সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী সভেতলানা আলেক্সিয়েভিচ এবং বুকারজয়ী মারলন জেমসের জীবন ও সাহিত্য

রাসেল আশেকী: এবার সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী সভেতলানা আলেক্সিয়েভিচ এবং বুকারজয়ী মারলন জেমস বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুললেও বাংলাদেশ প্রেক্ষিতে বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। নোবেল বিজয়ী বেলারুশ-কন্যা সভেতলানা আলেক্সিয়েভিচ তার সাক্ষাৎকারধর্মী প্রতিবেদনমূলক পাঁচ খ-ের নন-ফিকশন প্রামাণ্য লেখায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী পঙ্গু ও ক্ষতিগ্রস্ত নারী-শিশুদের মুখে বলা কষ্টগাথা, সোভিয়েত-আফগানিস্তান যুদ্ধে দস্তার তৈরি কফিনে লাশ হয়ে ফেরা সোভিয়েত তরুণদের মা-বাবা-স্বজনের শোকাশ্রু-আহাজারি-দুর্বিষহ জীবনসহ ইউক্রেনের চারনোবিল পরমাণু শক্তিকেন্দ্র বিস্ফোরণের পর সেখানকার ভয়াবহ তেজস্ক্রিয়তায় আর্তপীড়িত ও অসহায় মানুষের অন্তরের প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন করেছেন। বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন তেজস্ক্রিয় বিষে প্রকৃতি ও পরিবেশের অবস্থা। যাতে পৃথিবীর কোথাও এ ধরনের যুদ্ধ বা দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। সতর্ক হওয়ার সংকেতে নিবেদন করেছেনÑ মানুষ যেন ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়, জীবনকে সুখী করে পরস্পরকে ভালোবেসে এবং বয়সকে কাজে লাগায় শান্তি-সমৃদ্ধি ও প্রেমময় কাজের মাধ্যমে।
একই সময়ে, বুকারজয়ী জ্যামাইকা-পুত্র মারলন জেমস তার কষ্টসাধ্য-সাহসী উচ্চারণ ‘আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব সেভেন কিলিংস (A BRIEF HISTORY OF SEVEN KILLINGS) উপন্যাসে জ্যামাইকার তিন দশকের (১৯৭০ থেকে ১৯৯০ সাল) সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অসংগতিসহ সর্বস্তরের হতাশা ও নিপীড়নের চিত্রে আশার আলো ফুটিয়েছেন। নিপুণ আঙ্গুলে দেখিয়েছেন শাসক ও নেতাদের দ্বন্দ্ব-সংঘাতের কারণে দেশে অদ্ভুত অন্ধকার নেমে এলেও, সেই অন্ধকারে কীভাবে কবি, লেখক, গায়ক আলোকিত ও আশাবাদী করে রাখে জাতিকে। সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো দুই ঔপন্যাসিকের গ্রন্থ পরিচয়Ñ

সভেতলানা আলেক্সিয়েভিচ : বিপন্ন মানবতার শক্তি
