রোহিঙ্গা আশ্রয়ে আন্তর্জাতিক অনুরোধ ‘অন্যায্য ও দুঃখজনক’

প্রায় ৫০০ রোহিঙ্গা নিয়ে একটি জাহাজ চুপিসারে ঢুকতে চেয়েছিল মালয়েশিয়া। কিন্তু, ধরা পড়ে যাওয়ায় তাদের ঢোকার অনুমতি দিচ্ছে না দেশটি। ফলে রোহিঙ্গা বোঝাই জাহাজটি এখন মালয়েশিয়া থেকে দূরে মিয়ানমার সমুদ্র সীমানার কাছে ভাসছে। জাহাজটি বাংলাদেশের সীমানার কাছে ধারেও নেই। অথচ অতীতে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় আবারও তাদের গ্রহণ করার জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ করছে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাসহ আরও কয়েকটি দেশ।

মিয়ানমারের নাগরিক হওয়ার পরেও ওই দেশটিকে অনুরোধ না করে কিংবা মালয়েশিয়াকেও আহ্বান না জানিয়ে বাংলাদেশকে এ বিষয়ে বারবার তাগাদা দেওয়ার বিষয়টিকে ‘অন্যায্য’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে সরকারের এখন শক্ত অবস্থান নেওয়া উচিত এই রোহিঙ্গাদের গ্রহণ না করার বিষয়ে।

এ বিষয়ে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মাদ তৌহিদ হোসেন বিদেশিদের অনুরোধকে অনায্য অভিহিত করে বলেন, ‘মানবিক কারণে বিশেষ প্রয়োজনে বাংলাদেশ ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। তার মানে এই নয় যে যেখানে যত রোহিঙ্গা আছে সবাইকে আমাদের আশ্রয় দিতে হবে।’

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের প্রতি আমাদের সহমর্মিতা আছে কিন্তু এমন আন্তর্জাতিক অনুরোধ অত্যন্ত দুঃখজনক।’

‘এটি ৫০০ বা ১ হাজার রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয় নয়, কারণ, এই অঞ্চলে আরও দেশ আছে এবং তাদেরও দায়িত্ব আছে, মন্তব্য করেন তৌহিদ হোসেন।

জাতিসংঘসহ অনুরোধকারী দেশগুলোর প্রতি তার পাল্টা প্রশ্ন, ‘দায়িত্ব কি শুধু বাংলাদেশের? যে দেশে যাওয়ার জন্য তারা জাহাজে রওয়ানা হয়েছিল সেই মালয়েশিয়ার কোনও দায়িত্ব নেই? তারা যে দেশের অধিবাসী সেই মিয়ানমারের কোনও দায়িত্ব নেই?’

মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড বা মিয়ানমারকে অনুরোধ না করে বাংলাদেশকে অনুরোধ করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এর কোনও যৌক্তিকতা নেই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *