৫ ডিসেম্বর, রোববার ১৯৭১

সেনাপ্রধানের বরাত দিয়ে এক ঘোষণায় ৫৫ বছরের নিচে এবং মেজর পর্যন্ত পদাধিকারী সকল অবসর প্রাপ্ত সৈনিককে নিকটস্থ রিক্রুটিং অফিসে হাজির হতে নির্দেশ দেয়া হয়। ভারতীয় হামলার দোহাই দিয়ে গভর্নর মালিক প্রতিরক্ষ তহবিল গঠন করে সেখান মুক্ত হস্তে দান করার আহবান জানান জনগণকে।

পাকিস্তানে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম ও নেজামে ইসলামি পার্টির প্রধান মওলানা আতাহার আলী এদিন এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়াকে কঠোরহাতে শত্রু দমন এবং সেইসঙ্গে ইসলামকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের আহবান জানান। বিবৃতিতে তিনি পূর্ব পাকিস্তান থেকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।

চাপাইনবাবগঞ্জে আজ ভারতীয় হামলার প্রতিবাদে ও পাকিস্তান রক্ষায় সংকল্প ঘোষণা করে মিছিল বের করে স্বাধীনতাবিরোধীরা। মিছিল শেষে লতিফ হোসেনের সভাপতিত্বে এক প্রতিবাদ সভা করে তারা। খুলনায় থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের শান্তি কমিটির নেতারা সমবেত হয়ে ভারতীয় হামলার প্রতিবাদ জানায়। একইরকম প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল বের হয় সিলেটেও। সিরাজগঞ্জের প্রতিবাদসভায় সভাপতিত্ব করেন মওলানা আসাদৌল্লা। শান্তিকমিটি চেয়ারম্যান এমএ সালামের নেতৃত্বে ভারতীয় আক্রমণের প্রতিবাদ জানায় চাদপুর শান্তিকমিটির সদস্যরা। টাঙ্গাইলে শান্তিকমিটি চেয়ারম্যান মৌলভী হাকিম হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে জেলা শান্তি কমিটি জেহাদের ডাক দেয়। ভারতীয় হামলার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায় গাইবান্ধা শান্তি কমিটি আহবায়ক ম ওলানা আবদুল গফুর ও পরিষদ সদস্য সাইদুর রহমান।

তথ্যসূত্র : দৈনিক পাকিস্তান, আজাদ ৬, ৭ ও ৮ ডিসেম্বর ১৯৭১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *