স্বাধিনতা আর স্বাধিকার আন্দোলনে এ বাঙালির শ্লোগান(সংকলিত)

শ্লোগান দিতে গিয়ে আমি চিনতে শিখি নতুন মানুষজন । শ্লোগান দিতে গিয়ে আমি বুঝতে শিখি কে ভাই কে দুশমন..শ্লোগান…শ্লোগান…শ্লোগান… । নানা সময়ের বিশেষ করে ১৯৬৯ থেকে ১৯৭১ সালের স্লোগানগুলো। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে,আন্দোলনের সাথে কিভাবে স্লোগানেরও বিবর্তন ঘটছে।
একসময়ের শুধু অধিকার আদায়ের নিরীহ স্লোগানগুলো কিভাবে তীব্র,জঙ্গী,জ্বালাময়ী হয়ে উঠছে পশ্চিম পাকিস্তানিদের অত্যাচারে তিতিবিরক্ত,ক্ষুদ্ধ বাঙ্গালির কণ্ঠে। কিভাবে স্বায়ত্বশাসনের দাবী বদলে গেছে স্বাধীনতার দাবীতে,কিভাবে জন্ম হয়েছে বাংলাদেশ শব্দটির। আমাদের সবচেয়ে গৌরবময় আগুনঝরা দিনের জীবন্ত দলিল এই গায়ে কাঁটা দেয়া স্লোগানগুলো। একবার পড়ে দেখুনই না,আপনাদের গায়েও কাঁটা দিয়ে ওঠে কিনা।(ফারহানের ব্লগ থেকে)
সেই শ্লোগান গুলোকে একসাথে করার প্রয়াস । ফারহান এবং পিয়ালের সহযোগিতা এবং ব্লগারদের উৎসাহ সেই প্রয়াসে নতুনমাত্রা দিয়েছে । আপনাদের আরো শ্লোগান দিয়ে সংকলন কে ঋদ্ধ করুন।

১.বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো বাংলাদেশ স্বাধীন করো ।
২. তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা-মেঘনা-যুমনা
৩.জাগো জাগো বাঙালি জাগো
৪.দুনিয়ার মজদুর এক হও
৫.ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ো বাংলাদেশ মুক্ত করো
৬.জয় বাংলা
৭.ছাত্র-শিক্ষক-জনতা গড়ে তোল একতা
৮. জেগেছে রে জেগেছে বাঙালি জেগেছে
৯.শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দিবো না
১০. রক্তের বন্যায় মুছে যাবে অন্যায়
১১. পাকিস্তানের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান
১৯৫৩: “শহীদ স্মৃতি অমর হউক।”
১৯৫৬: “মৃত্যুমুখী মানুষকে বাঁচাও”
১৯৬২: “শিক্ষা সংকোচন নীতি পরিহার কর”
“পূর্ব বাংলাকে শোষণ করা চলবে না”
“২০ টাকা মণ দরে চাউল চাই”
“স্বায়ত্বশাসন দিতে হবে”
“রাজবন্দীদের মুক্তি চাই, নিরাপত্তা আইন বাতিল কর।
জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট জিন্দাবাদ”
“ভাসানীর দাবী দেশের দাবী
ভাসানীর দাবী মানতে হবে।”
“গণধিকৃত এবডো আইন বাতিল কর
রাজনৈতিক দল আইন বাতিল কর
নিরাপত্তা আইন বাতিল কর।”
“এক কেন্দ্রিক নয় ফেডারেল পদ্ধতির
গণতন্ত্র মানতে হবে”
১৯৬৪:
“মোদের গরব মোদের আশা,আ’মরি বাংলা ভাষা।”
“আ-এ আদা র-এ রসুন
এ নাম জপে বুলবুল।”
১৯৬৬: “সোনার দেশ আজ শ্মশান কেন!!”
“গণসংগ্রামেই বাজবে গণমুক্তি ”
“অর্থপাচার বন্ধ কর ”
“৬ দফাই গণমুক্তির মহাসনদ”
“৬ দফা আমাদের বাঁচার দাবী”
“৬ দফা ভিত্তিক স্বায়ত্বশাসন দিতে হবে”
“পূর্ব বাংলার পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্বশাসন দিতে হবে”
“সহজলভ্য শিক্ষা চাই”
১৯৬৭: “ছাত্রসহ সকল রাজবন্দীদের মুক্তি চাই’
“সকল রাজনৈতিক মামলা দণ্ডাদেশ বাতিল কর”
“১১ দফার বাস্তবায়ন চাই ”
“নারী শিক্ষার প্রসার চাই”
“সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ চলবে না”
“কমিউনিস্ট পার্টির উপর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার কর” ১৯৬৮: “গণতন্ত্র কায়েম কর।”
১৯৬৯:
জেলের তালা ভাংবো শেখ মুজিবকে আনবো
তোমার নেতা, আমার নেতা
শেখ মুজিব, শেখ মুজিব ।।
“১১ দফার বাস্তবায়ন চাই।”
“মিছিলে যেদিন আমার ভায়ের বুকে বিঁধেছিল গুলি”
“ছাত্রসহ সকল রাজবন্দীদের মুক্তি চাই।”
“সকল রাজনৈতিক মামলা দণ্ডাদেশ বাতিল কর।”
“শহীদ স্মৃতি অমর হউক।”
“১১ দফার বাস্তবায়ন চাই।”
“শহীদের ডাক বাঙ্গালী জাগো।”
“জানি রক্তের পেছনে ডাকবে সুখের বাণ”
“কার ছেলে কার ভাই? তোমার আমার সকলের।”
“আমরা ছালামের ভাই আমরা বরকতের ভাই”
“শহীদ মতিউরের রক্ত বৃথা যেতে দেব না।”
“১১ দফা সংগ্রাম চলবে।”
“ছাত্র জনতার মুক্তির সংগ্রাম চলবেই।”
“শহীদ মতিউরের স্মৃতি অমর হউক।”
“১১ দফা মানতেই হবে।”
“শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না”
“রক্ত দিলেন গুরু সংগ্রাম হইল শুরু”
“আইয়ুব শাহির গদিতে
আগুন জ্বালো একসাথে।”
“আইয়ুব মোনেম দুই ভাই এক দড়িতে ফাঁসি চাই।”
“জেলের তালা ভাঙবো শেখ মুজিবকে আনবো।”
“৬ দফা ভিত্তিক স্বায়ত্বশাসন চাই।”
“জাগো জাগো বাঙ্গালী জাগো।”
“তোমার দেশ আমার দেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ”
“বাইশ বছরে ওদের শোষণে মরেছি
এসো কৃষক,শ্রমিক,ছাত্র,জনতা
দাঁড়াই এক সাথে।”
১৯৭০:
“বাঁচার দাবী ও নির্বাচনের দাবী বানচালের চক্রান্ত/
রুখিয়া দাঁড়ান।”
“চক্রান্ত প্রতিহত কর শান্তি কায়েম কর।”
“গণরায় বানচাল করা চলবে না।”
“গণহত্যা বন্ধ কর।”
“গণঅধিকার কায়েম কর বাংলাদেশ স্বাধীন কর।”
“কাঁদো দেশবাসী কাঁদো।”
“শ্রমিক কৃষক ছাত্র জনতা এক হও।”