বেলারুশ-কন্যা সভেতলানা আলেক্সিয়েভিচ টানা ২০ বছর লিখেছেন পাঁচ খ-ের একটি সম্প্রর্ণ গ্রন্থ। শিরোনাম ‘গালাসা স্ত্রানি উতোপিয়ি’ : ইউটোপিয়া দেশের কণ্ঠস্বর। তার মতে, ইউটোপিয়া হলো কমিউনিজম আর দেশটি সোভিয়েত ইউনিয়ন। যা আর নেই। সেখানে তিনি শাসকদের মুখোমুখি তুলে ধরেছেন আপনভাষ্য। বলেছেন নিজস্ব স্বাধীনতার কথা। সম্ভবত, সেই কারণে নিজ দেশ অথবা সোভিয়েত ভাঙনের কোথাও তার গ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি। এটিও নোবেল কমিটির আকর্ষণের বিষয় এবং তার নোবেল প্রাপ্তির কারণ হতে পারে। যদিও তিনি মাতৃভাষা বেলারুশিতে লেখেন না বা লিখতে জানেন না। লেখেন রুশ ভাষায়। যে ভাষায় তার আগে সোলজেনিৎসিন, বুনিন, পাস্তারনাকের মতো পাঁচজন কবি-ঔপন্যাসিক নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। সভেতলানা আলেক্সিয়েভিচ সেই সৌভাগ্যবতী রুশভাষী লেখক, যিনি ওই ভাষার প্রথম নোবেল বিজয়ী নারী।
তার নোবেল প্রাপ্তির আরেকটি দিক হলো, তিনি নন-ফিকশন লেখক অর্থাৎ শিল্প ও দর্শনতাড়িত কথাসাহিত্যিক নন। একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও নন-ফিকশন লেখক। এই নন-ফিকশন লিখে এ পর্যন্ত আরও তিনজন নোবেল সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন। তারা হলেন থিওডর মমসেন, উইনস্টন চার্চিল ও বার্ট্রান্ড রাসেল। এখানেও তিনি প্রথম নারী নন-ফিকশন লেখক, যিনি এই বিরল পুরস্কার অর্জন করলেন। বোঝার বাকি নেই, পৃথিবীর আগামী দিনগুলোতে নারীদেরই জয়-জয়কার।
এই রুশভাষী লেখক জন্মেছেন ১৯৪৮ সালের ৩১ মে সোভিয়েত ইউক্রেনে। তার মা ইউক্রেনিয়ান আর বাবা বেলারুশ বংশোদ্ভূত। এখন তিনি স্বাধীন বেলারুশ প্রজাতন্ত্রের নাগরিক, বাস করেন রাজধানী শহর মিনস্ক-এ।
নন-ফিকশন বলি আর জীবনসাহিত্য বলি, যা বলি না কেন, তার লেখার ধরন, দরদ, উচ্চারণ ও বিশ্ববীক্ষা এমন এক মার্গীয়স্তরে, যা সত্যিকার অর্থেই দস্তইয়েফস্কি ও আন্তন চেখভের মতো আর্টলেস বা শ্রীহীন। কিন্তু জীবনের গভীর বোধের তাগিদে জেগে ওঠার মন্ত্র ভরপুর। আবার বিষাদময় কান্নার ঢেউ, যা মানুষের জীবনে প্রায়শ ঘটে। পৃথিবীর বুকেও বারবার আসে। এক কথায়, তার ইউটোপিয়ার কণ্ঠস্বরে উদ্ভাসিত পাঁচ খ-ের প্রতিটি গ্রন্থ স্থান-কাল-পাত্রে অর্থাৎ সরাসরি ভুক্তভোগীর কণ্ঠে বর্ণিত সত্য কাহিনি।
প্রথম গ্রন্থ ‘যুদ্ধের মুখ মায়াবি নয়’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সোভিয়েত সাহসিকাদের সরাসরি বলা কাহিনি। দ্বিতীয় গ্রন্থ ‘শেষ সাক্ষীগণ : একশ শিশুত্তীর্ণ গল্প’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ১০০ জন সাহসীর জবান কাহিনির সংকলন। তৃতীয় গ্রন্থ ‘দস্তায় মোড়া সোনার ছেলেরা’ আফগান-সোভিয়েত যুদ্ধে সোভিয়েত মা’দের জবান কাহিনির সংকলন। আফগানিস্তানের রণক্ষেত্রে যেসব সোভিয়েত যোদ্ধা মারা যেত, পরিবারের কাছে তাদের লাশ পাঠানো হতো দস্তার তৈরি কফিনে। সেই কারণে এ গ্রন্থের এমন কাব্যিক শিরোনাম। চতুর্থ গ্রন্থ ‘চারনোবিলের প্রার্থনা : ভবিষ্যৎ বিষের সতর্কতা’। ইউক্রেনের চারনোবিল পরমাণু শক্তিকেন্দ্রের দুর্ঘটনার শিকার ভয়ার্ত মানুষদের জবান কাহিনি। গ্রন্থটি তিনি লিখেছেন রাত-দিন খেটে, ইউক্রেনের প্রায় নাভিমূলে প্রবেশ করে। পঞ্চম গ্রন্থ ‘অন্যের দয়ায় পাওয়া সময়’। সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ দিনগুলো এবং তার পরের সময় নিয়ে অনেক মানুষের জবান কাহিনি।
গ্রন্থগুলো তৈরির মূল উৎস টেপরেকর্ডার। প্রতিটি গ্রন্থ কম্পোজের আগে তিনি সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্রায় ৫০০-৭০০ প্রত্যক্ষ দর্শক ও ভুক্তভোগীর। গ্রন্থ পূর্ণ হতে সময় লেগেছে চার থেকে সাত বছর। তার সবচেয়ে আলোচিত গ্রন্থ চারনোবিলের প্রার্থনার পেছনে সময় লেগেছে ১০ বছর।
এ কারণে, তার প্রতিটি গ্রন্থ অসংখ্য কণ্ঠের সমাহার। আর সেই কণ্ঠগুলো বাজাচ্ছেন স্বয়ং লেখক সভেতলানা আলেক্সিয়েভিচ। যাতে মানুষের প্রতি মানুষের সহানুভূতি জাগে এবং প্রতিশোধ পরায়ণতা ত্যাগ করে। তিনি নিজেই বলেছেন, বিভীষিকার বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যক্তি-মানুষের মধ্যে কতটা খাঁটি মানুষ রয়েছে, সেটিও তিনি খুঁজে দেখার ও বোঝার চেষ্টা করেন। তিনি মনে করেন, শিল্প মানুষ ও পৃথিবীকে পরিপূর্ণভাবে বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। আরও মনে করেন, নভেল মানুষ ও তার জগতকে বাস্তব অর্থে, যথাযথভাবে, পূর্ণাঙ্গ সত্য রূপে উপস্থাপনের খুব বেশি ক্ষমতা রাখে না। তারপরও, তিনি নিজেই দাবি করেন, তার গ্রন্থগুলো নভেল অব ভয়েসেস এবং অনেকেই ইতোমধ্যে এই সত্যের সাথে সুন্দর যোগ করে বলেছেন, তার সব গ্রন্থগুলোর ধারাভাষ্য ও অন্তর্নিহিত সংলাপ একজন নিপুণ কথাশিল্পীর হাতে রচিত। সেই কথাশিল্পীর গদ্যশৈলী অনেকটা আন্তন চেখভের মতো স্বচ্ছ ও প্রাঞ্জল।
এ প্রসঙ্গে, এই বিশ্ববরেণ্য সাহিত্যিক নোবেল প্রাপ্তির সুখবর শোনার পর নোবেল কমিটি এবং ইউক্রেনের অনলাইন পত্রিকা কেপির নেওয়া তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকারে তার কষ্টদায়ক লেখালেখি সম্পর্কে বলেন, যখন আমি লিখি, আমি কী অনুভব করছি তা কাছের বন্ধুদেরই যেন বলছি। আমি তাদের বলতে চাইÑ এই জীবন নিয়ে আমি কী ভাবছি। সিদ্ধান্ত জানানোর জায়গা থেকে লিখি না কখনও, তা ছাড়া আমি মজার কাহিনিকারও নই। আমার হৃদয় সব সময় এখানে ঘুরপাক খায় যে, আমরা আর কতদিন ভয়ের পথ পাড়ি দেব, মানুষ আর কতদিন এসব সহ্য করবে, এ প্রশ্ন আমাকে বিপন্ন করে তোলে। আর এ কারণেই এই ‘পোয়েটিক্স অব ট্র্যাজিডি’ জানা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কেউ একজন এমন ভয়ঙ্কর গ্রন্থ পড়ার পর ভালো লেগেছে বলার চাইতে, কেউ একজন গ্রন্থ পড়ে কেঁদেছেন এবং সেই অশ্রু বিশুদ্ধতার অশ্রু। শুধু ভয় দ্বারা কেউ যেন গ্রাস না হয়, এমন অনেক বিষয়ই আমাকে মনে রাখতে হয়।

