সংগ্রামের ও গৌরবের ৬৯ বছর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয়

সাইদ আহমেদ বাবু:  বাঙালি জাতির ইতিহাস-ঐতিহ্য-আন্দোলন-সংগ্রাম-স্বাধিকার-স্বাধীনতার সাথে অবিচ্ছেদ্য নাম বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেরণা ও পৃষ্ঠপোষকতায় একঝাঁক মেধাবী তরুণদের উদ্যোগে ‘শিক্ষা-শান্তি-প্রগতি’র পতাকাবাহী এই ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠনের জন্ম ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি। তার নেতৃত্বেই ওই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের সভাকক্ষে এক সাধারণ আলোচনার মাধ্যমে এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রতিষ্ঠার সময়ের নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ, পরবর্তীতে মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের পর পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের পরিবর্তে হয় ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’। দেশের বৃহত্তম ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বাংলা, বাঙালির স্বাধীনতা ও স্বাধিকার অর্জনের লক্ষেই মূল দল আওয়ামী লীগের জন্মের এক বছর আগেই গৌরব ও ঐতিহ্যের এই ছাত্র সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। প্রতিষ্ঠাকালীন প্রথম আহ্বায়ক ছিলেন নাঈমউদ্দিন আহমেদ। সাংগঠনিকভাবে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করলে ছাত্রলীগের প্রথম সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন যথাক্রমে দবিরুল ইসলাম ও খালেক নেওয়াজ খান।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং চরম আত্মত্যাগের বিনিময়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমায় ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-এর প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়, ’৫৮-এর আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ৬-দফার পক্ষে গণ-অংশগ্রহণের মাধ্যমে মুক্তির সনদ হিসেবে এই দাবিকে প্রতিষ্ঠা, ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে কারাগার থেকে মুক্ত করে আনা, ১৯৬৯ সালে বাংলার ছাত্রসমাজ সারাদেশে দুর্বার গণ-আন্দোলন গড়ে তোলে, যা গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ বাংলার ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেন, যা ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের গতিকে ত্বরান্বিত করে। ’৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়লাভ এবং ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে অসংখ্য নেতাকর্মী সম্মুখসমরে অংশগ্রহণ করে পরাধীন বাংলায় লাল-সবুজের পতাকার স্বাধীনতার বিজয় ছিনিয়ে আনতে অগ্রসেনানীর ভূমিকা পালন করে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত রক্তে ভেজা লাল-সবুজের পতাকায় মিশে আছে ছাত্রলীগ প্রিয় সংগঠনের ১৭ হাজার অগ্রজের টগবগে তারুণ্যের রক্ত। স্বাধীনতা লাভের পর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ গড়ে তোলার জন্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে। এক কথায় বলা যায়, আওয়ামী লীগের অগ্রবাহিনী হলো ছাত্রলীগ।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির আকাশে নেমে আসে এক মহাদুর্যোগ, দেশি-বিদেশি প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের ক্রীড়ানক হিসেবে বিপথগামী ও বিশ্বাসঘাতক সেনা-কর্মকর্তাদের হাতে নির্মমভাবে শাহাদাতবরণ করেন সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, পরবর্তীতে ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতা। খুনি জিয়া-মোশতাক-রশীদ-ফারুক-ডালিম চক্র একাত্তরের পরাজিত শক্তির সাথে যোগসাজস করে শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশকে আবারও পাকিস্তানি মতাদর্শে পরিচালিত করার ঘৃণ্য অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। পরবর্তী বঙ্গবন্ধুবিহীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভাগ্যাকাশে যে কালো মেঘ গ্রাস করেছিল সেই মেঘ সরাতে প্রত্যাশার সূর্য হাতে ১৯৮১ সালে প্রত্যাবর্তন করলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা। সেদিন প্রিয় নেত্রীর পাশে ভ্যানগার্ডের ভূমিকায় ছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
১৯৮৩-এর ছাত্র আন্দোলন, সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী তীব্র আন্দোলন শেষে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পরও পুনঃবন্দিদশার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ছাত্রলীগের ইতিহাসের সোনালি অধ্যায়গুলোর মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার ক্ষতি মোকাবিলায় পালন করেছে অগ্রণী ভূমিকা। ’৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ছাত্রলীগ গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করে।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির তথাকথিত বিতর্কিত খালেদা জিয়ার একদলীয় ভোটারবিহীন ষড়যন্ত্রের নির্বাচন বানচালের মুখ্য ভূমিকা পালন করে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের দুর্বার আন্দোলনের ফলেই খালেদার নির্বাচন তাসের ঘরের মতো বানচাল হয়ে যায়।
১৯৯৬ সালে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি সরকার গঠন করে। যার মধ্য দিয়ে সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে শিক্ষার সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়। ন্যূনতম মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা পায় দেশের প্রতিটি জনগণ।
১৯৯৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ও বেতন বৃদ্ধির প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তুলেছিল ছাত্রলীগ। উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের বন্যাসহ সকল প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একই কার্যক্রম নিয়ে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।
২০০১ সালে ১ অক্টোবর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে বিএনপি-জামাত জোট সরকার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে রাষ্ট্রযন্ত্রকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহারের অপচেষ্টা করে। এর বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সূচিত ধারাবাহিক লড়াই সংগ্রামে নিয়োজিত ছিল ছাত্রলীগ।
২০০২ সালের ২৩ জুলাই বিএনপির পেটোয়া পুলিশ বাহিনী ও ছাত্রদলের নেতারা গভীর রাতে শামসুন্নাহার হলে ঢুকে ছাত্রীদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সেদিন শামসুন্নাহার হলের ছাত্রী-বোনদের সম্ভ্রম রক্ষায় ও দোষীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছিল।
১/১১-এর পটপরিবর্তনের মাধ্যমে জাতি সাজানো নির্বাচনের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেলেও সবচেয়ে ভয়ঙ্কর, অবিশ্বাস্য এবং ষড়যন্ত্রমূলক আঘাত আসে ১৬ জুলাই। এদিন তৎকালীন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিনা কারণে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে।
এই গ্রেফতারের প্রতিবাদে ছাত্রলীগ প্রথম প্রতিবাদ করে এবং সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সর্বাত্মক ছাত্র ধর্মঘট ও স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেয়। আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করে আনে শেখ হাসিনাকে।
২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতিহারের অঙ্গীকার অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তরুণ প্রজন্ম ও ছাত্রসমাজের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে দেশকে ইতিহাসের কলঙ্ক ও দায়মুক্ত করার লক্ষে স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য সম্পন্ন করতে বর্তমান সরকার যে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে সেই অঙ্গীকারকে সহযোগিতা করার জন্য ছাত্রলীগ নিজেদের আত্মনিয়োগ করে।
২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে তারুণ্যের বিস্ময়কর উত্থান ঘটে। এই বিপুল জাগরণ দেশের দৃশ্যপট বদলে দেয়। শাহবাগ আন্দোলনের অনুঘটক ও নিয়ামক শক্তি ছিল ছাত্রলীগ। যতক্ষণ গণজাগরণ মঞ্চ সঠিক পথে ছিল, ততক্ষণ ছাত্রলীগ ছিল এর প্রাণশক্তি।
২০১৩ সালের এপ্রিলে রানা প্লাজা ধ্বংসের সময় হাজার হাজার ব্যাগ রক্ত দিয়েছে এই মানবীয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ২০১৫ সালের এপ্রিলের ভয়াবহ ভূমিকম্পে নেপালবাসীর চরম দুর্দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে নেপালবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছে ছাত্রলীগ।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার জন্য নির্বাচন যখন জামাত-বিএনপির সন্ত্রাসীরা প্রতিহত করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল তখনই সারা বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সর্বস্তরের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দেশের সাধারণ জনগণ তথা ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে ভ্যানগার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিবির-ছাত্রদল সন্ত্রাসীরা যখন শিক্ষক ও ছাত্র হত্যার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে তখন ছাত্রলীগ প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সারাবাংলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্ত্রবাজমুক্ত করার লক্ষ্যে ক্লিন ক্যাম্পাস অ্যান্ড সেভ ক্যাম্পাস কর্মসূচি পালন করে। দেশের চলমান এই উন্নয়নের ধারা আরও গতিশীল রাখার।
শুধু স্বাধীনতা অর্জনে বুকের তাজা রক্ত দিয়েই নয়; বিএনপি-জামাত জোটের দুঃশাসনের সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষার আন্দোলনে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোকে সাথে নিয়ে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, শিক্ষার্থীদের বেতন ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন, সর্বোপরি শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদমুক্ত রাখতে কাজ করেছে ছাত্রলীগ, যা আজও অব্যাহত আছে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ সমাপ্ত করে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ ও উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী রাজপথে সাহসী ভূমিকা রেখেছে। এই আন্দোলন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের শত শত নেতাকর্মীকে শহীদ হতে হয়েছে।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে, সকল অশুভ শক্তিকে পেছনে ফেলে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে, দেশ গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আর দেশের যোগ্য প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে দূরন্ত গতিতে এগিয়ে চলেছে ছাত্রলীগ।
‘রূপকল্প ২০২১’ ও ‘রূপকল্প ২০৪১’ বাস্তবায়নে প্রযুক্তি দক্ষ ছাত্রসমাজ তৈরিতে ছাত্রলীগ কাজ করছে ও করবে। সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ১৯-দফা দাবি পেশ করেছে। ভবিষ্যতেও ছাত্রলীগ দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ শিক্ষাসেবা প্রাপ্তির নিশ্চয়তাকল্পে কাজ করবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। সম্প্রতি এই ধরিত্রী উষ্ণায়নের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য ৫০ হাজার বৃক্ষ রোপণ করেছে এই ছাত্রলীগ।
জন্ম থেকেই প্রতিক্রিয়াশীল চক্র ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে নানা চক্রান্তে লিপ্ত ছিল। স্বাধীন বাংলাদেশে যখন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ গড়ার কাজে পুনোর্দ্যমে গোটা জাতি বিভোর, ঠিক তখনই প্রতিক্রিয়াশীল চক্র তথাকথিত ‘বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র’র ধুয়া তুলে ১৯৭২ সালে ছাত্রলীগকে বিভক্ত করার অপ্রয়াস চালায়; কিন্তু কালের যাত্রায় প্রমাণিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পতাকাবাহী ছাত্রলীগই হচ্ছে মূলধারা। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সময় প্রভাবশালী কতিপয় নেতা ছাত্রলীগে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর বাংলাদেশ অনেক দূর পিছিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন থেমে থাকেনি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে যুদ্ধাপরাধমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। নবীনদের মেধা দেশ গড়ার কাজে লাগুক, স্বাধীনতার মূলমন্ত্রেও বিধৌত হোক নতুন প্রজন্মের বিবেক ও চেতনা। অনাগত প্রজন্মের লড়াই হোক সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আর মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে। বাঙালির প্রতিটি অর্জনের সাথে ছাত্রলীগের অবদান জাতি চিরদিন কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করবে। কারণ প্রতিটি অর্জনেই রয়েছে ছাত্রলীগ কর্মীদের আত্মত্যাগের ইতিহাস। ভাষা সংগ্রাম থেকে স্বাধীনতা সবক্ষেত্রেই ছাত্রলীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের দীর্ঘ পদযাত্রায় অসংখ্য নেতাকর্মী জীবন, ঘাম-শ্রম ও মেধা দিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠনে পরিণত করেছেন। তাদের সবার প্রতি আমাদের বিন¤্র শ্রদ্ধা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *