স্বপনের একাত্তর : এক হাতে রাইফেল অন্য হাতে ক্যামেরা

ক্যামেরার পেছনের মানুষ শফিকুল ইসলাম স্বপন। একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে যখন তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে সীমান্ত পাড়ি দেন তখন তাঁর বয়েস ১৮ বছর। সে বছরই তাঁর ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেবার কথা। একাত্তরের আগস্টের শেষ দিকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতের আগরতলার মেলাঘর ক্যাম্পে পৌঁছান। এই ক্যাম্পটি ছিলো ২ নম্বর সেক্টর প্রধান খালেদ মোশারফের অধীনে। এই ক্যাম্পেই গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন স্বপন। এই ক্যাম্পেই তাঁর দেখা হয়েছিলো নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু এবং রাইসুল ইসলাম আসাদের সঙ্গে। পরবর্তীতে বাচ্চুর সঙ্গে ঢাকায় প্রবেশ করেছিলেন একাত্তরের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে। ছবি তোলার শখ ছিলো স্বপনের। যুদ্ধের সময়ে তাঁর এক হাতে থাকতো রাইফেল, অন্য হাতে ক্যামেরা। স্বপনের তোলা মুক্তিযুদ্ধের স্টিল ছবিগুলো আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের অমোচনীয় ইতিহাস হয়ে আছে। শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক আলোকচিত্রের জন্যেও আলাদা রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রাপ্য ছিলো স্বপনের। কিন্তু রাষ্ট্র সেটা দিতে সাফল্যজনক ভাবেই ব্যর্থ হয়েছে। স্বপনের তোলা বহু ছবি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নানান এলবামে প্রকাশিত হয়। সেখানে ছবির সঙ্গে স্বপনের নামটি উল্লেখ করতেও কী অমার্জিত কার্পণ্য আমাদের!

স্বাধীনতার পর ভারতের পুনে ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে চিত্রগ্রহণ বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করে দেশে ফিরে এসেছিলেন তিনি। চিত্রগ্রাহক হিশেবে কাজ করেছেন বাংলাদেশ টেলিভিশনে এবং চলচ্চিত্রে। ১৯৮০ সালে সালাউদ্দিন জাকীর প্রথম ছবি (শাদাকালো) ‘গুড্ডি’র চিত্রগ্রহণ ছিলো স্বপনের প্রথম কাজ, চলচ্চিত্রে। এই ছবিতে চিত্রগ্রহণের স্বীকৃতি হিশেবে স্বপন পেয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। পরবর্তীতে এই পুরস্কার তিনি দ্বিতীয়বার অর্জন করেছিলেন মোমতাজ আলীর রঙিন চলচ্চিত্র ‘নালিশ’-এর চিত্রগ্রাহক হিশেবে।

শৈশব থেকেই আমি বিটিভির নানা অনুষ্ঠানে অংশ নিতাম। সেইসব অনুষ্ঠানের প্রযোজক ছিলেন কাজী কাইয়ুম এবং আলী ইমাম। আমার স্মৃতিতে এখনও জ্বলজ্বল করছে–স্টুডিওতে লম্বা ছিপছিপে গড়নের শার্ট ইন করা স্মার্ট চিত্রগ্রাহক শফিকুল ইসলাম স্বপন ক্যামেরা চালাচ্ছেন, আর ক্যামেরার সামনে আমি, তখনো আমার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত পর্যায়ের পরিচয় বা সখ্য স্থাপিত হয়নি।

স্বপন ভাইয়ের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত আন্তরিক সম্পর্কটি তৈরি হয়েছিলো বেশ পরে, বিচিত্রা সম্পাদক শাহাদাত চৌধুরীর কল্যাণে। দৈনিক বাংলা ভবনে সাপ্তাহিক বিচিত্রায় আমি প্রায়ই কাজে অকাজে শাহাদত চৌধুরীর কাছে যেতাম। শাহাদত চৌধুরীর ছোট্ট সরু ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই সাইজের কক্ষে ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা দিতাম। শাহাদত চৌধুরী ছিলেন আমার দৃষ্টিতে এক মহা ইন্টারেস্টিং ক্যারেক্টার। বিচিত্র বিষয়ে আমরা কথা বলতাম। আমাকে এডাল্ট ছড়া লিখবার পরামর্শটা শাহাদত ভাইই দিয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালের এক দুপুরে বিচিত্রা অফিসে শাহাদত ভাই আমাকে বললেন-‘আমাদের স্বপনের একটা বই বেরুচ্ছে, ওর একাত্তরের স্মৃতিকথা এবং ওর তোলা আলোকচিত্রের। আমি চাই বইটার একটা ভূমিকা তুমি লিখে দাও রিটন। এবং কাজটা করতে হবে দ্রুত। তুমি দেরি করতে পারবে না।’ সানন্দে রাজি হয়েছিলাম আমি। বইটির নাম ছিলো ‘এক মুক্তিযোদ্ধার জীবন যাপন’।

১৯৯৬ সালে মুক্তিযুদ্ধের রজত জয়ন্তীতে প্রকাশিত মুক্তিযোদ্ধা আলোকচিত্রি শফিকুল ইসলাম স্বপনের জীবনের প্রথম বইতে ভূমিকা হিশেবে কী লিখেছিলাম আমি? বইটা আমার কাছে নেই। অগত্যা স্বপন ভাইকেই ধরলাম। একুশ বছর আগে প্রকাশিত বই থেকে ভূমিকার পাতা দুটি স্ক্যান করে স্বপন ভাই পাঠিয়ে দিলেন আমাকে। অনেক আবেগ আর কৌতূহল নিয়ে পড়তে থাকি আমি-

“[ প্রথম সংস্করণের ভূমিকা]
বাঙালির হাজার বছরের মহান কর্ম একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। বাঙালির হাজার বছরের মহান অর্জন-স্বাধীনতা। এদেশের সেরা সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা, যাঁরা নিজেদের জীবনকে বাজি রেখে লড়াই করেছেন, বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছেন সীমাহীন সাহসীকতায়। মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের গৌরব, আমাদের অহংকার।
সময়ের সাহসী সন্তান এইসব মুক্তিযোদ্ধারা মাথা উঁচু করে শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন বলেই আজ আমরা একটি স্বাধীন দেশের মুক্ত বাতাসে জীবন যাপন করছি। কিন্তু প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি, যেমন শেষ হয়নি মুক্তিযোদ্ধা আলোকচিত্রি শফিকুল ইসিওলাম স্বপনের ‘মুক্তিযুদ্ধ’। স্বপন এখনও রণাঙ্গণে। স্বপন এখনও লড়াই করছেন। যাবতীয় প্রতিকুলতার বিরুদ্ধে নিরন্তর সংগ্রাম করে করে স্বাধীনতার রজত জয়ন্তীতে পৌঁছেও স্বপনের উচ্চারণ–‘আমার মুক্তিযুদ্ধ একাত্তরে শেষ হয়ে যায়নি। আমার সে যুদ্ধ এখনও চলছে, দেশের টেকনোলজিকে উন্নত করার যুদ্ধ’।
হ্যাঁ, একজন সত্যিকার দেশপ্রেমিক যুদ্ধক্ষেত্রের বিজয়কেই সাফল্যের সর্বোচ্চ সূচক মনে করেন না। যুদ্ধের পরেও যুদ্ধ থাকে। সমাজ গড়ার যুদ্ধ, দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাবার যুদ্ধ। যার যার অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করার কাজে শফিকুল ইসলাম স্বপনের মতো সবাই যদি নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন তাহলে এই দেশটার চেহারা আজ অন্যরকম হতো।
আমাদের চারপাশে আজ স্বার্থপর আর সুবিধাবাদী মানুষের ভিড়। সুবিধাবাদী মানুষের ভিড়ে চিড়েচ্যাপ্টা হয়ে যাবার উপক্রম স্বপনের মতো নিষ্ঠাবান দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধাদের। কিন্তু তারপরেও বিত্তের চাইতে চিত্তের উত্থান এবং একাত্তরের চেতনার বিকাশকেই আরাধ্য বলে মনে করেন স্বপনের মতো অবিচল মানুষেরা। অভীষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছানোর স্বপ্নে তাঁরা অবিরাম অতিক্রম করে যান প্রতিকুলতার দীর্ঘ দিবস আর দীর্ঘ রজনী।
অনাদর অবহেলা আর অপ্রাপ্তির বেদনায় স্বপন কি ভারাক্রান্ত? প্রতারক সময় এবং প্রতারক মানুষের উপর্যুপরি প্রতারণায় স্বপন কি নিঃস্ব? না। স্বপনের সরলতার সুযোগে কেউ কেউ তাঁকে অবহেলা করলেও, প্রতারণা করলেও স্বপন লুন্ঠিত নন, কুন্ঠিত নন। মেধাবী স্বপন প্রমাণ করেছেন মেধার কোনো বিকল্প নেই। আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন মানুষ বিত্ত আর বৈভবের হিশেব-নিকেষে কোনোদিন মশগুল থাকেন না। বিত্তের পেছনে ছুটতে ছুটতে চিত্তকে দরিদ্র করার পক্ষপাতি নন শফিকুল ইসলাম স্বপন।
শফিকুল ইসলাম স্বপনকে আমি যখন পাঠ করি তখনামি কেবলই দেখতে পাই মুঠো মুঠো রাশি রাশি দীপ্তি। সাফল্যের একঝাঁক সোনালি পালক অদৃশ্য মুকুট হয়ে শোভা পাচ্ছে স্বপনের মাথায়।এই মুকুট স্বপনকেই মানায়। অনেকগুলো প্রথম কাজ করার দুর্লভ অভিজ্ঞতা তাঁর প্রজন্মের আর কজনার আছে? নিজের কর্মক্ষেত্রে স্বপন উজ্জ্বল। মেধার দীপ্তিতে বয়েসকে পেছনে ফেলে এগিয়ে আসা দীর্ঘদেহী স্বপনের সাফল্যের কাহিনিও দীর্ঘ।
স্বপনের পেশাটাই এমন-তিনি লেখেন না, দেখেন।দেখেন এবং দেখান। ‘এক মুক্তিযোদ্ধার জীবন যাপন’ একজন লেখকের লেখা নয়। একজন শিল্পীর অপকট স্বীকারোক্তি যে শিল্পী বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসেন, যে শিল্পী বাংলাদেশকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম দেশ হিশেবে দেখার স্বপ্নে বিভোর। পাঠকের বড় প্রাপ্তি এখানেই। স্বপনের লেখায় ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখের অনুষঙ্গগুলোয় আমাদের সমাজচিত্রেরই প্রতিফলন ঘটেছে। ‘একজন মুক্তিযোদ্ধার জীবন যাপন’-এ একজন পাঠকের বাড়তি প্রাপ্তি একগুচ্ছ দুর্লভ আলোকচিত্র। একাত্তরে শফিকুল ইসলাম স্বপন সশস্ত্র ছেলেন দুরকম অস্ত্রে। রাইফেল আর ক্যামেরার সহাবস্থান খুব বিরল। স্বপনের এক হাতে রাইফেল আর এক হাতে ক্যামেরা ছিল বলেই মুক্তিযুদ্ধের রজত জয়ন্তীতে আমরা উপহার পাচ্ছি ঐতিহাসিক আলোকচিত্রের সম্ভার।
স্বপন তাঁর চিন্তায় চেতনায় মননে ও মেধায় লালন করেন আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশকে। আর তাই একজন শফিকুল ইসলাম স্বপন পরাজিত হলে আমরা পরাজিত হবো সম্মিলিতভাবে। একজন স্বপন জয়ী হলে আমাদের সকলের জয়। জয়তু স্বপন। লুৎফর রহমান রিটন
৬/১২/৯৬]”
ভূমিকাটি পাঠ করে আমি স্মৃতিকাতর হই। আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরের বিজয় উৎসবের টুকরো টুকরো দৃশ্যসমূহ। চারুকলা ইনস্টিটিউটে নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু ভাইয়ের নেতৃত্বে জমজমাট অনুষ্ঠান হচ্ছে। সেখানে ইনস্টলেশন আর্ট বা স্থাপনাশিল্পের আঙ্গিকে মুক্তিযুদ্ধের দুই নম্বর সেক্টরের কিছু ঐতিহাসিক যুদ্ধকে প্রদর্শন করা হচ্ছে। কখনো বাচ্চু ভাই নিজে কখনো তাঁর সহযোদ্ধারা হাতে একটি লম্বা লাঠির মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকা যেমন সাভার, শিমুলিয়া ক্যাম্প, সাভার ডেইরি ফার্মের পেছনে জিরাবো নদী, এবং ধামরাইর ভায়াডুবি ব্রিজ অপারেশনসহ মানিকগঞ্জের নানা অঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প-য়্যামবুশ এবং ভারী অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত পাকিস্তানি সৈন্যদের বাংকার, মুক্তিযোদ্ধাদের বুদ্ধিদীপ্ত আক্রমণে ঘায়েল পাকিসৈন্য এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অপরূপ বিজয় গাঁথা এবং অকাতরে তাঁদের জীবন উৎসর্গের বর্ণনা দিচ্ছিলেন।

আমি বাচ্চু ভাইর কাছে পাকিস্তানি সৈন্যের ভারী মেশিনগানের গুলিতে ঝাঁঝরা হওয়া দুঃসাহসী কিশোর মুক্তিযোদ্ধা টিটোর শহিদ হবার জায়গাটি দেখতে চাইলাম। ‘বাংলাদেশের অগ্নিকিশোর’ নামে আমার একটি বই বেরিয়েছিলো ১৯৯১ সালে। সেখানে ‘ঘুমাও ঘুমাও ভাইটি আমার’ শিরোনামে শহিদ টিটোর গল্পটিও আমি লিখেছিলাম। টিটোর কাহিনি আমি পেয়েছিলাম বাচ্চু ভাইয়েরই একটি রচনায়। বাচ্চু ভাই দুর্দান্ত ভঙ্গিতে সাভার অঞ্চলের জিরাবো নদীর ধারে অবস্থিত তাঁদের ক্যাম্প ও ক্যাম্পসংলগ্ন গ্রামের কাঁচা সড়ক ধরে ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল অঞ্চল থেকে আসা পাকিস্তানি সৈন্যদের বিশাল একটি দলের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের মরণপণ লড়াই-এর কাহিনি বর্ণনা করছিলেন। সাভার ডেইরি ফার্ম, পার্শ্ববর্তী গ্রাম, উঁচু পাকা সড়ক, কিছুটা নিচু কাঁচা সড়ক, নদী, বিস্তীর্ণ শস্যক্ষেত্র, মাঠ, উঁচু নিচু টিলা, নানান আকারের বৃক্ষ, কিছুটা উঁচু জায়গায় স্থাপিত টিটোর ঘাতক শত্রুসেনার সেই ভারী মেশিনগান ও বাংকার, সবকিছুই নিখুঁত মিনিয়েচার স্থাপনাকর্মের মাধ্যমে দর্শকদের জন্যে নির্মাণ করা হয়েছিলো। বাচ্চু ভাইয়ের আবেগঘন উচ্চারণে টিটোর জন্যে অশ্রু ও কান্নার প্রতিধ্বনি ছিলো।

টিটোর জন্যে নিরবে অশ্রু মুছে আমি যখন সরে যাচ্ছি তখনই দেখা হলো স্বপন ভাইয়ের সঙ্গে। শফিকুল ইসলাম স্বপন। ত্রস্ত ও ব্যস্ত ভঙ্গিতে চারুকলা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছিলো তাঁকে। আমাকে দেখে থমকে দাঁড়ালেন। রাত জাগার ক্লান্তিতে বিধ্বস্ত চেহারায় হাসি ফুটে উঠলো তাঁর-‘আমার বইটা বেরিয়েছে রিটন ভাই! আসেন আসেন আপনাকে একটা কপি উপহার দেই।’ চারুকলার ভেতরে পার্ক করা একটা মাঝারি আকারের ভ্যানের কাছে আমাকে নিয়ে গেলেন স্বপন ভাই। তারপর ভ্যানের দরোজা খুলে একটা ব্যাগ থেকে এলবাম সাইজের একটা বই বের করলেন। আমার দিকে একটা বই এগিয়ে দিতেই আমি বললাম, একটা অটোগ্রাফও দিয়ে দ্যান স্বপন ভাই।
তাঁর কাছে কলম ছিলো না। আমি আমার বলপেনটা এগিয়ে দিলাম। আমার কাছ থেকে কলম নিয়ে, ব্যাকসিটে বসে সেই বইতে কিছু একটা লিখতে গিয়ে, লক্ষ্য করলাম স্বপন ভাই কেমন থরথর করে কাঁপছেন! লেখা শেষে আমার হাতে বইটা তুলে দিলেন স্বপন ভাই। তাঁর চোখে অশ্রু টলোমল করছে! প্রচ্ছদ খুলে আমি অটোগ্রাফ দেয়া পাতাটায় চোখ রাখি। ওখানে খানিকটা এলোমেলো হস্তাক্ষরে উৎকীর্ণ হয়েছে-‘কি লিখবো রিটন ভাই? স্বপন ১৬/১২/৯৬’।

আমি মুগ্ধ নয়নে অনন্য এক আবেগপ্লাবিত মুক্তিযোদ্ধাকে দেখি। একাত্তরে যাঁর এক হাতে রাইফেল আর অন্য হাতে ক্যামেরা ছিলো!

প্রিয় স্বপন ভাই, বাংলাদেশ থেকে বারো হাজার তিনশো কিলোমিটার দূরের দেশ কানাডার রাজধানী অটোয়ায় বসে আজ ক’দিন ধরে কেনো জানি না আপনাকে খুব মনে পড়ছে। সম্প্রতি লাকি আখন্দের মৃত্যুর পর ফেসবুকে কোনো একটি পোস্টে মন্তব্যের ঘরে আপনি লিখেছিলেন ‘লাকি ভাই আমিও আসছি। টিকিট কাটা আছে।’ বুকের ভেতরটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠেছিলো। আপনারা মুক্তিযোদ্ধারা এরকম একে একে চলে গেলে জীবন বাজি রেখে স্বাধীন করা এই সোনার বাংলাকে দেখে রাখবে কে!! আপনার জন্যে শুভ কামনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *