বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমনে গুরুত্বপূর্ণ নেতা শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিদেশি নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাদের কেউ কেউ শেখ হাসিনাকে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ দমনের সংগ্রামে এ অঞ্চলের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। সম্মেলনে চীন, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ভারত, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, শ্রীলংকাসহ ১১টি দেশের ৫৫ বিদেশি অতিথি অংশগ্রহণ করেন। বক্তব্য রাখেন ১৫ জন।
ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ন্যাশনাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. বিনয় সহ¯্রবুদ্ধে সম্মেলনে তার দলকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি শেখ হাসিনাকে বারবার ‘জননেত্রী’ উল্লেখ করে বলেন, এটা আপনার রাজনৈতিক ‘উপাধি’ নয়। আজকের এই সম্মেলনে আগত জনসমুদ্র দেখে এটা বুঝতে কষ্ট হয় না যে আপনি সত্যি সত্যিই জনমানুষের নেত্রী। যে নেত্রীর মধ্যে এমন গুণ বিদ্যমান তার জনপ্রিয়তা দেশ ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক পরিম-লে চলে যাবে এটাই স্বাভাবিক।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমি এই ঐতিহাসিক সম্মেলনের সফলতা কামনায় ভারতবাসীর প্রতিনিধি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিজেপি প্রেসিডেন্ট অমিত শাহ এবং বিজেপির শুভ কামনা নিয়ে এসেছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বিনয় সহ¯্রবুদ্ধে বলেন, ওই যুদ্ধের সময় আমি ছিলাম স্কুলছাত্র। বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা যেভাবে বীরের মতো লড়াই করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে তা শুনে ও পড়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিত হতাম। ওই সময় আমি বঙ্গবন্ধুর শত শত ছবি সংগ্রহ করেছিলাম। শেখ মুজিবুর রহমান কেবল বাংলাদেশের মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা নন, তিনি তাদের জন্যও অনুপ্রেরণা যারা স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচারের অনুসারী। তিনি বলেন, ভারত এবং বাংলাদেশ কেবল নামমাত্র বন্ধু নয়, দুই দেশের মানুষের আদর্শও বহুলাংশে অভিন্ন। ড. বিনয় প্রভাকর সহ¯্রবুদ্ধে শেখ হাসিনাকে উপমহাদেশের বিরল নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিষয়ক ভাইস মিনিস্টার ঝেং জিয়াওসং বলেন, আওয়ামী লীগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি। সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নে এবং জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি আরও বলেন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও আওয়ামী লীগ সব সময় নিবিড় সম্পর্ক রেখে চলেছে। এই সম্পর্ক দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে একটি চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী আজাদ এমপি বলেন, কংগ্রেস ও আওয়ামী লীগের সম্পর্ক অনেক পুরনো ও দৃঢ়। ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নানা সময়ে দুটি দল কাছাকাছি থেকেছে। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলনে এ দেশের মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। বাংলাদেশের ১ কোটি শরণার্থীর জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। গোলাম নবী আজাদ বলেন, কংগ্রেস ও আওয়ামী লীগ দুটি দলই নিজ নিজ দেশের উন্নয়নে স্বাধীনতার পর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
রাশিয়ার ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির ডেপুটি সেক্রেটারি সের্গেই ঝেলঝিনিয়াক বলেন, বাংলাদেশকে যেসব দেশ স্বাধীনতাযুদ্ধে সমর্থন করেছিল, তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন তার মধ্যে অন্যতম। আজকের রাশিয়া তারই উত্তরাধিকার। আন্তর্জাতিক নানা ক্ষেত্রে দুটি দেশের একই অবস্থান। ঝেলঝিনিয়াক বলেন, আমাদের বাণিজ্য ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। চলতি বছরে এই ইতিবাচক প্রবণতা আছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে রূপপুরে। গত জুলাই মাসে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হলো।
অস্ট্রেলিয়ার লেবার পার্টির নেতা হিউ ম্যাকডরমট ‘আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি’ বাংলায় এ কথাটুকু বলে বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া চতুর্থ রাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের সাথে যেসব রাষ্ট্র কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিল, সেসব দেশের মধ্যে প্রথমে ছিল অস্ট্রেলিয়া। আওয়ামী লীগ ও এর নেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের পুনর্গঠনে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন।
ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিএম) পলিট ব্যুরোর সদস্য বিমান বসু বলেন, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে উঁচু মানে তুলেছেন আপনারা। আপনাদের সরকারের উদ্যোগেই একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হয়েছে। সারা পৃথিবীর মানুষ এটা জানে। মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে আপনাদের ভূমিকাকে কুর্নিশ জানাই।
নেপালি কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা রামশরন মাহাতো বলেন, নেপালি কংগ্রেস আওয়ামী লীগের সাথে এক আবেগের বন্ধনে বাঁধা। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠালগ্নে অনেকেই বলেছিল, দেশটি উন্নতি করবে না। এ দেশের মানুষ এবং বঙ্গবন্ধু প্রমাণ করেছেন, এটি সত্য নয়। বাংলাদেশ এখন উদীয়মান অর্থনীতির একটি।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, দুই দেশ বেড়াজাল দিয়ে আলাদা করে রাখা হয়েছে; কিন্তু আমরা হৃদয় থেকে কখনও আলাদা হতে পারিনি। যখন কলেজের শুরুতে বঙ্গবন্ধু বা তার নাম শুনতাম তখন আমাদের মনে হতো যেন একটা শক্তি সঞ্চার হচ্ছে। আমার নিজের বাড়িও বাংলাদেশে।
এ ছাড়া ইতালির ডেমোক্র্যাটিক পার্টির খালিদ চাওকি এমপি, অস্ট্রিয়ার সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পাটির মিসেস ফুকস এমপি, শ্রীলংকার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী এএইচ মোহাম্মদ হাশেম, ওয়েলস লেবার পার্টির জেনি র‌্যাথবোন, কানাডার কনজারভেটিভ পার্টির দীপক ওবেরয়, আসামের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আসাম গণপরিষদের নেতা প্রফুল্ল কুমার মহন্ত, মেঘালয়ের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির মজিদ মেমন, মিজোরাম রাজ্যের মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্টের জোরাম থাঙ্গা প্রমুখ বক্তব্য দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *