শুভ জন্মদিন জয়তু শেখ রেহানা

বিরল স্বভাবের আড়ালচারী মানুষদের একজন, যিনি নেপথ্যে থেকেও সুস্থ রাজনৈতিক ধারার আন্দোলন-সংগ্রামে ইতিবাচক শক্তির উৎস। আজ ১৩ই সেপ্টেম্বর,জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের কনিষ্ঠ তণয়া ও প্রধানমন্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সহোদর শেখ রেহানার জল্মদিন।

জীবনের শুরুতেই জীবনযুদ্ধের সৈনিক তিনি। কৈশোর-উত্তীর্ণ বয়সে হারিয়েছেন মা-বাবা, ভাইদের। হারিয়েছেন স্বদেশের আশ্রয়। আশ্রয়হীন পরিবেশে দেশে দেশে ঘুরেছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত ছিল না কোথাও। ছিল না নিশ্চিত জীবন যাপনের নিশ্চয়তাও। লড়াই করেছেন।

ভেঙে পড়েননি। উপার্জনের জন্য নিজেকে নিযুক্ত করতে হয়েছে নানা কাজে। বড়বোন শেখ হাসিনা রাজনীতিতে।

আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী দলের নেতৃত্ব তুলে নিয়েছেন নিজের হাতে। শেখ রেহানা নেপথ্যে বড়বোনকে সব ধরণের সহযোগিতা করেছেন। শেখ হাসিনা যখন আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নিয়ে দেশে ফিরে আসেন, তখন তাঁর দুই সন্তান জয় ও পুতুলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন শেখ রেহানা।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব যেমন বিত্ত-বৈভব, সহায়-সম্পত্তির কথা কোনদিন চিন্তাও করতেন না। জীবনের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, দায়-দায়িত্ব এবং বিপর্যয়কে হাসিমুখে গ্রহণ করতেন, শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানাও বাবা-মায়ের মতই পার্থিব লোভের ঊর্ধ্বে থেকে সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত।

শত কষ্টের মধ্যেও তাঁরা পিতা-মাতার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। বিরল দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছেন এই দুই বোন। শেখ হাসিনার প্রথম সরকারের আমলে পাওয়া ধানমন্ডির ৬ নম্বর সড়কে ২০০কোটি টাকা মূল্যের বাড়িটিতে জামায়াত-বিএনপি জোট সরকারের আমলে ধানমন্ডি থানা স্থাপন করা হয়। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে এই বাড়িটি বৈধ মালিকানায় ফেরত পাওয়া শেখ রেহানার জন্য অতি সহজ ছিল। কিন্তু তিনি তা না করে উল্টো হাইকোর্টের রিট মামলা প্রত্যাহার করেন। সরকার থেকে পাওয়া বাড়িটি সরকারের কাছে ফিরিয়ে দেন ২০১২ সালের ১০মার্চ। তাঁর ব্যক্তি চরিত্রের এই নির্মোহ ও নিস্পৃহ থাকার বৈশিষ্ট্য তাঁকে মহীয়ান করেছে।

রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য তিনি। রাজনীতি থেকে নিজেকে সবসময় সরিয়ে রেখেছেন। তার পরও, বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ রেহানা অংশ নিতে যাচ্ছেন, এমন গুজব মাঝেমধ্যেই শোনা যায়। যদিও এসব কথা এখন পর্যন্ত গুজন হিসেবেই রয়ে গেছে। বাস্তবে এর কোনো প্রমাণ মেলেনি। তাই বলে তাঁকে রাজনীতি-বিচ্ছিন্ন কিংবা রাজনীতি-বিমুখ ভাবার কোনো কারণ নেই। যথেষ্ট রাজনীতি সচেতন তিনি। আড়াল থেকেই যে রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দেওয়া যায়, তার প্রমাণ তিনি রেখেছেন। বিশ্বসংসারে এমন আড়ালচারী কিছু মানুষের সন্ধান পাওয়া যায়, যারা নিভৃতে কাজ করেন দেশ ও মানুষের কল্যাণে।

ব্যক্তিগত মোহের ঊর্ধ্বে উঠে দেশচিন্তায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন শেখ রেহানা। নিজেকে নিয়ে ভাবিত হতে না পারার বিরল শক্তি তিনি অর্জন করেছেন। পাদপ্রদীপের আলোয় নিজেকে আলোকিত করার সব সুযোগ ও সুবিধা থাকা সত্ত্বেও এখন অব্দি নিজেকে রেখেছেন মোহমুক্ত। যাঁরা পারিবারিকভাবে নিতান্ত সাদামাটা জীবনে অভ্যস্ত, রাজনৈতিক আবহে বেড়ে ওঠার পরও এমন নিভৃত জীবন কাটানো তাঁদের পক্ষে সম্ভব।

ক্ষমতা কখনো শেখ রেহানার মোহভঙ্গ করতে পারেনি। কারণ তিনি সেই বিরল স্বভাবের আড়ালচারী মানুষদের একজন, যিনি নেপথ্যে থেকেও সুস্থ রাজনৈতিক ধারার আন্দোলন-সংগ্রামে ইতিবাচক শক্তির উৎস।জš§দিনে আজ তাঁকে জানাই শুভেচ্ছা। তিনি দীর্ঘায়ু হোন। বাংলার মানুষের পাশে সবসময় থাকুন। অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সাহস যুগিয়ে যান দেশে ও বিদেশে।
জয়তু শেখ রেহানা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.