> সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বঙ্গবন্ধু - বঙ্গবন্ধু শুধু একটি নাম

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বঙ্গবন্ধু

১৯৪৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের বয়স ছিল ছাব্বিশ বছর। তখন তিনি জাতির পিতা তো পরের কথা, বঙ্গবন্ধুও হননি। ছাব্বিশ বছরের এক তরুণ রাজনৈতিককর্মী। কিন্তু মানুষের প্রতি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করার জন্য জীবনের ঝুঁকি পর্যন্ত নিয়েছিলেন তিনি। আজ তার হাতে তৈরি দল রাষ্ট্রক্ষমতায়। তার আদর্শে উজ্জীবিত লাখ লাখ তরুণ দেশের আনাচে কানাচে। দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কারা নষ্ট করছে এটা সবাই জানে। কেন নষ্ট করছে সেটাও কারো অজানা নয়। সেদিকে না গিয়ে বরং তরুণরা কি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে তুলে ধরতে পারে না?

চলতি সপ্তাহের গত কয়েকদিনে বাংলাদেশে বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে সত্তরটিরও বেশি। অনেকে ভেবেছিলেন পুজো শেষে হয়ত আর এটা থাকবে না। কিন্তু হায়! পুজো তো ছিল একটা ছুতো। নইলে প্রতিমা বিসর্জনের পর কিংবা পুজোর পরদিন পীরগঞ্জের আগুন ও হামলা হলো কেন? তাহলে প্রশ্ন, বাংলাদেশে কি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে?

এ প্রশ্নের জবাব খোঁজার আগে পৌনে এক শতাব্দি আগে ঘটা দাঙ্গার ঘটনা সম্পর্কে জানা যাক। ১৯৪৬ সালের ২৯ জুলাই অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ কাউন্সিলে ১৬ আগস্ট ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’ ঘোষণা করলেন মুহম্মদ আলী জিন্নাহ। কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দু মহাসভার নেতারা বিবৃতি দিতে লাগলেন, এটা হিন্দুদের বিরুদ্ধে।

দিনটি সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য ডাক পড়ল শেখ মুজিব ও তখনকার তরুণ কর্মীদের। নির্দেশ এল- মহল্লায় মহল্লায় গিয়ে বোঝাতে হবে যে, এই সংগ্রাম হিন্দুদের বিরুদ্ধে নয়। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী তখন বাংলার প্রধানমন্ত্রী। তিনি ১৬ আগস্ট সরকারি ছুটি ঘোষণা করলেন। এতে আরও খেপে গেল কংগ্রেস ও হিন্দু মহাসভা। তারা হিন্দু সম্প্রদায়কে বোঝাল এটা হিন্দুদের বিরুদ্ধেই। ১৬ আগস্ট সকাল থেকেই মুসলমানদের উপর হামলা শুরু করল হিন্দুরা।

মুজিব নিজে মহল্লায় মহল্লায় মাইকিং করে বুঝিয়েছেন, আজকের এই কর্মবিরতি হিন্দুদের বিরুদ্ধে নয়। তবু হিন্দু মহাসভা ও কংগ্রেসের সুবিধাভোগী রাজনীতিবিদরা হিন্দুদের খেপিয়ে তুলেছে। দাঙ্গা লাগিয়ে দিয়েছে হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে।

দেখতে দেখতে পুরো কলকাতায় ছড়িয়ে পড়ল দাঙ্গা। হিন্দুপ্রধান এলাকায় মুসলমানদের উপর হামলা চালাল হিন্দুরা। আর মুসলিমপ্রধান এলাকায় হিন্দুদের উপর হামলা চালাল মুসলিমরা। একটাবারের জন্যও হিন্দুরা মুসলিমপ্রধান এলাকার হিন্দুদের কথা ভাবল না। আর দাঙ্গাবাজ মুসলিমরা ভাবল না হিন্দুপ্রধান এলাকার মুসলিমদের কথা। অজানা আক্রোশে ধর্মের দোহাই দিয়ে একে অপরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। মুসলিমপ্রধান এলাকা থেকে কিছু হিন্দু পরিবারকে অনেক কষ্টে হিন্দুপ্রধান এলাকায় পাঠাতে পারলেন মুজিব। বেকার হোস্টেলের আশপাশে কিছু হিন্দু পরিবার ছিল, তাদের রক্ষা করলেন সুরেন ব্যানার্জি রোডে পাঠিয়ে দিয়ে। হিন্দুপ্রধান এলাকা থেকেও কিছু মুসলিমকে উদ্ধার করে নিয়ে এলেন।

কলকাতা শহরে এখানে ওখানে লাশ পড়ে আছে। মহল্লার পর মহল্লা আগুনে পুড়ে গেছে। মানুষ মানুষকে এভাবে হত্যা করতে পারে!

রিফিউজিদের থাকার বন্দোবস্ত হয়েছে লেডি ব্র্যাবোর্ন কলেজে। দোতলায় মেয়েরা, নিচে পুরুষরা। উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে কয়েক জায়গায় আক্রান্ত হয়েছেন মুজিব। আঘাত পাওয়া মানুষে হাসপাতালগুলো ভরা। ওদিকে হোস্টেলগুলোতে চাল, আটা ফুরিয়ে গেছে। লুট হওয়ার ভয়ে কেউ কেউ দোকান খুলল না। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে দেখা করলেন মুজিব। শহীদ সাহেব বললেন, ‘নবাবজাদা নসরুল্লাহকে ভার দিয়েছি, তার সাথে দেখা কর।’

কর্মীদের নিয়ে তার কাছে ছুটলেন মুজিব। নসরুল্লাহ মুজিবদের নিয়ে গেলেন সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে। বললেন, ‘এখানে চাল রাখা আছে। নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা কর। আমাদের কাছে গাড়ি নেই। প্রায় সব গাড়ি মিলিটারিরা নিয়ে গেছে। তবে দেরি করলে পরে গাড়ির ব্যবস্থা করা যাবে।’

দেরি করার সুযোগ নেই। এখনই চাল নিয়ে না গেলে ছাত্রদের অনাহারে থাকতে হবে। শেষপর্যন্ত ঠেলাগাড়ি জোগাড় করে ফেললেন মুজিব। ঠেলাগাড়িতে চাল বোঝাই করা হলো। ওদিকে গাড়ি ঠেলার লোক নেই। শেখ মুজিব হাত লাগালেন ঠেলাগাড়িতে। তার সঙ্গে নূরুদ্দিন ও নূরুল হুদাও যোগ দিলেন।

তিনজন মিলে কোনো রকমে চাল বোঝাই ঠেলাগাড়ি ঠেলে বেকার হোস্টেল ও ইলিয়ট হোস্টেলে চাল পৌঁছে দিলেন। কারমাইকেল হোস্টেলেও চাল পৌঁছাতে হবে। ওখানে কী করে পৌঁছাবেন? একে তো অনেক দূর, তার ওপর ওখানে যেতে হলে হিন্দু মহল্লা পার হয়ে যেতে হবে। ঠেলাগাড়িতে করে ওখানে চাল পৌঁছানো একেবারেই অসম্ভব।

অনেক চেষ্টা করে একটা ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি জোগাড় করে আনলেন নূরুদ্দিন। ওই গাড়িতে করে কারমাইকেল হোস্টেলে চাল পৌঁছানোর ব্যবস্থা করলেন মুজিব।

এই দাঙ্গায় মুজিব দেখেছেন, অনেক হিন্দু মুসলমানদের রক্ষা করতে গিয়ে বিপদে পড়েছেন। জীবনও হারিয়েছেন। আবার অনেক মুসলমান হিন্দু পাড়াপড়শিকে রক্ষা করতে গিয়েও জীবন দিয়েছেন। মুসলিম লীগ অফিসে অনেক হিন্দু ফোন করে জানিয়েছিলেন, তাদের বাড়িতে মুসলমানদের আশ্রয় দিয়েছেন। শিগগির এদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন। নইলে আশ্রয়দাতা হিন্দুরাও মরবে, আশ্রিত মুসলমানরাও মরবে।

ওদিকে আরেকদল লোককে দেখেছেন মুজিব। এরা দাঙ্গাহাঙ্গামার ধার ধারেনি। এরা শুধু দোকান ভেঙেছে। লুটপাট করেছে। এদেরই একজনকে বাধা দিতে গিয়ে বিপদেই পড়েছিলেন। তারা তাকে আক্রমণ করে বসেছিল।

দাঙ্গা নিয়ন্ত্রেণে আনতে কারফিউ জারি হয়। পার্ক সার্কাস ও বালিগঞ্জের মাঝে একটা মুসলমান বস্তি আছে। প্রত্যেক রাতেই সেখানে হিন্দুরা আক্রমণ করে। তাদের পাহারা দেয়ার ভার পড়েছে মুজিব এবং সিলেটের মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরীর ওপর।

কলকাতায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যেতে লাগলেন মুজিব। রাতদিন রিফিউজি সেন্টারে কাজ করতে লাগলেন কর্মীদের নিয়ে। কিছুদিনের মধ্যে দাঙ্গা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়। মুসলমানরা চলে যায় মুসলমান মহল্লায়। আর হিন্দুরা হিন্দু মহল্লায়।

ওদিকে কলকাতার দাঙ্গা বন্ধ হতে না হতেই নোয়াখালীতে দাঙ্গা শুরু হয়। ঢাকায় তখনও দাঙ্গা লেগে ছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় ভয়াবহ দাঙ্গা শুরু হলো বিহারে। বিহারের বিভিন্ন জেলায় পরিকল্পনা করে মুসলমানদের উপর আক্রমণ হয়েছিল। অনেক মানুষ মারা যায়। ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়। দাঙ্গা শুরু হওয়ার তিন দিন পরেই শেখ মুজিব রওনা হলেন পাটনায়। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাটনায় মুসলিম লীগ নেতাদের খবর পাঠালেন, যেকোনো ধরনের সাহায্য প্রয়োজন হলে বেঙ্গল সরকার দিতে রাজি আছে। বিহার সরকারকেও এটা জানিয়ে রেখেছিলেন।

বিহারে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় রিফিউজি ক্যাম্প খোলার ব্যবস্থা করলেন মুজিব। কিন্তু আহত ও উদ্বাস্তুদের সংখ্যা ছিল ধারণারও বাইরে। এদের সহায়তা করার জন্য কলকাতা থেকে অনেক ডাক্তার ও কর্মী এসে হাজির। বিহার থেকে উদ্বাস্তুদের নিয়ে রাখা হলো পাটনা, পাটনা রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, নিগাহ, কান্দুলিয়ায়। নিগাহ ও কান্দুলিয়ায় ক্যাম্প খোলা হয়েছিল। এর মধ্যে কান্দুলিয়া ক্যাম্পটি ছিল বিশাল। প্রায় দশ হাজার লোক ধরার জায়গা ছিল। মুজিব এই ক্যাম্পের নাম দিলেন ‘হিজরতগঞ্জ’।

উদ্বাস্তুদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেছিলেন বাংলার প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। তবে কর্মীদের জন্য আলাদা খাবারের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। মোহাজিরদের জন্য যা রান্না হতো, সেখান থেকেই কিছু খেয়ে নিতেন মুজিব। দোকানপাট কিছুই ছিল না। প্রতিদিনই শত শত লোক আসছে ক্যাম্পে। নতুন করে ময়রা ও মাধাইগয় ক্যাম্প খুলতে হলো। এ দু জায়গাতেই দশ হাজার উদ্বাস্তুর থাকার ব্যবস্থা করা হয়। তবে উদ্বাস্তুদের একবেলার বেশি খাবার রান্না করা সম্ভব ছিল না। মুজিবসহ কর্মীরাও একবেলাই খাবার খেতেন।

উদ্বাস্তু ক্যাম্পের কর্মী ব্যবস্থাপনা সুন্দরভাবে গড়ে তুলেছিলেন মুজিব। উদ্বাস্তুদের থেকেই সুপারিনটেনডেন্ট, অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারিনটেনডেন্ট, রেশন ইনচার্জ, দারোয়ান ও অন্যান্য কর্মী নিয়োগ দেয়া হলো। খাবার রান্না করার সমস্যার কারণে রেশন কার্ডের ব্যবস্থা করা হলো। প্রত্যেক পরিবারকে বিনা পয়সায় সাতদিনের চাল, জ্বালানি কাঠ, মরিচ, পিঁয়াজ দেয়া হতো। মাংস দেয়া হতো একদিন পর পর। মোহাজিররা এ বন্দোবস্তে খুশি হয়েছিল।

মুজিবের সঙ্গে যেসব কর্মী ছিলেন, খাবার ও ঘুমের অভাব এবং কাজের চাপে প্রায় সবাই অসুস্থ হয়ে পড়লেন। অনেক অসুস্থ কর্মীকে কলকাতায় পাঠিয়ে দিয়েছিলেন মুজিব। রয়ে গেলেন নিজে। টানা দেড়মাস অমানুষিক পরিশ্রমের কারণে তার শরীর ভেঙে গিয়েছিল। এসময় পূর্ব পরিচিতরা তাকে দেখে আশ্চর্য হন। তারপর অসুস্থ শরীর নিয়ে কলকাতায় হাজির হলেন মুজিব। বেকার হোস্টেলে ফিরে আরও অসুস্থ হয়ে পড়লেন। জ্বর মোটেই ছাড়ছিল না। এতটাই কাবু হয়ে গিয়েছিলেন যে, ট্রপিক্যাল স্কুল অব মেডিসিন হাসপাতালের ইউরোপিয়ান ওয়ার্ডে পনেরো দিন চিকিৎসা নিতে হয়েছিল।

১৯৪৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের বয়স ছিল ছাব্বিশ বছর। তখন তিনি জাতির পিতা তো পরের কথা, বঙ্গবন্ধুও হননি। ছাব্বিশ বছরের এক তরুণ রাজনৈতিককর্মী। কিন্তু মানুষের প্রতি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করার জন্য জীবনের ঝুঁকি পর্যন্ত নিয়েছিলেন তিনি। আজ তার হাতে তৈরি দল রাষ্ট্রক্ষমতায়। তার আদর্শে উজ্জীবিত লাখ লাখ তরুণ দেশের আনাচে কানাচে। দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কারা নষ্ট করছে এটা সবাই জানে। কেন নষ্ট করছে সেটাও কারো অজানা নয়। সেদিকে না গিয়ে বরং তরুণরা কি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে তুলে ধরতে পারে না? সে সুযোগ তো তাদের রয়েছে।

বিশ্বাস করা যায়, তরুণরা সচেতন হলে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনাশকারীদের উপস্থিতভাবে প্রতিরোধ করলেই তবে দেশে আর এরকম ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আশায় না থেকে নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহল্লায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতাও তৈরি করতে পারে। তবেই তো মুজিব আদর্শের সৈনিক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করা যাবে। সে যোগ্যতা কি দেশের বর্তমান তরুণদের নেই?

আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস, আছে; এবং এই বিশ্বাসটাও আছে, এই ঘটনার কারণে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি মোটেই বিনষ্ট হয়নি। এবং কোনোদিন হবেও না। জাতি-ধর্ম, বর্ণ-নির্বিশেষে আমরা সবাই বাঙালি। আমরা সবাই রক্তের বিনিময়ে পাওয়া বাংলাদেশের নাগরিক। গুটিকয়েক নষ্ট চরিত্রের মানুষের কারণে দেশের বিশাল জাতিগোষ্ঠীকে কোনোভাবেই বিচার করা ঠিক হবে না। কারণ দেশের বেশিরভাগ মানুষ নয়, প্রায় সবাই-ই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে। দুনিয়ার অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর দিকে তাকালে কিংবা তাদের ইতিহাস ঘাটলেও দেখা যাবে- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বাঙালির ধারেকাছেও কেউ নেই। বাঙালির এই গর্বের ঐতিহ্য রক্ষা করার দায়িত্বটা কি আমাদের সবার নয়?

সহায়ক গ্রন্থ: অসমাপ্ত আত্মজীবনী-শেখ মুজিবুর রহমান

লেখক: আহমেদ রিয়াজ , শিশুসাহিত্যিক ও প্রবন্ধকার

Leave a Reply

Your email address will not be published.