বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্মেলনের ব্যাপক প্রস্তুতি

সবকটি জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল সম্পন্ন

আগামী ২৮ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যেই একাধিক উপ-পরিষদ গঠন করা হয়েছে। উপ-পরিষদসমূহ ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে সম্মেলনের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে সংগঠনের জেলাসমূহের নির্ধারিত কাউন্সিলর ও ডেলিগেটবৃন্দ অংশগ্রহণ করবেন। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল সম্পন্নের মাধ্যমে ৭৭টি সাংগঠনিক জেলা সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে।

শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগ
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নবগঠিত কমিটির সভাপতি হয়েছেন ছাবেদুর রহমান খোকা সিকদার ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন অনল কুমার দে। জেলা সদর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও সংসদীয় উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপি। উদ্বোধক ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি।

সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দল এবং সরকারের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন যথাক্রমে সাবেক সংসদ সদস্য মতিউর রহমান ও জেলা পরিষদ প্রশাসক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন। এর আগে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা মুকুটের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ভূইয়া ডাবলু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি প্রমুখ।

নেত্রকোনা জেলা আওয়ামী লীগ
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এ জন্য তিনি তার মেধা ও মননকে কাজে লাগিয়েছেন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জেলা শহরের ঐতিহাসিক মোক্তারপাড়া মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন তিনি। বিএনপি-জামাত নানামুখী ষড়যন্ত্র ও আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও চালিয়েও দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে পারেনিÑ এ কথা উল্লেখ করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। ২০৪২ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে আওয়ামী লীগের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। সম্মেলনের প্রধান অতিথি সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জেলার সভাপতি পদে দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ মতিয়র রহমান খানকে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খান খসরুকে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাম ঘোষণা করেন। নেত্রকোনা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মতিয়র রহমান খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলী খান খসরুর পরিচালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এমপি, কাজী জাফর উল্লাহ, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, সহ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিয়র রহমান এমপি, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মীর্জা আজম এমপি, যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল বীরপ্রতীক এমপি, ছবি বিশ্বাস এমপি, ইফতেখার উদ্দিন তালুকদার পিন্টু, যুব মহিলা লীগের সম্পাদিকা অধ্যাপিকা অপু উকিল, কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক শফি আহমেদ, অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও নেত্রকোনা পৌর মেয়র আলহাজ নজরুল ইসলাম খান ও যুগ্ম সম্পাদক নূর খান মিঠু প্রমুখ।

ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ
গত ২০ ফেব্রুয়ারি ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফজলুল কাদের মজনু মোল্লাকে সভাপতি ও আবদুল মমিন টুলুকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের প্রধান বক্তা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আগামী নির্বাচনের খুব বেশি আর দেরি নাই। তাই আপনারা এখন থেকেই সেই নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করুন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুল কাদের মজনু মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি। অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ড. মো. আবদুর রাজ্জাক এমপি, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি, লালমোহন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুন্নবী চৌধুরী এমপি, দৌলতখান আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলী আজম মুকুল এমপি। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মমিন টুলুর উপস্থাপনায় আরও বক্তব্য দেন ভোলা পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির।

কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি।
জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মদ হোসেন, কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এমপি, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি প্রমুখ। সম্মেলনে প্রধান অতিথি, সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমএ আফজলের নাম ঘোষণা করেন।

কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগ (উত্তর)
কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল আউয়াল সরকারকে সভাপতি ও জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি চান্দিনা মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে সম্মেলনের প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি তিন বছরের জন্য নতুন কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন।

কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগ (দক্ষিণ)
গত ৬ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপিকে সভাপতি ও রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব এমপিকে সাধারণ সম্পাদক করে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই কলেজ প্রাঙ্গণে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি। সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আ হ ম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক এমপি, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য আবদুর রহমান এমপি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য রবিউল মোক্তাদির চৌধুরী এমপি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য সুজিত রায় নন্দী, সংসদ সদস্য আবদুল মতিন খসরু, সংসদ সদস্য হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের বিদায়ী কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আফজল খান প্রমুখ।