মারলন জেমস : হতাশা ও নিপীড়নের মধ্যে আশার চিত্র
২০১৪ সালে প্রকাশিত ‘অ্যা ব্রিফ হিস্ট্রি অব সেভেন কিলিংস’ উপন্যাসটি জ্যামাইকার শক্ত মাটির খাঁটি ঔপন্যাসিক মারলন জেমসের ঘরে এনেছে ম্যান বুকার পুরস্কার জয়ের আনন্দ। যাক, একটি পাথর তো গললো। মাথাভর্তি জটধরা চুলের স্বভাব-সন্ন্যাসী এই উত্তরাধুনিক লেখক ও কথক দীর্ঘদিন অপেক্ষা করছিলেন এমন এক মুহূর্তের জন্য। যাতে তার বিশ্বযাত্রা সহজ হয়।
তাই তিনি এক নিঃশ্বাসে আবিষ্কার করলেন জ্যামাইকার দুঃখগাথা, প্রায় ৭০০ পৃষ্ঠায় লিখলেন সাত খুনের সত্য কাহিনি। তুলে ধরলেন হতাশা আর নিপীড়নের চিত্র। বোঝালেন অন্ধকারে প্রতিকূলাবস্থায় একজন কবি, বাউল বা পপগায়ক কীভাবে আলোকিত করে রাখে পুরো দেশ এবং একজন লেখক কখন প্রকাশ করে সত্য ইতিহাস। কেননা, উপন্যাসটির প্রধান নায়কই জ্যামাইকার ভূমিপুত্রÑ বিশ্বখ্যাত পপগায়ক বব মার্লে। মার্লের সাথে এগিয়ে চলেছে উপন্যাসের সব পাত্র-পাত্রী ও ঘটনাপ্রবাহ। মজার কথা, ২০১৪ সালে প্রকাশিত উপন্যাসটি মাত্র এক বছরের মাথায় ২০১৫-তে তুলে নিল ‘ম্যান বুকার পুরস্কার’ ফিকশন বিভাগ থেকে।
উত্তরাধুনিক ধারার এই ঔপনাসিকের জন্ম ১৯৭০ সালের ২৪ অক্টোবর জ্যামাইকার কিংস্টোন শহরে। ১৯৯১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ শেষে কয়েক বছর যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাকালেস্টার কলেজে সৃজনশীল লেখালেখির শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। মা-বাবা দুজনই পেশায় ছিলেন পুলিশ। কৈশোরে স্কুলে পড়ার সময় মা’র দেওয়া প্রখ্যাত লেখক ও’হেনরির গল্পসমগ্র পড়ে তার লেখালেখির হাতেখড়ি। এ পর্যন্ত প্রকাশিত উপন্যাস ৩টিÑ জন ক্রো’স ডেভিল (শয়তান অতিক্রমী জন), দ্য বুক অব নাইট উইমেন (নিশি রমনীর বই) এবং আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব সেভেন কিলিংস (সাত খুনের সত্য কাহিনি)। বুকারজয়ী এই উপন্যাসটির পুরোভাগেই সত্তর থেকে নব্বই দশকের জ্যামাইকার সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অসংগতি বর্ণনা করা হয়েছে দৃঢ়স্বরে। যখন খুন, গুম, রাহাজানি, হানাহানি, ধর্ষণ ও সন্ত্রাস নিত্যনিমিত্ত বিষয় ছিল। বর্ণ ও শ্রেণি বিভক্তি, দলাদলি, গ্রুপিং ও সিন্ডিকেট ছিল প্রকট ও প্রবল। এমনকি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র, বিশেষ করে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র এজেন্টরা কীভাবে সেদেশের বিভিন্ন শহরে, গ্রামে, পাড়া-মহল্লা ও বস্তিতে গোপনে অবস্থান করেছিল, জ্যামাইকার চারদিকে অস্ত্রের ঝনঝনানি উসকে দিতেÑ আছে এসবের গূঢ় ও রসাত্মক বর্ণনা।
জ্যামাইকার ওই উন্মত্ত আর রক্তাক্ত অন্ধকারের ভিতরে পপতারকা বব মার্লের বেড়ে ওঠা, গায়ক হওয়া থেকে শুরু করে পঁচাত্তরটির বেশি চরিত্রকে লেখক তার কল্পনায় বাস্তবের মতো বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন উপন্যাসটির মাধ্যমে। কিছুটা পড়ে মনে হলো চরিত্রদের প্রত্যেকেই আমাদের চোখের সামনে। যার পরতে পরতে রয়েছে মহাকাব্যিক ছোঁয়া, নিজস্ব সুর আর আশার আবহসংগীত। আছে আরেক বিখ্যাত কবি ও কণ্ঠশিল্পী ডেলবয় উইলসনের ‘সুদিন আসবেই’ গানের বার্তাবহ আলোর বর্ণনা। পাশাপাশি অন্যান্য চরিত্রের বিষণœতা। কিন্তু উপন্যাসটির নাম সাত খুনের সত্য কাহিনিÑ অ ইজওঊঋ ঐওঝঞঙজণ ঙঋ ঝঊঠঊঘ কওখখওঘএঝ কেন? ঢোকা যাক তার মূল কথার সুরেÑ সেই সময়ের জ্যামাইকার প্রধানমন্ত্রী ও পিপলস ন্যাশনাল পার্টির নেতা মাইকেল ম্যানলি আয়োজিত পাবলিক কনসার্টে বব মার্লেকে উদ্দেশ্য করে গুলি করা হয়। কিন্তু তাতে থামেনি মার্লের কণ্ঠ, বন্ধ হয়নি কনসার্ট। মার্লে আরও বেশি সময় নিয়ে আরও তেজে সংগীত পরিবেশন করেন। তবে কনসার্ট শেষে মার্লে দুই বছরের জন্য লন্ডনে যান স্বেচ্ছা নির্বাসনে। সবার মাঝে প্রশ্ন এলো, মার্লে দেশ ছেড়ে লন্ডনে কেন? প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই উপন্যাসে। আর এভাবে মার্লের চলে যাওয়ার পেছনে ঔপন্যাসিক জেমস কতগুলো প্রাসঙ্গিক বিষয় টেনে এনেছেন। ধারণা করা হয়, ওই দিন মোট সাতজন বন্দুকধারী তাকে গুলি করে হত্যা করতে এসেছিল। উপন্যাস-ভাষ্যে জানা যায়, পশ্চিম কিংস্টোনের জমাট অন্ধকারের ভিতরে গড়ে ওঠা বস্তিগুলোয় জ্যামাইকার প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ছত্রচ্ছায়ায় ভাড়াটিয়া মাস্তান হিসেবে থাকত সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা। মার্লের ওপর গুলিবর্ষণের পরমুহূর্তেই একজনকে ধরা হয়। পরে মার্লের ওপর হামলার জন্য নয়, অন্য এক অজ্ঞাত-অদৃশ্য কারণে ওই সাত বন্দুকধারীকে খুন করা হয়। এমন বর্ণাঢ্য আয়োজনে ও রহস্যময় ঘটনায় উদ্ভাসিতÑ ‘আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব সেভেন কিলিংস’। যেখানে বেশির ভাগ মানুষই হতাশায় হাবুডুবু। কিন্তু সুদিনের অপেক্ষায় অধীর তাদের চোখ। যাদের ভিতর থেকে সম্পূর্ণ প্রতিকূল পরিবেশে দুঃখ-যন্ত্রণাকে সঙ্গী করে বেড়ে উঠছে এক সাহসী গায়কÑ বব মার্লে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *