর সঙ্গে আলাপ করলে তিনি বলেছিলেন, তার সম্মতি আছে; তবে কংগ্রেস হাই কমান্ড জানতে পারলে বেঁকে বসবে, কাজেই মিস্টার গান্ধী আগে ওই প্রস্তাব সমর্থন করুন, পরে তিনি সম্মতি দেবেন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মি. গান্ধীর সমর্থন পেয়েছিলেন মর্মে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে।শরৎ বসু গান্ধীজির সঙ্গে দেখা করেছিলেন। কিন্তু কংগ্রেস হাই কমান্ড বিশেষ করে সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল এবং প-িত নেহরু বসুর স্বাধীন বাংলার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন।সুতরাং জিন্নাহ সাহেবের পরবর্তী মতামত জানার কোনো সুযোগ ছিল না। এ পরিস্থিতিতে মুসলিম লীগ, কংগ্রেস ও হিন্দু মহাসভার সঙ্গে ব্রিটিশ শাসকদের সমঝোতা গড়ে ওঠে। ৩ জুন, ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। মওলানা আকরম খাঁ ব্যক্তিগত জীবনে অসাম্প্রদায়িক হলেও রাজনীতিতে ছিলেন রক্ষণশীল ও সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী। তাই অখ- বাংলার পরিবর্তে খ- বাংলাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করায় তিনি আপত্তি করেননি। বৃহত্তর স্বাধীন বাংলা প্রসঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমান পরবর্তীকালে লিখেছিলেন,‘… মি. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ন্যায় সাম্প্রদায়িকতাবাদীগণ এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হইতে দেয় নাই। … আমি নিশ্চিত যে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হইলে তাহা কত ভাল হইত, জনগণ আজ তাহা উপলব্ধি করিতে পারিতেছে।’নেতৃত্বের বিকাশ১৯৪৭-এর ২০ জুন বাংলা ভাগের সিদ্ধান্ত হয় বাংলার ব্যবস্থাপক পরিষদের সভায়। ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে ঢাকায় গণআজাদী লীগ নামে একটি অসাম্প্রদায়িক সংগঠন গড়ে ওঠে। এতে ছিলেন কামরুদ্দিন আহমদ, তাজউদ্দীন আহমদ, মোহাম্মদ তোয়াহা, অলি আহাদ প্রমুখ। ভারত ভাগ হওয়ার পর শেখ মুজিবুর রহমান, শহীদুল্লাহ কায়সার, আতাউর রহমান (রাজশাহী), দবিরুল ইসলাম (দিনাজপুর), আখলাকুর রহমান প্রমুখ এসে একত্র হয়েছিলেন তাদের সঙ্গে ঢাকার ১৫০ পুরানো মোগলটুলী কর্মী শিবিরে। এখানে ছিল মুসলিম লীগের বামপন্থি তরুণ কর্মীদের আড্ডা, এদের নিয়ে একটি রাজনৈতিক কর্মীসম্মেলন উপলক্ষে গঠিত অভ্যর্থনা কমিটিতে ছিলেন তসাদ্দুক আহমদ, শেখ মুজিবুর রহমান, আতাউর রহমান, শহীদুল্লাহ কায়সার, তাজউদ্দীন আহমদ প্রমুখ। রাজনৈতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭। এ সম্মেলনে যে ঘোষণাপত্র গৃহীত হয় তার কর্মসূচির চরিত্র ছিল অসাম্প্রদায়িক ও জাতীয়তাবাদী। এ সময়ে গঠিত হয় গণতান্ত্রিক যুবলীগ। শামসুল হক নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রথম আহ্বায়ক, শেখ মুজিবুর রহমান ও আতাউর রহমান সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক। ১৯৪৮ সালের জানুয়ারি মাসে সরকারি নিখিল পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের পাশাপাশি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ কমিটির আহ্বায়ক হয়েছিলেন নঈমুদ্দিন আহমদ। ১৪ সদস্য নিয়ে গঠিত সাংগঠনিক কমিটিতে শেখ মুজিবুর রহমানসহ তরুণ প্রগতিশীল ছাত্রকর্মীরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।এদিকে মুসলিম লীগকে জনগণের মধ্যে নিয়ে যাওয়ার যে উদ্যোগ নতুন করে শুরু হয়, তাতে মুসলিম লীগের রক্ষণশীল অংশ ভীত হয়ে নতুন সদস্য সংগ্রহের রসিদ বই এদের দিতে অস্বীকৃতি জানান। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর ১৯৪৮ সালের মার্চে ভাষা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ছাত্রনেতাদের সঙ্গে যে ৮-দফা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন তার ভিত্তিতে গ্রেপ্তারকৃত ছাত্রনেতা ও রাজনৈতিক কর্মীদের মুক্তি দেওয়া হয়। ওই সময়ের একটি ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, বন্দিমুক্তির ব্যাপারে সরকারের নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণকারী শেখ মুজিবের ভূমিকা ছিল ব্যতিক্রমী।বিংশ শতাব্দীর নিষ্ঠুরতম ট্র্যাজেডির মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদাতবার্ষিকীতেই বঙ্গবন্ধুর নামে ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সৃষ্টি হয়েছে। বঙ্গবন্ধু মৃত্যুঞ্জয় হয়ে আছেন বাংলাদেশের মানুষের ভালবাসায়। কোনো কূটকৌশল বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে পারবে না, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর অবদান চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তাই শতাব্দীর পর শতাব্দী বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকবেন বাঙালির প্রেরণার উৎস হয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.