পাকিস্তান ও খালেদার ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে
১৪ কিমি মানববন্ধন, গগনবিদারী স্লোগান
গাবতলী থেকে যাত্রাবাড়ী। দীর্ঘ ১৪ কিলোমিটার পথ। প্রখর রৌদ্র উপেক্ষা করে এই দীর্ঘ পথে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী লাখো মানুষ হাতে হাত ধরে গড়ে তোলে মানবপ্রাচীর। সর্বত্রই মানুষের ঢল। তাদের কণ্ঠে একাত্তরের পরাজিত শত্রু পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন আর তাদের এদেশীয় দোসরদের রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রচ- দাবি। ছিল গগণবিদারী একই আওয়াজÑ ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় রাজাকারদের ঠাঁই নাই, পাকিস্তানের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান।’ ঢাকাজুড়ে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ১৪ দলের নেতারা মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার বিরুদ্ধে পাকিস্তান ও খালেদা জিয়াসহ বিএনপি-জামাতের চক্রান্ত বন্ধের হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
এই দীর্ঘ পথের ১৪ স্পটে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ১৪ দলের শীর্ষ নেতারা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘পাকিস্তানের এজেন্ট ও দোসর’ আখ্যায়িত করে বলেছেন, যারা ত্রিশ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের ষড়যন্ত্র করেÑ তারা রাষ্ট্রদ্রোহী ও দেশের শত্রু। পাকিস্তানি এজেন্ট ও দোসরদের স্থান বাংলাদেশের মাটিতে হতে পারে না। খালেদা জিয়া পাকিপ্রেম ছেড়ে সুস্থ রাজনৈতিক ধারায় ফিরে না এলে দেশের মানুষই তাকে প্রতিহত করবে। আর স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তানের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ কিংবা মন্তব্য বিজয়ী বাঙালি জাতি মুখ বুঝে সহ্য করবে না। এমন ঘৃণ্য অবস্থান পরিবর্তন না করলে পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকবে কি-না, সেটিও এদেশের মানুষ নতুন করে ভেবে দেখবে। বক্তারা অবিলম্বে পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন, জামাতসহ রাজাকার-আলবদর ও তাদের দোসরদের রাজনীতি নিষিদ্ধ, ভোটাধিকার হরণ ও সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য দ্রুত আইন প্রণয়নের দাবি জানান।
এমনিভাবে রাজধানীতে মানববন্ধন কর্মসূচিতে লাখো মানুষের ¯্রােত নামিয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি বড় ধরনের শো-ডাউন করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম সম্পর্কে পাকিস্তান ও বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার কটূক্তি এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে ১৪ দলের উদ্যোগে গাবতলী থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত দীর্ঘ ১৪ কিলোমিটার রাস্তায় এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। জাতীয় সংসদ থেকেও ১৪ দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা বেরিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়।
বেলা ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার এই মানবপ্রাচীর কর্মসূচিতে সর্বত্রই ছিল মানুষের ঢল। প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন থেকে অজ¯্র মিছিল নিয়ে এই মানবপ্রাচীরে অংশ নেন চৌদ্দ দলের নেতা-কর্মী-সমর্থক ছাড়াও স্বাধীনতার পক্ষের অসংখ্য মানুষ। আর প্রতিটি স্থানেই ছিল পাকিস্তান ও তাদের এদেশীয় দোসরদের প্রতি প্রচ- ধিক্কার আর ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ। বিভিন্ন পয়েন্টে রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণ এক অন্যরকম পরিবেশের সৃষ্টি করে। গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে এই মানবপ্রাচীরের সূচনা। সেখান থেকে শ্যামলী, আসাদগেট, কলাবাগান, রাসেল স্কোয়ার, গ্রিন রোড, বসুন্ধরা মার্কেট, সোনারগাঁও হোটেল মোড় হয়ে শাহবাগ, সোহারওয়ার্দী উদ্যানের সামনে হয়ে মৎস্য ভবন, প্রেসকাব, পল্টন মোড় হয়ে নূর হোসেন স্কোয়ার, গুলিস্তান বঙ্গবন্ধু স্কোয়ার থেকে পার্কের ভেতর হয়ে ইত্তেফাক মোড়, রাজধানী সুপার মার্কেট হয়ে সায়েদাবাদ হয়ে যাত্রাবাড়ী গিয়ে এই মানবপ্রাচীর শেষ হয়। আর এই দীর্ঘ পথের বিভিন্ন পয়েন্টে আওয়ামী লীগসহ চৌদ্দ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এই মানবপ্রাচীর কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন। ঢাকা মহানগরীর প্রায় ১০০টি থানা থেকে পাকিস্তান ও খালেদা জিয়ার বিচারের দাবিতে বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লাকার্ড নিয়ে অজ¯্র মিছিল নির্দিষ্ট করে দেওয়া স্থানে এসে গড়ে তোলে এই মানবপ্রাচীর। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল মানুষকে ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যখন কুখ্যাত রাজাকারদের বিচার কার্যকর হচ্ছে তখন পরাজিতরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায়। বিএনপি তাদের জন্য মায়াকান্না করে বাঁচাতে না পেরে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু করে দিয়েছে। তাদের এই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতেই সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে আজ আমরা রাজপথে নেমেছি। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, এটাই আমাদের প্রতিবাদের ভাষা, শান্তির ভাষা। আমরা কোনোদিন জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতি করিনি, এখনও করব না। বিএনপির উদ্দেশে নাসিম বলেন, আপনারা পাকিস্তান-প্রেম বন্ধ করুন। আপনাদের নির্বাচনে পরাজিত করেছি, ভবিষ্যতেও কোনো নির্বাচনে আপনারা জয়ী হতে পারবেন না। ২০১৯ সালের নির্বাচনে আসুন, দেখি কে জয়ী হয়। আমার দেশের পতাকাকে অপমান করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। খালেদা জিয়াকে বলবÑ আপনি অনেক ষড়যন্ত্র করেছেন, মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন। এখনও সময় আছে পাকিস্তানের প্রেম ভুলে না গেলে দেশের জনগণ আপনাকে ক্ষমা করবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *