বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে সেঞ্চুরি বাংলাদেশের

এবার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে সেঞ্চুরি হলো। বাংলাদেশে ছোট-বড় মিলিয়ে এখন বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ১০০। গত ছয় বছরে ৭১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে মাইলফলকে পৌঁছাল বাংলাদেশ। ১০০টি কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১২০০০ মেগাওয়াট। গত ৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশুগঞ্জের ৩টি কেন্দ্র উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ১০০-তে পৌঁছে।
ওই দিন সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ৮৪০৪ মেগাওয়াট। এ সময় বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহ সমান ছিল। তাই কোথাও লোডশেডিং ছিল না। ছয় বছর আগে ২০০৯ সালে দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল ২৭টি। যার উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৪৯৪২ মেগাওয়াট। ২০১৫ সালে এসে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০০-তে। অর্থাৎ ছয় বছরে বেড়েছে ৭১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্যাপটিভ পাওয়ারসহ উৎপাদন বেড়েছে ১৪০৭৭ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ক্যাপটিভ থেকে পাওয়া যাচ্ছে ২২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি এ বিষয়ে বলেন, বর্তমান সরকারের নিরলস চেষ্টার ফল এই সেঞ্চুরি। এই ধারাবাহিকতা চলমান থাকবে। চলতি বছর আরও একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে ১৩টি নতুন কেন্দ্র চালু করা হবে। ২৪০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করার লক্ষ্য রয়েছে।
৮ নভেম্বর উদ্বোধন করা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো হলোÑ আশুগঞ্জ ২২৫ মেগাওয়াট কমবাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনাইটেড আশুগঞ্জ ২০০ মেগাওয়াট মডিউলার কেন্দ্র ও আশুগঞ্জ মিডল্যান্ড ৫১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র।
পিডিবির হিসাব অনুযায়ী দেশের ৯টি অঞ্চলে কেন্দ্রগুলো অবস্থিত। এর মধ্যে ঢাকা অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি কেন্দ্র রয়েছে। ঢাকায় ২৪টি কেন্দ্র, যার উৎপাদন ক্ষমতা ৩৩২৮ মেগাওয়াট। এরপর কুমিল্লা অঞ্চলে। এই অঞ্চলে ১৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ১৫৭৯ মেগাওয়াট। চট্টগ্রাম অঞ্চলে ১২টি, যার উৎপাদন ক্ষমতা ১৩২৫ মেগাওয়াট; রাজশাহী অঞ্চলে ১২টি, যার উৎপাদন ক্ষমতা ৮০৯ মেগাওয়াট; সিলেট অঞ্চলে ১০টি, যার উৎপাদন ক্ষমতা ৯৮৭ মেগাওয়াট; খুলনা অঞ্চলে ৮টি কেন্দ্রে ১১৪৭ মেগাওয়াট এবং রংপুর অঞ্চলে ৪টিতে ২৮০ মেগাওয়াট উৎপাদন হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, বর্তমানে দেশের ৭৪ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। অন্যদিকে ২০০৯ সালে সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠী ছিল ৪৭ শতাংশ। বর্তমানে মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় (কিলোওয়াট ঘণ্টায়) ৩৬১। জ্বালানি সংকটের কারণে ৪১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম উৎপাদন হচ্ছে। অন্যদিকে মেরামতের কারণে ১৭৮৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *