মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নিবেদিত রাজাকার বিষয়ক ছড়াগুচ্ছ

(এ ছড়াগুলো ব্লগে আগেই পোস্ট করা হয়েছে। তবে আলাদা আলাদা ভাবে। মহান স্বাধীনতার মাস উপলেক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের মহান শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে ছড়াগুলো একসাথে পোস্ট করা হলো। সকল মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতার পক্ষের সকল শক্তির জন্য বিনম্র লাল সালাম)

এক. বাচ্ছু রাজাকার

সে দিন পাড়ায় ঘুরতে দেখি
বাচ্চু রাজাকার
নাদুস-নুদুস বেশ হয়েছে
শরীর তাজাতার।

পোলাও কোর্মা বিরিয়ানী
খাচ্ছে মাছ ও খাসি
সকাল বিকাল গা টিপে দেয়
ডজন খানিক দাসী।

হেরেম খানায় ফুরফুরে সে
চারটা বিবি নিয়ে
একটা ডিভোর্স হলে পরে
করবে আরেক বিয়ে।

কোন বিবিটা তালাক দিবে
ভাবছে তড়িঘড়ি
বিয়ের আগেই কিনছে এবার
কামবর্ধক ‘বড়ি’।

নাদুস-নুদুস শরীর তবু
বয়স হলো ভার
‘বড়ি’ ছাড়া কীভাবে সে
চালাবে সংসার?

বাণী বয়ান করা এখন
বাচ্চু মিয়ার পেশা
মন থেকে তার যায়নি মুছে
পাকিস্তানী নেশা।

তাইতো দেশে বাচ্চুরা চায়
পাকিস্তানী ‘ক্যু’
-বিচার তোদের হবেই হবে
‘ছু মন্তর ছু’-

দুই. মতি তুই রাজাকার

মতি তুই রাজাকার জানি তোর মতিরে
বেগমের কোলে বসে করেছিলে গতিরে
হয়েছিলি মন্ত্রী
আসলেতো যন্ত্রী
হয়ে তুই করেছিলি শিল্পের ক্ষতিরে।।

পাট খেয়ে মাঠ খেয়ে খেয়েছিলি কৃষিরে
বেগমের সাথে তবু কাটে দিবা-নিশিরে
তোর বিচারের দাবি
‘মতি তুই কবে যাবি’-
শুনে ভয়ে করেছিস বিছানায় ‘হিসি’রে।।।

তিন. তুই রাজাকার

তুই রাজাকার তুই রাজাকার
ওয়াক থু তোর গালে
হারামী তোর বিচার হবে
দু’হাজার আট সালে।

আলবদরের জারজ পোনা
ছাড়বি দেশের মাটি
তোদের তাড়া করতে রেডি
কুত্তা, বিড়াল, লাঠি।

কায়েদী আজম নানারে তোর
গোলাম আজম বাবা
হারামজাদা বুঝবি এবার
বাংলা মায়ের থাবা।।

চার. একজন কনভার্টেট রাজাকারের সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জি

এক.
মানিক সোনা যৌবনে
আইন-কানুনের বালাই ছাড়া
মধু খেতেন মৌ-বনে

সোনা বুড়ো হলো রে
আইন-কানুনের সওদা করে
চক্ষু টলোমলো রে।

দুই.
বছর খানিক আগে সোনার
পকেট ছিল ‘জিরো’
সোনার এখন ভাবখানা সে
একাই দেশের ‘হিরো’

সকাল বিকাল স্বপ্নে বিভোর
করবে নতুন ‘বিয়া’
রাজাকারের সাথে সোনার
চলছে পরকিয়া

আলবদরের প্রেমের মাতম
বইছে সোনার প্রাণে
‘যুদ্ধাপরাধ’ এ দাবিটার
বোঝেন না তাই মানে

বিদেশ ফেরত মানকি সোনা
লক্ষী টেরা চোখ
বুকে কেবল উথাল-পাথাল
পাকিস্তানী শোক।

তিন.
সোনা মানিক বুড়ো মানিক
রাজাকারের ‘রোমিও’
আর ক’টা দিন সবুর করো
খেতে হবে ‘হোমিও’।

পাঁচ. মগের পোলা গোলাম-মতি
এক.
মগের পোলা গোলাম মতির
মগবাজারে বাস
হুরপরীদের নেশায় কাটে
নিশি বার মাস
দিনের বেলা ভাবখানা নেয়-
ওরাই সাধক-ঋষি
ওদের মুখে চলতে থাকুক
‘ওয়াক থু’ আর ‘হিসি’

দুই.
এই মাত্র খবর এলো মানিক মিয়ার পোলা
পালিয়েছে কাঁধে নিয়ে রাজাকারী ঝোলা
বক্তৃতাতে পাকা ছিল
আলবদরের কাকা ছিল
এখনতো সে পাবে না আর শান্ত্রি-সেপাই-ঠোলা
আর কত দিন করবি সোনা নদীর পানি ঘোলা!!!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *