মাথাপিছু আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখের বেশি

২০২০-২১ অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ২ শতাংশ ধরা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২ শতাংশ হিসেবে মাথাপিছু আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩২৬ ডলার। সেই হিসেবে প্রতি ডলার সমান ৮৬ টাকা ধরে মাথাপিছু আয় হবে ২ লাখ ৩৬ টাকা।

জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। মহামারি করোনা ভাইরাস সংকটময় পরিস্থিতি এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে মানুষের জীবন-জীবিকার কথা চিন্তায় রেখে এবারের বাজেটের শিরোনাম ‘অর্থনৈতিক উত্তরণ: ভবিষ্যৎ পথ পরিক্রমা’।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল সোয়া ৩টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন বক্তব্য শুরু করেন অর্থমন্ত্রী।

বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি মধ্যম আয়ের উন্নয়নশীল অর্থনীতি। এ অর্থনীতির বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে রয়েছে মধ্যম হারের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি এবং মূলধনী যন্ত্রপাতির জন্য আমদানি নির্ভরতা, বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরতা কমানো। কৃষি খাতের সংকোচনের সঙ্গে সঙ্গে শিল্প ও সেবাখাতের দ্রুত প্রবৃদ্ধি।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুততার সঙ্গে সমৃদ্ধি অর্জন করছে। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে মাথাপিছু বার্ষিক আয় ছিল মাত্র ৬৭৬ টাকা, এই হিসেবে একজন মানুষের দৈনিক আয় ছিল ১ টাকা ৮৫ পয়সা। এর পর থেকে মাথাপিছু আয় কখনও কমেনি। মাথাপিছু আয় বাড়তে বাড়তে ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৪০ টাকা হয়েছে। ফলে এখন প্রতিজন দৈনিক ৪৪০ টাকা আয় করে। ফলে ১৯৭২-৭৩ অর্থবছর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দু’শত ছত্রিশ গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে মাথাপিছু আয়। স্বাধীনতার পর থেকে মাথাপিছু আয় কখনও কমেনি বলে জানায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। জিডিপির প্রবৃদ্ধি সব সময় ইতিবাচক ছিল। পাশাপাশি বৃদ্ধি পেয়েছে মাথাপিছু আয়। স্বাধীন দেশের শুরুতে মাথাপিছু আয় ছিল ৬৭৬ টাকা, সেখানে মাত্র দুই যুগ পর (১৯৯৫-৯৬) সে মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়ায় ১১ হাজার ১৫২ টাকা। এর পরে ১৯৯৮-৯৯ সালে মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ১৪৩ টাকা। এক ধাপে ২০০০-০১ সালে মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়ায় ২৩ হাজার ৯১ টাকা। এর পরে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৩৬ হাজার ৪৪৮ টাকা, ২০১০-১১ অর্থবছরে ৬৬ হাজার ৪৪ টাকা মাথাপিছু আয় হয়।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে লাখ টাকা ছাড়ায় মাথাপিছু আয়। এই সময় মাথাপিছু আয় দাঁড়ায় ১ লাখ ১৪ হাজার ৬২১ টাকা। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় দাঁড়ায় ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৪০ টাকা। স্বাধীন বাংলাদেশে মাথাপিছু আয়ের বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে সব সময় বাড়তি। বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সমানভাবে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। জিডিপি আর মাথাপিছু আয় তারই ইঙ্গিত বহন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.