১৯৭১:
“জয় বাংলা”
“অধীনতা আর নয় চাই স্বাধীনতা।”
“জয় বাংলা”
” স্বা ধী ন তা ”
“তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা।”
“পিণ্ডি না ঢাকা? ঢাকা ঢাকা।”
“ভুট্টোর পেটে লাথি মার বাংলাদেশ স্বাধীন কর।”
“এক দফা এক দাবী বাংলার স্বাধীনতা।”
“বীর বাঙালী অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন কর।”
“ইয়াহিয়ার দুই গালে জুতা মারো তালে তালে।”
“অনেক রক্ত দিয়েছি এবার শোধ নেব।”
“বাংলার সার্বিক মুক্তির জন্য জনগণ রক্ত দিতে প্রস্তুত”
“ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ো, বাংলাকে মুক্ত করো।”
“ভুট্টো দ্য কিলার অভ ডেমোক্রেসি।”
“ভুট্টো দ্য পলিটিক্যাল বাস্টার্ড।”
“নো পাকিস্তান,উই ওয়ান্ট বাংলাদেশ।”
“মা-বোনেরা অস্ত্র ধর বাংলাদেশ স্বাধীন কর।”
“আমাদের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

“স্বাধীন বাংলা কায়েম কর সংগ্রামী জনতা এক হও।”
“স্টপ অ্যাট্রোসিটি ইন বাংলাদেশ।”
“স্টপ কিলিং ইন বাংলাদেশ।”
“মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করুন,
এরা আমাদেরই সন্তান।”
“বাংলাদেশের কৃষক,শ্রমিক,ছাত্র,যুবক
সকলেই আজ মুক্তিযোদ্ধা।”
“এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে।
“বাংলার হিন্দু,বাংলার খৃস্টান,
বাংলার বৌদ্ধ,বাংলার মুসলমান,
আমরা সবাই বাঙ্গালী।”

আর আজ এই অবস্থায় আমাদের সকলের শ্লোগান হওয়া উচিত
“ফিরিয়ে আনো বাংলাদেশ ।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *