সর্বজনীনভাবে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী পালন করুন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদাতবার্ষিকী সর্বজনীনভাবে পালনের জন্য গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছে আওয়ামী লীগ। দলের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের মাতৃভূমি এ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা। দ্বিতীয় কেউ এটি হতে পারে না। তিনি বলেন, এবার বঙ্গবন্ধুর ৪০তম শাহাদাতবার্ষিকী পালনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ৪০ দিনব্যাপী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি, দেশের সব রাজনৈতিক দল ও সংগঠন এবং গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে জাতির পিতার শাহাদাতবার্ষিকী পালন করবে।
গত ২৩ জুলাই ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিভিন্ন সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেলের সম্পাদক, প্রকাশক ও সিনিয়র সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এ কথা বলেন। আগামী ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর ৪০তম শাহাদাতবার্ষিকীকে সামনে রেখে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমরা চাই শোকের মাস আগস্টে গণমাধ্যমগুলো নিজস্ব স্বকীয়তা থেকেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অনুষ্ঠান করুক কিংবা সংবাদ প্রকাশ করুক। বঙ্গবন্ধুকে জনমানুষের কাছে পৌঁছে দিক। তাদের এই সৃজনশীলতা থেকে নতুন প্রজন্মের পাশাপাশি আমরাও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে নতুন অনেক কিছু জানতে ও শিখতে পারব। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে আমরা কোনো কর্মসূচি কিংবা অনুষ্ঠান চাপিয়ে দিতে চাই না। চাপিয়ে দেওয়া কোনো কিছু মৌলিকও হয় না। গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলার প্রবণতা সম্পর্কে একাধিক সাংবাদিকদের নানা অভিযোগের জবাবে হাস্যোজ্জ্বল সৈয়দ আশরাফ বলেন, প্রতিদিন মিডিয়াতে কথা বললে জনপ্রিয়তা বাড়ে না, বরং কমে। আর যত কম কথা বলা যায়, ততই ভুল হওয়ার সুযোগ কম থাকে। প্রতিদিন কথা বললে একটি মিথ্যা কথা ঢাকতে অনেক মিথ্যা কথাও বলতে হয়। তা ছাড়া আমি যদি প্রতিদিন কথা বলি, তা হলে আমাদের দলের অন্য নেতারা সুযোগ পাবেন নাÑ এটা তো ঠিক না।
গণমাধ্যমকে সৎ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করার আহ্বান জানিয়ে সৈয়দ আশরাফ বলেন, সব সময়ের মতো সরকার এখনো গণমাধ্যমের পাশে রয়েছে। আমরা চাই স্বাধীন ও সার্বভৌম সাংবাদিকতা। আর গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে যে কোনো হামলা-মামলা ও নির্যাতনের বিষয়ে কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন পড়লে সরকার তা অবশ্যই করবে। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আশরাফ বলেন, বঙ্গবন্ধুই হচ্ছেন একটি ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনোদিনই আসত না। বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ, দেশের স্বাধীনতা। গণমাধ্যমের প্রতি তাই অনুরোধÑ জাতির পিতার মতো মহাপুরুষের দীর্ঘ ত্যাগ ও সংগ্রামী জীবনের কথা দেশের নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরুন। শুধু লেখনীর মাধ্যমেই নয়, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমেও ছোট ছোট শিশুর সামনে বঙ্গবন্ধুর অমরকীর্তি তুলে ধরতে হবে।
বঙ্গবন্ধুকে দেশের সব মানুষের জাতির পিতা উল্লেখ করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, বঙ্গবন্ধু কেবল আওয়ামী লীগের নয়, দেশের সব মানুষের জাতির পিতা। ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী, পাকিস্তানের মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর মতো আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্ম ও শাহাদাতবার্ষিকী এখনো সার্বজনীন হতে পারেনি। তবে ইতিহাস কখনো এক জায়গায় স্থির থাকে না। একদিন আমরাও হয়তো বা আমাদের জাতির পিতাকে সার্বজনীন করতে পারব, সবাই মিলেই তার জন্ম ও শাহাদাতবার্ষিকী পালন করতে পারব।
মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা সাংবাদিকদের সাথে এই মতবিনিময় সভার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, কুহেলিকার অন্ধকার থেকে এখন সৈয়দ আশরাফ প্রদীপের আলোতে উদ্ভাসিত হয়েছেন। এটা সত্যিই আনন্দের। সভায় প্রবীণ ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা বিভিন্ন পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে যথেচ্ছ ব্যবহার এবং শোক দিবস উপলক্ষে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানান। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ইতোমধ্যেই ১৫ আগস্টকে ঘিরে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। কারও নামে এমন চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া, বঙ্গবন্ধুর ছবি যথেচ্ছ ব্যবহার রোধেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
বঙ্গবন্ধুকে সার্বজনীন করা এবং বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী দলমত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে জাতীয়ভাবে পালনের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে সিনিয়র সাংবাদিকরা বলেন, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচি ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রচার দেখে মনে হয়, তিনি কেবলই আওয়ামী লীগের সম্পত্তি। তবে বঙ্গবন্ধুকে কোনো দলের একক সম্পদ হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক হবে না। বঙ্গবন্ধু সমগ্র জাতির সম্পদ। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিয়েছেন। তাই বঙ্গবন্ধুর জন্ম ও শাহাদাতবার্ষিকী জাতীয়ভাবে পালন করতে হলে আওয়ামী লীগকে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুকে মানুষের আত্মার আত্মীয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। প্রয়োজনে জামাত ছাড়া সকল রাজনৈতিক দল থেকে নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে জাতীয় কমিটি করে একটা ঐতিহাসিক প্রোগ্রাম করারও পরামর্শ দেন তারা।
সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, বঙ্গবন্ধু সমগ্র জাতির সম্পদ। তিনি আমাদের সকলের চেতনা। তিনি কোনো দলের সম্পদ নয়। যে মিথ্যা ধারণা বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে এতদিন দেওয়া হয়েছিল, সেটি এখন কাটতে শুরু করেছে তা জেনে আমরা আনন্দিত। উত্তরা ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে বিশ্বস্ত ও শক্তিশালী আমলাতন্ত্র গড়ে তোলার জন্য সৈয়দ আশরাফের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা শৃঙ্খলিত গণমাধ্যম নয়, সুশৃঙ্খল গণমাধ্যমের ভূমিকা রাখতে চাই।
বিশিষ্ট সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, পোস্টার-ফেস্টুনসহ নানা স্থানে বঙ্গবন্ধুর ছবি যেভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তাতে আমাদের কষ্ট লাগে। ডিইউজে সভাপতি আলতাফ মাহমুদও বঙ্গবন্ধুর ছবি যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধে সুনির্দিষ্ট গাইড লাইন প্রণয়নের দাবি জানান। মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু আওয়ামী লীগের সম্পতি হতে পারে না। তিনি সমস্ত বাঙালি জাতির সম্পদ। এখন শুধু দলের পোস্টার-ব্যানারেই নয়, বাজার কমিটিতেও বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব করে পক্ষান্তরে বঙ্গবন্ধুকেই খাটো করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সার্বজনীন অনুষ্ঠান করা যাচ্ছে না শুধু রাজনীতির কারণে।
বিএফইউজের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, প্রাচীন দল আওয়ামী লীগ এখন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তাই সরকারের সব অর্জনগুলো দলের মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। তিনি বলেন, জনগণের সাথে সম্পৃক্ততা না থাকায় মুসলিম লীগের মতো অনেক বড় দলও হারিয়ে গেছে। তাই দল ও সরকার যেন এক হয়ে না যায় সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।
কালের কণ্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন তরুণ প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর সম্পর্কে ভালোভাবে জানাতে পাঠ্য পুস্তকে বঙ্গবন্ধুকে ভালোভাবে তুলে ধরার পরামর্শ দিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে শুধু ১৫ আগস্টের শোক দিবসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সারাবছর বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাকে স্মরণ করতে হবে।
সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের জাতীয় সম্পদ। তাই তার মৃত্যুবার্ষিকী পালনের জন্য একটি জাতীয় কমিটি করতে হবে। যেখানে সকল রাজনৈতিক দলের নেতারা থাকবেন। সেখানে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।
মতবিনিময় সভায় সিনিয়র সাংবাদিকদের মধ্যে আরও উপস্থিত ও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সমকালের প্রকাশক একে আজাদ, সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মনিরুজ্জামান, ইনকিলাব সম্পাদক এমএম বাহাউদ্দিন, একাত্তরের মোজাম্মেল হক বাবু, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, সময় টেলিভিশনের আহমেদ জুবায়ের, দৈনিক ইত্তেফাকের মলয় পাঁড়ে, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের খালেদ মুহিউদ্দিন, আরটিভির মোর্শেদ আলম এমপি, বাংলাভিশনের মোস্তফা ফিরোজ, যমুনা টেলিভিশনের জাকারিয়া কাজল, এটিএন নিউজের মুন্নী সাহা, এটিএন নিউজের প্রভাষ আমিন, দেশ টিভির অলোক গুপ্ত প্রমুখ। এ সময় দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় শোক দিবস : ৪০ দিনব্যাপী কর্মসূচি
১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী। প্রতিবারের ন্যায় এবারও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহ জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে ৪০ দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

কর্মসূচি
১ আগস্ট, শনিবার (রাত ১২টা ১ মিনিটে), শোকের মাসের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর অভিমুখে আলোর মিছিল। ওইদিন দুপুর ১২টায় টুঙ্গিপাড়াস্থ বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ, জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ, দোয়া ও মোনাজাত। বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ কৃষক লীগের উদ্যোগে রক্তদান কর্মসূচি ও আলোচনা সভা। এর আগে ৩১ জুলাই সকাল ১০টায় শিল্পকলা একাডেমিতে আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে মাসব্যাপী ‘বাঙালির হৃদয়ের ফ্রেমে জাতির পিতা’ গ্রন্থের সংবাদচিত্র প্রদর্শনী কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। ৩ আগস্ট সোমবার বিকেল ৩টায় আওয়ামী তাঁতী লীগের আলোচনা সভা। ৪ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় নগর ভবনে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (দক্ষিণ)-এর উদ্যোগে শোক দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ৫ আগস্ট সকাল ৮টায় ধানমন্ডি আবহানী ক্লাব প্রাঙ্গণে শহীদ শেখ কামালের জন্মদিন পালন এবং সকাল ৯টায় বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সকাল ১১টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং বিকেল ৩টায় ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ৮ আগস্ট শনিবার বঙ্গমাতা শহীদ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন উপলক্ষে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ, কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল, বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল এবং বাদ আছর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহের মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা। ৯ আগস্ট রোববার বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বঙ্গমাতা শহীদ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও শহীদ শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা। ১০ আগস্ট সোমবার বিকেল ৩টায় জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের আলোচনা সভা এবং বিকেল ৩টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ১১ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটশন মিলনায়তনে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ১২ আগস্ট বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পীদের অংশগ্রহণে ‘রংতুলিতে শোকগাথা’ শীর্ষক চিত্রাঙ্কন অনুষ্ঠান এবং বিকেল ৩টায় মহানগর নাট্যমঞ্চে আওয়ামী যুবলীগের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যুব মহিলা লীগের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি
সূর্যোদয় ক্ষণে : বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সংগঠনের সকল স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল ৬টা ৪৫ মিনিট : ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে রক্ষিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা অর্পণ। সকাল ৭টা ৩০ মিনিট : বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল। সকাল ১০টায় : টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। টুঙ্গিপাড়ার কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। বাদ জোহর : দেশের সকল মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল। সুবিধামতো সময়ে মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা, উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা। দুপুর : অস্বচ্ছল দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ। বাদ আছর : বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।
১৬ আগস্ট ২০১৫ রোববার বিকেল ৪টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শোক দিবসের আলোচনা সভা। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা এমপি। ১৭ আগস্ট সোমবার বিকেল ৪টায় ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা। ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় শ্রমিক লীগের আলোচনা সভা। ১৯ আগস্ট বুধবার বিকেল ৩টায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের আলোচনা সভা। ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদের আয়োজনে আলোচনা সভা। ২১ আগস্ট শুক্রবার বিকেল ৪টায় ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং আলোচনা সভা। ২৩ আগস্ট রোববার বিকেল ৪টায় ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত শহীদদের স্মরণে যুব মহিলা লীগের আলোচনা সভা। ২৪ আগস্ট সোমবার বিকেল ৪টায় সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আলোচনা সভা। ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যাললয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত শহীদদের স্মরণে মহিলা আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা। ২৬ আগস্ট বুধবার বিকেল ৪টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ২৯ আগস্ট শনিবার বিকেল ৪টায় ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহিলা শ্রমিক লীগের আলোচনা সভা। ৩০ আগস্ট রোববার বিকেল ৪টায় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা। ৩১ আগস্ট সোমবার বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা এবং ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা আইনজীবী পরিষদ অডিটরিয়ামে আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *